বাস থেকে নেমে কলেজে যাওয়ার পথে বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক ছাত্রের। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ছাত্রকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পরে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই গাড়ির চালককে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং গাড়িকে আটক করার দাবিতে রাস্তা অবরোধ করলেন কলেজের ছাত্রছাত্রী ও গ্রামবাসী। বাঁকুড়ার বারিকুল থানার খড়িগেড়্যা গ্রামের কাছে বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কে বৃহস্পতিবারের ঘটনা। এ দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলে এই অবরোধ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তায় যান চলাচল বেশ কিছুক্ষণ ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে রাইপুর ও বারিকুল থানার পুলিশ গিয়ে ছাত্রছাত্রী ও গ্রামবাসীকে বুঝিয়ে অবরোধ তোলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন সকাল ১০টার কিছু পরে খড়িগেড়্যার কলেজ মোড়ে গণেশ লোহার (২০) নামে এক তরুণকে ফুলকুসমার দিক থেকে আসা একটি গাড়ি ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। গণেশের বাড়ি খড়িগেড়্যা গ্রামে। রাইপুর ব্লক মহাবিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। কলেজের ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ দিন দুপুরে সেখানেই তিনি মারা যান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ধাক্কা মারার পরেই গাড়িটি পালিয়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় গাড়ির নম্বর কেউই নিতে পারেননি। এরপরেই উত্তেজিত ছাত্রছাত্রী ও গ্রামবাসী কলেজ মোড়ের সামনে রাস্তা অবরোধ করেন।
এই অবরোধের জেরে বাঁকুড়া–ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কে ঘণ্টাখানেক যান চলাচল বন্ধ থাকে। রাস্তার দু’দিকে গাড়ি সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে যায়। চরম দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ মানুষ। পরে অবরোধ উঠলে ওই রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাস থেকে নেমে কলেজে যাওয়ার জন্য রাস্তা পার হচ্ছিলেন গণেশ। সেই সময় ওই গাড়িটি এসে তাঁকে ধাক্কা মেরে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালায়। পুলিশকে সে কথা জানানোর পরেও গাড়িটির সন্ধান মেলেনি।
এরপরেই ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রী ও বাসিন্দারা এ দিন রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক অবশ্য দাবি করেন, “ওই গাড়িটির কোনও নম্বর না পাওয়ায়, খুঁজে বের করতে সমস্যা হচ্ছে। তবু আমরা চেষ্টা করছি। সমস্ত থানাকে জানানো হয়েছে।”