কলেজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের সরকারি সাহায্যের চেকের হদিশ মিলছে না। ফলে এই চেক নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে মুরারই কবি নজরুল কলেজে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ১৭ জন পড়ুয়ার নামে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম দফতর থেকে ইস্যু হওয়া চেকের কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। টিচার ইনচার্জ নিমাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, “সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরকে বিষয়টি জানাব। হারিয়ে যাওয়া চেকগুলি পুনরায় পড়ুয়াদের নামে ইস্যু করার জন্য বলা হবে।” মুরারই থানাতে শনিবার রাতে একটি জেনারেল ডায়েরিও করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, দশ বারো দিন আগে কলেজের সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের জন্য সরকারি সাহায্য বাবদ পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যা লঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম দফতর থেকে ইস্যু হওয়া পড়ুয়া পিছু ৪,৮০০ টাকার চেক কলেজে আসে। বৃহস্পতিবার থেকে চেকগুলি পড়ুয়াদের বিলি করা হয়। কিন্তু কলেজে একই সঙ্গে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু থাকার জন্য চেকগুলি বিলি করতে দেরি হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ নেয়, শনিবার শুধু চেক বিলি করবেন তাঁরা। সেই মতো কলেজের গ্রুফ ডি স্টাফ এবং কলেজের গার্ডকে ওই কাজে লাগানো হয়। কিন্তু পড়ুয়াদের ভিড় সামাল দিতে গিয়ে দুপুর তিনটে নাগাদ জানতে পারেন, কিছু চেকের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ এরপরই চেক বিলি বন্ধ করে দেয়। কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যে যারা ওই সময় কলেজে ছিলেন, তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটকিয়ে রাখেন কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যার পর খবর দেওয়া হয়, কলেজের টিচার ইনচার্জকে। তাঁর নির্দেশে রাত দশটা নাগাদ কলেজের বড়বাবু পাঁচকড়ি রায় মুরারই থানায় গোটা বিষয়টি জানিয়ে জেনারেল ডায়েরি করেন।
রবিবার সকাল থেকে কলেজের কর্মীরা পুনরায় হারিয়ে যাওয়া চেকের হদিশ করতে থাকেন। দুপুরে হিসেব মিলিয়ে কর্মীরা জানতে পারেন ১৭টি চেকের কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে গোটা ঘটনাকে কলেজ কর্তৃপক্ষর উদাসীনতা বলে মনে করেছে ছাত্রপরিষদ। কলেজের টিচার ইনচার্জ নিমাইচন্দ্র মণ্ডলের মদতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থকরা চেক ছিনতাই করেছে বলে কলেজের ছাত্রপরিষদের নেতা মহম্মদ মাশুকুল ইসলাম সিবলি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “কলেজের ভিতরে বিশৃঙ্খলা করে তৃণমূল ছাত্রপরিষদ সমর্থকরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের নামে বরাদ্দ ২৩টি চেক ছিনতাই করেছে।”
মুরারই এলাকার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা কমিটির সদস্য অষ্টম রবিদাস বলেন, “কিছু ছেলে বদমায়েশি করে পড়ুয়াদের নামে চেক অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে। আমাদের নামে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা।” তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মুরারই কলেজের ইউনিট প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাসিরুদ্দিন বলেন, “সামনে ভোট তাই ছাত্র পরিষদ, এস এফ আই একসঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নামে বদনাম রটানোর জন্য ওই কাণ্ড ঘটিয়েছে।” তাঁর নামে মদতের অভিযোগ প্রসঙ্গে নিমাইবাবু বলেন, “কলেজেই ছিলাম না, মদতের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”