Advertisement
E-Paper

ধর্ষণের নালিশ নিতে গড়িমসি, জনতার চাপে সুর বদল

ধর্ষণের অভিযোগ জানানোর জন্য সাত দিন ধরে ওঁরা বারবার থানায় এসেছেন। ‘অন্য এলাকার ঘটনা’ বলে ততবারই ফিরিয়ে দিয়েছে থানা। এরই মাঝে নির্যাতিতা নাবালিকা আত্মহত্যার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়ে ওই অভিযোগ নিতে বাধ্য হল বীরভূমের দুবরাজপুর থানা। জনতার চাপে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করল ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবককেও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৪৪

ধর্ষণের অভিযোগ জানানোর জন্য সাত দিন ধরে ওঁরা বারবার থানায় এসেছেন। ‘অন্য এলাকার ঘটনা’ বলে ততবারই ফিরিয়ে দিয়েছে থানা। এরই মাঝে নির্যাতিতা নাবালিকা আত্মহত্যার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়ে ওই অভিযোগ নিতে বাধ্য হল বীরভূমের দুবরাজপুর থানা। জনতার চাপে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করল ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবককেও।

পুলিশের এই ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকায়। মেয়েটির ‘আত্মহত্যা’র চেষ্টাকে তাঁরা পুলিশি গাফিলতির ফল হিসেবেই দেখছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কেউ অভিযোগ জানাতে গেলে থানা তা নিতে বাধ্য। অভিযোগকারী বা অভিযুক্ত কিংবা ঘটনা কোন এলাকার, তা সেখানে গৌণ। তা হলে দুবরাজপুর থানা কী করে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করল?

বীরভূমের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া অবশ্য বলেন, “ঘটনার কথা জানি না। আপনার কাছেই শুনছি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

ঘটনার আট দিন পরে বৃহস্পতিবারই সিউড়ি সদর হাসপাতালে মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষাও করানো হয়েছে। যদিও পুলিশের গাফিলতিতে এত দিন পরে ওই পরীক্ষা হওয়ায় তা কতটা কাজের হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। চিকিত্‌সকেরা জানিয়েছেন, ধর্ষণের পরে পরেই শারীরিক পরীক্ষা হলে অত্যাচারের যে চিহ্ন পাওয়া সম্ভব, তা এত দিন বাদে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলা রুজু করেছে। তবে, নির্যাতিতা নাবালিকা হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশ ওই দুই ধারার পাশাপাশি কেন ‘প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সচুয়াল অফেন্সেস অ্যাক্ট ২০১২’ অনুযায়ী মামলা রুজু করল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দুবরাজপুর থানা এলাকার একটি গ্রামের বাসিন্দা বছর ষোলোর ওই নির্যাতিতার বাবা পেশায় দিনমজুর। সদাইপুর থানা এলাকার চিনপাইয়ে তাঁর এক আত্মীয় রয়েছেন। সেখানে যাতায়াতের সূত্রে বছর খানেক আগে মেয়েটির আলাপ হয় লাগোয়া নারায়ণপুরের যুবক, বছর একুশের শেখ বাচ্চুর সঙ্গে। দু’জনের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে, নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, এ কথা তাঁরা জানতেন না। পরের বছর মেয়ের বিয়ে দেবে বলে খয়রাশোলের এক যুবকের পরিবারের সঙ্গে নির্যাতিতার পরিবার কথাবার্তা শুরু করেছিল। সে কথা কোনও ভাবে বাচ্চুর কানে পৌঁছয়।

গত ৭ অক্টোবর (ঈদের পরের দিন) দুপুরে বাচ্চু মেয়েটিকে বাড়ির কাছে একটি জায়গায় কথা বলার জন্য ডেকে পাঠায়। নির্যাতিতার অভিযোগ, “ওখানে যেতেই বাচ্চু আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুত্‌ কেন্দ্রের জলাধারের কাছে চলে আসে। আমার উপরে অত্যাচার চালায়।” এর পরে বাচ্চু ওই নাবালিকাকে চিনপাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছেড়ে দেয়। মেয়েটির কথায়, “যাওয়ার আগে বাচ্চু আমাকে বলে, ‘এ বার যাকে খুশি বিয়ে কর, আমার কোনও দায় নেই’। আমি অন্ধকারে নির্জন রাস্তায় পড়ে কাঁদতে শুরু করি।” মেয়েটিকে দেখে এক পরিচিত ব্যক্তি তার পরিবারকে খবর দেন। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ পরিবারের লোক জন মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

এর পরেই শুরু ঘোরার পর্ব।

৮ অক্টোবর সকালে পরিবারটি দুবরাজপুর থানায় আসে অভিযোগ জানাতে। মেয়েটির বাবা জানান, থানার অফিসারেরা তাঁকে বলে দেন, ঘটনাস্থল ও অভিযুক্তের বাড়ি, দুই-ই সদাইপুর থানা এলাকায়। তাই ওই ধর্ষণের অভিযোগ দুবরাজপুর নিতে পারে না। ধর্ষণের অভিযোগ করতে পুলিশ অফিসারেরা তাঁদের সদাইপুরে যাওয়ারই পরামর্শ দেন। নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, “আমাদের গ্রাম থেকে সদাইপুর অনেক দূরে। তাই সেখানে আর যাইনি। পর দিন আমরা কিছু গ্রামবাসী মিলে ফের দুবরাজপুর থানায় যাই। এ বারও আমাদের সদাইপুরে যেতে বলে দেওয়া হয়।”

গত রবিবার ভোরে কাটারি দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিতে গিয়েছিল নির্যাতিতা ওই কিশোরী। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তার পরেও একাধিক বার দুবরাজপুর থানা নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ নেয়নি বলেই অভিযোগ। শেষমেশ এ দিন গ্রামবাসীরা থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। চাপে পড়ে পুলিশ অভিযোগ নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন খান ও শেখ আজিজুলরা বলছেন, “এমন একটি মারাত্মক ঘটনার পরেও পুলিশ অযথা সময় নষ্ট করল। নির্যাতিতার পরিবারকে হেনস্থাও করল। আমরা এ দিন সবাই মিলে চাপ না দিলে হয়তো অভিযোগই নিত না!”

rape charge dubrajpur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy