Advertisement
E-Paper

ছাত্রছাত্রীদের থেকে টাকা তোলার নালিশ

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কোনও কর্মী এমন কোনও কাজ করবেন না, যাতে নেতৃত্বের দিকে আঙুল ওঠে। সোমবার পুরুলিয়া জগন্নাথ কিশোর কলেজের প্রেক্ষাগৃহে সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভায় কর্মীদের কাছে সরাসরি এই বার্তা

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ অগস্ট ২০১৬ ০২:১৫
পুরুলিয়ার জগন্নাথ কিশোর কলেজের সভায় জয়া দত্ত। —নিজস্ব চিত্র

পুরুলিয়ার জগন্নাথ কিশোর কলেজের সভায় জয়া দত্ত। —নিজস্ব চিত্র

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কোনও কর্মী এমন কোনও কাজ করবেন না, যাতে নেতৃত্বের দিকে আঙুল ওঠে। সোমবার পুরুলিয়া জগন্নাথ কিশোর কলেজের প্রেক্ষাগৃহে সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভায় কর্মীদের কাছে সরাসরি এই বার্তা দিলেন টিএমসিপি-র রাজ্য সভানেত্রী জয়া দত্ত। আর এ দিনই বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের ব্লক সারেঙ্গার এক কলেজে টিএমসিপি-র একাংশের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগ তুলল ওই সংগঠনেরই আর এক অংশ।

পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ওই ঘটনার এই ঘটনার প্রতিবাদে এ দিন সারেঙ্গা ব্লকের টিএমসিপি সভাপতি তোতন খিলাড়ির নেতৃত্বে কলেজে বিক্ষোভ দেখানো হয়। কলেজের অধ্যক্ষকে লিখিত অভিযোগও জানান বিক্ষোভকারীরা। অধ্যক্ষ কুন্তলকান্তি চট্টরাজ বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’’

তোতনের অভিযোগ, কলেজে ভর্তি হওয়া ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দলে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের নামে ১০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “দলের রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ, পড়ুয়াদের কাছ থেকে কোনও ভাবেই টাকা নেওয়া যাবে না। তার পরেও কলেজে কিছু ছেলে দলকে কিছু না জানিয়েই এই সব করে বেড়াচ্ছে।’’ এ দিন একটি রসিদও দখান তিনি। তাতে টাকার অঙ্ক অবশ্য লেখা ছিল না। ওই কলেজের টিএমসিপি ইউনিটের পক্ষে রসিদটি সদস্য সংগ্রহের জন্য ছাপানো হয়েছে। রসিদে সংগঠনের কোনও নেতার নামও নেই। তোতনের দাবি, “বর্তমানে কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী এবং টিএমসিপি নেতা ফণিভূষণ মাহাতো এই কাজ করছে। ওঁর দলবলই অবৈধ ভাবে ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনার্স পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তুলছে।’’ সিংহানিয়া

এই অভিযোগ গিয়েছে জয়া দত্তের কানেও। তিনি বলেন, “দলের কেউ যুক্ত নন এই ঘটনায়। কলেজের এক কর্মী আমাদের সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে এই সব করছেন বলে অভিযোগ। আমি জেলার ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতৃত্বকে বিষয়টি দেখতে বলেছি।’’ বাঁকুড়ার যুব তৃণমূল সভাপতি শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দলীয় ভাবে তদন্ত করব আমরা। প্রয়োজন হলে আমি ওই কলেজে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলব। অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে দোষীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।’’ ফণিভূষণের অবশ্য দাবি, তোতন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। তিনি বলেন, “তোতন নিজে কলেজের ছাত্র নয়। তা সত্ত্বেও কলেজে এসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ওরাই টাকা আদায় করে। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।’’

আগামী ২৬ অগস্ট কলকাতায় শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হবে। তারই প্রস্তুতিতে এ দিন পুরুলিয়ায় এসেছিলেন জয়া। পশ্চিম মেদিনীপুরের নাড়াজোল কলেজে শিক্ষকদের সময়মতো কলেজে আসার নোটিস লাগিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্কে পড়েছে সংগঠন। জয়া সংগঠনের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘তোমরা কিন্তু এমন কোন কাজ করবে না যাতে দিনের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল ওঠে।’’

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন সংগঠনের সভানেত্রী। তিনি বলেন, ‘‘দলবাজি না করে এক হয়ে কাজ করতে হবে। যারা দলবাজি করবে, তাদের ঠাঁই নেই। কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা গ্রুপবাজি করবে, তাদের বাদ দিয়ে তৃতীয় পক্ষকে তুলে ধরব।’’ সভায় উপস্থিত সংগঠনের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি নিরঞ্জন মাহাতোও সকলকে নিজেদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy