Advertisement
E-Paper

চার সিপিএম সদস্যের সমর্থনে নন্দীগ্রামে অনাস্থা প্রস্তাব তৃণমূলের

দলের প্রধানের বিরুদ্ধে এ বার ঘোর রাজনৈতিক শত্রু সিপিএমের সঙ্গে হাত মেলাল তৃণমূল। শাসক দলের গোষ্ঠী-দ্বন্দ্বের জেরে এমন নজিরও দেখা গেল মুরারইয়ের নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতে। বৃহস্পতিবার মুরারই ২ ব্লকের বিডিও-র কাছে ওই পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন দলেরই জয়ী পাঁচ সদস্য। ওই অনাস্থা প্রস্তাবেই সই করেছেন পঞ্চায়েতের চার বাম সদস্যও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ অগস্ট ২০১৪ ০০:২৩

দলের প্রধানের বিরুদ্ধে এ বার ঘোর রাজনৈতিক শত্রু সিপিএমের সঙ্গে হাত মেলাল তৃণমূল। শাসক দলের গোষ্ঠী-দ্বন্দ্বের জেরে এমন নজিরও দেখা গেল মুরারইয়ের নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতে। বৃহস্পতিবার মুরারই ২ ব্লকের বিডিও-র কাছে ওই পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন দলেরই জয়ী পাঁচ সদস্য। ওই অনাস্থা প্রস্তাবেই সই করেছেন পঞ্চায়েতের চার বাম সদস্যও।

পঞ্চায়েত ও দল সূত্রের খবর, ১৭ আসনের নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটের ফল অনুযায়ী দলগত অবস্থান ছিল, কংগ্রেস ৭, তৃণমূল ৫, সিপিএম ৫। বোর্ড গঠনের সময় তৃণমূল নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যদের নিজেদের দিকে টানতে সফল হয়। দলত্যাগ বিরোধী আইনে ধরা না পড়ার জন্য ওই সদস্যেরা বিশেষ চালও দেন বলে খবর। ওই সাত সদস্য প্রথমে নির্দল হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হন। পরে তাঁরা তৃণমূলে যোগ দেন। তৃণমূল প্রধান করে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে আসা সালমা সুলতানাকে। উপপ্রধান হন তৃণমূলের পান্না সেন। কিন্তু এক বছরেই সেই দাম্পত্যে ফাটল ধরেছে। কারণ, জয়ী সিপিএম সদস্যদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উপপ্রধানের নেতৃত্বে দলেরই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন ওই পাঁচ তৃণমূল সদস্য। পান্নাবাবুর দাবি, “বর্তমান প্রধান পঞ্চায়েতে উন্নয়ণমূলক কাজ করতে পারছেন না। ওঁকে প্রধান হিসেবে সমর্থন করা ভুল হয়েছিল। প্রধানের অক্ষমতার জন্যই আমরা ওঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছি।”

এ দিকে, অনাস্থায় স্বাক্ষরকারী সিপিএম সদস্যদের পক্ষে মহম্মদ হোসেন জানান, এলাকার মানুষই আর সালমা সুলতানাকে প্রধান হিসেবে চান না। তাই তৃণমূলের ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁরা প্রধানকে সরাতে উদ্যোগী হয়েছেন। এই পদক্ষেপের কথা অবশ্য তাঁরা দলীয় নেতৃত্বকে জানাননি। তাঁর কথায়, “প্রয়োজন ছিল বলেও মনে করিনি।” একই সঙ্গে এ দিনই তাঁদের চার জনের দল ছাড়ার প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন মহম্মদ হোসেন। তাঁর যুক্তি, “এলাকায় আর সিপিএম করলে পাশে দাঁড়াবার কেউ নেই।” দলেরই একটি সূত্রের দাবি, পঞ্চায়েতে অনাস্থার নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা খোকন সেন। তিনি নিজেও দাবি করছেন, “প্রধান তো পঞ্চায়েত অফিসেই যান না। যা করেন ওঁর স্বামী কাজল আর দুই প্রাক্তন প্রধান আলতাফ হোসেন এবং মৃণাল মণ্ডল। ওঁরা সবাই মিলে পঞ্চায়েতটাকে দুর্নীতির আখড়া করে ফেলেনে। তাই আমরা প্রধানকে সরাতে চেয়েছি।” তাঁর দাবি, গোষ্ঠী-দ্বন্দ্ব নয়, দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েই সব করা হয়েছে।

দলেরই সহকর্মীদের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সালমা সুলতানা। পঞ্চায়েতের বর্তমান প্রধান বলছেন, “বামফ্রন্টকে হারিয়ে কংগ্রেস থেকে জিতেছিলাম। তৃণমূল আমাকে প্রধান করল। এখন বামেদের সমর্থন নিয়ে দলেরই একাংশ আমাকে অপসারিত করার চক্রান্ত করছে। অনাস্থার ব্যাপারে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যা নির্দেশ দেবেন, সেই মতোই কাজ করব।” দলের ভিতরে গোষ্ঠী-দ্বন্দ্বের কারণেই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের মুরারই ২ ব্লক সভাপতি আবু বাক্কার সিদ্দিকি। তাঁর মন্তব্য, “খানিকটা হলেও গোষ্ঠী-দ্বন্দ্বের জেরেই এমনটা হয়েছে। এ রকমটা হলে দল পরিচালনায় সমস্যা দেখা দেবে। তবে, ঘটনার কথা মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, ত্রিদিব ভট্টাচার্য-সহ দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছি।”

এ ভাবে পঞ্চায়েতের অনাস্থায় দলের সদস্যেরা শত্রু শিবিরের সঙ্গে হাত মেলানোয় ক্ষুব্ধ সিপিএমও। দলের জেলা সম্পাদক দিলীপ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, “মনে হচ্ছে তৃণমূলের প্রলোভনে পা দিয়েই ওঁরা এমনটা করে থাকতে পারেন। ঘটনা সত্যি হলে দলের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

যা হচ্ছে ঠিক হচ্ছে না। দলের দৃষ্টিভঙ্গিতে এটা একটা খারাপ দিক। এ ব্যাপারে জেলা সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করব। কী করা যায়, তা নিয়ে কথা বলব।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়,
তৃণমূল বিধায়ক ও মন্ত্রী

মনে হচ্ছে তৃণমূলের প্রলোভনে পা দিয়েই আমাদের সদস্যেরা এমনটা করে থাকতে পারেন। ঘটনা সত্যি হলে দলের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
দিলীপ গঙ্গোপাধ্যায়,
সিপিএমের জেলা সম্পাদক

cpm candidates supported at nandigram tmc muraroi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy