Advertisement
E-Paper

পাচারের চেষ্টা, হরিয়ানা থেকে উদ্ধার নাবালিকা

অবস্থাপন্ন ও স্বজাতির বাড়িতে বিয়ের টোপ দিয়ে পুরুলিয়ার কোটশিলার এক আদিবাসী কিশোরীকে হরিয়ানায় নিয়ে গিয়েছিল ঝালদার এক দম্পতি। হরিয়ানার সাহা গ্রামে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে বিয়েও দেওয়া হয়েছিল ওই নাবালিকার। বিয়ের কিছুদিন পরেই কিশোরীটি বুঝতে পারে, তাকে পাচার করার চেষ্টা হচ্ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০০:৩১

অবস্থাপন্ন ও স্বজাতির বাড়িতে বিয়ের টোপ দিয়ে পুরুলিয়ার কোটশিলার এক আদিবাসী কিশোরীকে হরিয়ানায় নিয়ে গিয়েছিল ঝালদার এক দম্পতি। হরিয়ানার সাহা গ্রামে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে বিয়েও দেওয়া হয়েছিল ওই নাবালিকার। বিয়ের কিছুদিন পরেই কিশোরীটি বুঝতে পারে, তাকে পাচার করার চেষ্টা হচ্ছে। কোনও ভাবে ঘটনাটি বাড়িতে জানিয়েছিল সে। তারা বাবা সেখানে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। পরে কিশোরীর পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে গত ৮ ফ্রেবুয়ারি কোটশিলা থানার পাঁচ জন পুলিশের একটি দল হরিয়ানা থেকে উদ্ধার করেছে বছর ষোলোর ওই কিশোরী ও তার বাবাকে। গ্রেফতার করা হয়েছে বিন্দ্রা কুমার নামের ওই যুবককে। বুধবার ধৃত যুবককে পুরুলিয়া আদালতে তোলা হলে তার ১৪ দিনের জেল হাজত হয়। এ দিনই আদালতে বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়ে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে ফিরেছে ওই কিশোরী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের খবর, কোটশিলা থানার জারাট্যাড় গ্রামের এক গরিব পরিবারের ওই কিশোরী গত বছর স্থানীয় স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বাড়ির অনদের সঙ্গে ঝালদার বাজারে সব্জি বিক্রি করতে শুরু করেছিল। সেখানেই আলাপ হয় সব্জি বিক্রেতা ঝালদারই এক দম্পতির সঙ্গে। অভিযোগ, ওই দম্পতিই তাকে পুরুলিয়ার পাড়া থানার আনাড়া গ্রামে এক অবস্থাপন্ন স্বজাতির যুবকের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জেনে বাড়ির লোকজন আপত্তি করেননি। গত বছর অগস্ট মাসে ওই কিশোরীকে পাড়া নিয়ে যাওয়ার নাম করে ট্রেন চাপিয়ে মুরী নিয়ে গিয়েছিল ঝালদার ওই দম্পতি। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় হরিয়ানার আম্বালা জেলার সাহা গ্রামে। পরে মেয়েটির পরিবারকে খবর দিয়ে হরিয়ানায় ডেকে পাঠানো হয়। তাঁদের উপস্থিতিতেই বিন্দ্রা কুমার নামের ধৃত যুবকের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে হয়। পুলিশের অনুমান, বিয়ে দেওয়ানোর জন্য নগদ কিছু টাকাও নিয়েছে অভিযুক্ত দম্পতি.

পুরুলিয়া আদালতের সামনে ওই কিশোরী জানায়, বিয়ের সময়ে ওই দম্পতি তাদের জানিয়েছিল, বিন্দ্রা একটি বেসরকারি সংস্থায় মোটা মাইনের চাকরি করে। তার গাড়ির ব্যবসাও রয়েছে। ওই কিশোরীর কথায়, “বিয়ের কয়েকদিন পরেই বুঝতে পারি, আমাকে ঠকানো হয়েছে। যার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে, সে আদৌও কোনও কাজ করে ন। এমনকী অক্ষরজ্ঞানটুকুও নেই তার।” ওই কিশোরীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ওই বাড়িতে তাকে দিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করানো হত। প্রতিবাদ করলে মারধর জুটত। পরে সে বুঝতে পারে, আমাকে অন্যত্র পাচার করার পরিকল্পনা করছে ওই বাড়ির লোকজন। এর পরেই কোনও ভাবে ওই কিশোরীটি যোগাযোগ করে কোটশিলায় তার এক আত্মীয়ের মোবাইল ফোনে। খবর পেয়ে মেয়ের কাছে হরিয়ানায় যান তার বাবা। এ দিন তিনি বলেন, “মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলাম ওদের। তাতে আমাকেও আটকে রেখে নির্যাতন শুরু হয়েছিল।” ইতিমধ্যে কিশোরীটির আত্মীয় কোটশিলা থানায় সব জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মত কোটশিলা পুলিশ হরিয়ানায় গিয়ে বাবা-মেয়েকে উদ্ধার করে।

পুরুলিয়ার এসপি রূপেশ কুমার বলেন, “এই ঘটনায় আরও যারা জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ওই কিশোরী ও তার পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনায় জড়িত রয়েছে ঝালদার ওই সব্জি বিক্রেতা দম্পতি।

haryana kotshila rescue teenager
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy