পুজোর আগেই নতুন চেহারায় খুলে গেল জয়চণ্ডী পাহাড়ের দরজা। শনিবার জয়চণ্ডী পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রের উদ্বোধন হয়ে গেল।
তবে এখানকার কটেজ ও ডর্মিটরিতে থাকার জন্য পর্যটকদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু দিন। নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে স্পট বুকিং এর মাধ্যমে এখানে থাকার সুযোগ মিলবে বলে জানানো হয়েছে। আর ওই মাসের মাঝামাঝি থেকে অনলাইনে বুকিংও শুরু হয়ে যাবে।
পর্যটন কেন্দ্রর উদ্বোধন করেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। ছিলেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক তন্ময় চক্রবর্তী, রঘুনাথপুরের বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র বাউরি প্রমুখ। জেলাশাসক বলেন, ‘‘জয়চণ্ডী পাহাড়ে চালু হবে। শীঘ্রই গড়পঞ্চকোট ও বড়ন্তিতেও পর্যটন কেন্দ্র চালু করে দেওয়া হবে।’’ জয়চণ্ডী পর্যটন কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে রঘুনাথপুরের একটি বেসরকারি সংস্থা।
রঘুনাথপুর শহরের উপকন্ঠে জয়চণ্ডী পাহাড় ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবি দীর্ঘদিনের। বাম আমলে প্রাক্তন সাংসদ বাসুদেব আচারিয়ার নেতৃত্ব শুরু হয়েছিল জয়চণ্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব। রাজ্যে পালা বদলের পরে এই উৎসব কমিটি এখন কার্যত শাসকদলের দখলে। ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমার কিছু অংশের শ্যুটিং এই পাহাড়েই করেছিলেন পরিচালক সত্যজিৎ রায়। সেই সময় থেকেই পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে পরিচয় ঘটে রাজ্যবাসীর। মূলত ওই সিনেমার হাত ধরেই জয়চণ্ডীর প্রচার। তাই পর্যটন উৎসবের মূল স্লোগানই ছিল— ‘আসুন হীরক রাজার দেশে’। একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অন্যদিকে পাহাড়ে ট্রেকিং করতে আসা শিক্ষার্থীদের ভিড়—দুইয়ের কারণে এই পাহাড়কে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবি ক্রমশই জোরাল হয়ে ওঠে।
বাম আমলে পর্যটন কেন্দ্র গড়ার প্রাথমিক প্রয়াস শুরু হলেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় রাজ্যে পালাবদলের পরেই। ২০১৩ সালে রাজ্য পর্যটন দফতর জয়চণ্ডীতে পর্যটন কেন্দ্র গড়তে ৭৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। ওই বছরের অগস্ট মাস থেকে কাজ শুরু হয়। দু’বছরের মধ্যেই পাঁচটি কটেজ ও একটি ডর্মিটারির নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যায়। তবে এখনও কটেজ ও ডর্মিটারির চারপাশে সীমানা প্রাচীর তৈরির কাজ শেষ হয়নি। প্রশাসন সূত্রের খবর, ১০ বছরের লিজে জয়চণ্ডীর পর্যটন কেন্দ্রটির দেখভালের দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থাকে দিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ দর দিয়ে পর্যটন কেন্দ্রের দায়িত্ব পাওয়া সংস্থার মতে, নভেম্বর মাসের প্রথম থেকেই এখানে স্পট বুকিং চালু করে দেওয়া হবে। পর্যটনের মরসুমে ভালই পর্যটক আসবে বলে তাঁরা আশাবাদী। জেলাশাসক বলেন, ‘‘লিজের বিনিময়ে প্রাপ্ত টাকা থেকে রঘুনাথপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতি পর্যটন কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ করবে ও এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করবে।’’
সংস্থাটির অন্যতম কর্মকর্তা মলয় সরখেল বলেন, ‘‘সীমানা প্রাচীরের কাজ শেষ হলেই কটেজ ও ডর্মিটারির বুকিং শুরু করে দেওয়া হবে।’’ তিনি জানান, পাঁচটি কটেজের সবগুলিই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও দুই শয্যার। দশ শয্যা করে দু’টি ডর্মিটরিও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। তাঁর আশ্বাস, পর্যটকেরা এখানে অত্যাধুনিক মানের সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাবেন।