বাবা ও দুই শিশুর দেহ উদ্ধার
নিজস্ব সংবাদদাতা • তালড্যাংরা
রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন দুই শিশু-সহ বাবা। পরের দিন সন্ধ্যায় গ্রাম থেকে দূরে জঙ্গলে মিলল গাছের ডালে গলায় ফাঁস দেওয়া বাবার ঝুলন্ত দেহ। তার পরের দিন অন্য জঙ্গলে পাওয়া গেল দুই শিশুর দেহ। মৃতেরা হলেন বাঁকুড়ার তালড্যাংরা থানার নাচনা গ্রামের বাসিন্দা বুদ্ধদেব পান (২৮) ও তাঁর দুই ছেলে অভিজিৎ পান (৫) ও শুভজিৎ পান (১)। শুক্রবার সিমলাপালের জামকানালির খাল জঙ্গলে বুদ্ধদেবের দেহ দেখতে পাওয়া যায়। শনিবার নাচনা গ্রাম সংলগ্ন পটাশ বাগান জঙ্গলে ওই দুই শিশুর দেহ মেলে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বুদ্ধদেব। শ্বাসরোধ করে দুই শিশুকে খুন করে তিনি নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন। বুদ্ধদেবের কাকা অকিঞ্চন পান পুলিশের কাছে জানিয়েছেন, চাষবাস নিয়েই বুদ্ধদেব থাকলেও সম্প্রতি নিজের ও দুই ছেলের ব্ল্যাড ক্যান্সার হয়েছে ধরে নিয়ে সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতেন। কথাবার্তা ও আচরণে অসংলগ্নতাও দেখা দেয়। ভাই স্বরূপ পান বলেন, “দাদার সে ভাবে কোনও শারীরিক অসুস্থতা ছিল না। তবে কী কারণে দাদা নিজেকে অসুস্থ মনে করলেন জানি না। সব সময় নিজের ও ছেলেদের ক্যান্সার হয়েছে ধরে নিয়ে আতঙ্কে থাকতেন।” বুদ্ধদেবের স্ত্রী মৌ পান কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না। ওই ঘটনায় গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনায় মৃত তিন
রেললাইন থেকে গোরুর পাল সরাতে গিয়ে মালগাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল এক মহিলার। শুক্রবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাটি ঘটে পুরুলিয়া-কোটশিলা শাখায় নদিয়াড়া গ্রামের কাছে। মৃত রেখা গোপের (৩৩) বাড়ি নদিয়াড়া গ্রামেই। ওই রাতে আরও দু’টি পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রঘুনাথপুর থানার ঝাড়ুখামে এক সাইকেল আরোহীকে একটি গাড়ি ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের নাম ধনঞ্জয় মণ্ডল (৩৯)। তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে বাসিন্দারা রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। শুক্রবার রাতে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির ধাক্কায় মারা যান ভক্তিপদ গরাই (৪৫)।
ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
কয়লাখনির চালকদের বিশ্রামকক্ষের মধ্যে মিলল এক ইসিএল কর্মীর ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম অসিত মণ্ডল (৪৫)। বাড়ি নিতুড়িয়া থানার পারবেলিয়ার আমডাঙাতে। খবর পেয়ে শনিবার সকালে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার অসিতবাবুর ‘নাইট শিফট’ ছিল।