Advertisement
E-Paper

উষ্ণ প্রস্রবণ থাকলেও পিছিয়ে পর্যটনে

সম্ভাবনা রয়েছে। নেই সরকারি সদিচ্ছা। ফলে অবহেলিত হয়ে পড়ে রয়েছে উষ্ণ প্রস্রবণের উৎস। অথচ ওই উৎসটিকে ঘিরেই এলাকায় একটি পর্যটন ক্ষেত্র গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু, সরকারের উদাসীনতায় তা পড়ে পড়ে মার খাচ্ছে বলে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানাগড়-মোরগ্রাম জাতীয় সড়ক থেকে মল্লারপুর লাগোয়া মেটেলডাঙা গ্রাম যাওয়ার পথে বছর ন’য়েক আগে উষ্ণ জলের ওই উৎসের সন্ধান মেলে।

অর্ঘ্য ঘোষ

শেষ আপডেট: ২০ অগস্ট ২০১৫ ০০:৩২
এই সেই গরম জলের ধারা। মল্লারপুরের মেটেলডাঙায় গ্রামে তোলা নিজস্ব চিত্র।

এই সেই গরম জলের ধারা। মল্লারপুরের মেটেলডাঙায় গ্রামে তোলা নিজস্ব চিত্র।

সম্ভাবনা রয়েছে। নেই সরকারি সদিচ্ছা।
ফলে অবহেলিত হয়ে পড়ে রয়েছে উষ্ণ প্রস্রবণের উৎস। অথচ ওই উৎসটিকে ঘিরেই এলাকায় একটি পর্যটন ক্ষেত্র গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু, সরকারের উদাসীনতায় তা পড়ে পড়ে মার খাচ্ছে বলে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানাগড়-মোরগ্রাম জাতীয় সড়ক থেকে মল্লারপুর লাগোয়া মেটেলডাঙা গ্রাম যাওয়ার পথে বছর ন’য়েক আগে উষ্ণ জলের ওই উৎসের সন্ধান মেলে। ২০০৯ সালে ‘সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটার বোর্ড’ ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় পাইপ বসিয়ে ভূগর্ভস্থ জলের অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধান শেষে তারা মেটেলডাঙা গ্রামের কাছে একটি পাইপ পোঁতা অবস্থায় রেখে চলে যায়। পরবর্তী কালে গ্রামবাসীরা দেখেন, ওই পাইপ থেকে অবিরাম ধারায় গরম জল উপচে পড়ছে। খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। দূর-দূরান্তের মানুষজনও গরমজল হাতে নিয়ে পরখ করার জন্য হাজির হন। এমনকী, শীতের মরসুমে ‘পিকনিক পার্টি’রও ভিড় জমতে শুরু করেন। ওই সমাগম দেখে ২০১১ সালে জায়গাটি বাঁধিয়ে মহিলা-পুরুষদের চৌবাচ্চা-সহ আলাদা স্নানের ব্যবস্থা করে দেয় মল্লারপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। পরবর্তী কালে মহিলা-পুরুষদের জন্য উন্নতমানের আলাদা আলাদা শৌচাগার এবং স্নানাগার তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মল্লারপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতও। বসানো হয় সোলার লাইটও। তার পরেই থমকে যায় যাবতীয় উদ্যোগ। রক্ষণাক্ষণের অভাবে বর্তমানে ওই শৌচাগার এবং স্নানাগার ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এলাকাটি অসামাজিক কাজের জায়গা হয়ে উঠেছে বলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।

অথচ সরকার একটু উদ্যোগী হলেই বক্রেশ্বরের মতো এখানেও একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হতে পারত বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রসঙ্গত, একাধিক উষ্ণ জলের কুণ্ডু, উষ্ণ প্রস্রবণ আর বক্রেশ্বর শিবকে ঘিরেই মূলত বক্রেশ্বরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠেছে। মল্লারপুর লাগোয়া ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম লাগোয়া ওই এলাকাটিরও একাধিক পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় মানুষ জনের। ইতিমধ্যেই স্থানীয় খরাসিনপুরে আবিষ্কৃত হয়েছে আরও একটি উষ্ণ জলের ধারা। অনুসন্ধান চালালে বক্রেশ্বরের মতোই এখানেও আরও গরম জলের কুণ্ডু কিংবা প্রস্রবণের ইঙ্গিত দিচ্ছে খরাসিনপুরের ওই গরম জলের ধারাটি। রয়েছে মল্লেশ্বর শিবও। সর্বোপরি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখান থেকেই পর্যটকেরা তারাপীঠ, নলহাটি, বীরচন্দ্রপুর, ডাবুক, সাঁইথিয়া, গণপুরের জঙ্গল, এমনকী ঝাড়খণ্ডের মন্দিরময় গ্রাম মুলুটিও সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। স্থানীয় ফতেপুরের বাদল শর্মা, মেটেলডাঙার কালিদাস টুডু, গণেশ মুর্মরা বলছেন, ‘‘সরকারি কৃপাদৃষ্টির অভাবে পড়ে পড়ে মার খাচ্ছে মেটেলডাঙার পর্যটন সম্ভাবনা। অথচ পর্যটন কেন্দ্র হলে এলাকার আর্থ সামাজিক চালচিত্রই বদলে যেত।’’

মেটেলডাঙাকে কেন্দ্র করে পর্যটন সম্ভাবনার কথা মানছেন সংশ্লিষ্ট ময়ূরেশ্বর ১ বিডিও বিশ্বনাথ চক্রবর্তী এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ধীরেন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁরা দু’জনেই বলেন, ‘‘ভ্যারিয়েবল এনার্জি সাইক্লোজোন ডিপার্টমেন্ট মেটেলডাঙা এবং খরাসিনপুরের গরম জলের নমুনা পরীক্ষা করে জানিয়েছিল বক্রেশ্বরের তুলনায় তাতে হিলিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি রয়েছে। আমরা তাদের এখানে বক্রেশ্বরের মতো গবেষণাগার করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। জেলাস্তরে পাঠানো পর্যটন প্রস্তাবও গৃহীত হয়নি।’’

জেলার সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী অবশ্য জানাচ্ছেন, ওই গ্রামের উষ্ণ জলের কথা তাঁরা জানেন। পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে কথা বলে কীভাবে সেখানে পর্যটন গড়া যায় তা দেখা হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy