প্লে-স্কুলের ধাঁচে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিল রাজ্য সরকার। আজ, শুক্রবার রাজ্যের মোট এক হাজারটি কেন্দ্রকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘শিশু আলয়’-এ রূপান্তরিত করা হয়েছে। এ দিন ফুলডাঙা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে জেলার ৫০টি কেন্দ্রের শিশু আলয়ে রূপান্তর শুরু করল বীরভূম জেলা প্রশাসন। শান্তিনিকেতন লাগোয়া ফুলডাঙায় এ দিনের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী জানান, শিশু আলয়ে শিশুদের শিক্ষার জন্য উন্নততর পরিকাঠামো থাকবে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজ্যের শহরাঞ্চলের পাশাপাশি শহরতলি এবং গ্রামেও প্রচুর বেসরকারি প্লে স্কুল গড়ে উঠছে। শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে প্লে স্কুলগুলির ভূমিকা নিয়ে শিক্ষাবিদদের একাংশ আশাবাদী। বিকাশবাবু জানান, পিছিয়ে পড়া শ্রেণির পরিবার থেকে আসা শিশুদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনতে শিশু আলয় চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে জেলার সব ক’টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকেই শিশু আলয়ে রূপান্তরিত করা হবে।
এ দিন ফুলডাঙার শিশু আলয় নতুন করে সাজানো হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, তিন কামরার একটি ঘর। ঢোকার মুখে দেওয়ালে লেখা, ‘জুতো খুলে লাইন করে সাজিয়ে রাখি’। পাশে লেখা, ‘নিজের ব্যাগ, বোতল ঠিক জায়গায় গুছিয়ে রাখি’। উলটো দিকের দেওয়ালে জাতীয় পতাকা, পশু, পাখি, ফল ও ফুলের ছবি। ক্লাসঘরের দেওয়ালে ব্ল্যাক বোর্ড। শিশুদের বসার জন্য ছোট চেয়ার। রয়েছে বেশ কিছু খেলনাও। দেওয়ালে রয়েছে ঘড়ি এবং ক্যালেন্ডার। শিশু আলয়ের কর্মী মধুমিতা হাজরা বসে রয়েছেন শিশুদের মাঝে। সহায়িকা কবিতা সাউ শিশুদের গান শেখানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের খেলনার আবদার মেটাচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফুলডাঙা ও পাশের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিশুদের নিয়ে নাচ গানের অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ফুলডাঙা কেন্দ্রের কর্মীদের সহযোগিতা করেন পাশের ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির সহায়িকা মাধবী পাণ্ডে এবং সুপারভাইজার জয়ন্তী রায়। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন জেলাশাসক পি মোহন গাঁধী, মহকুমাশাসক শম্পা হাজরা, বিডিও শমিক পাণিগ্রাহী, প্রকল্পের জেলা আধিকারিক হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়, বোলপুরের আধিকারিক মুক্তেশ্বর ঠাকুর প্রমুখ। জেলাশাসক জানান, এ দিন ৫০টি এবং পরে জেলার আরও ৯০টি কেন্দ্রকে প্রাথমিক ভাবে শিশু আলয় করা হচ্ছে।