Advertisement
E-Paper

বিডিওকে ‘ঘেরাও’ করে রাখলেন কর্মধ্যক্ষেরাই

মিড-ডে মিলের কিচেন শেড নির্মাণের টেন্ডারকে ঘিরে বুধবার প্রায় দিনভর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষদের হাতে ঘেরাও হয়ে থাকলেন পুরুলিয়া ২ বিডিও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০১৫ ০১:১৯
দরজার সামনে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্যেরা।

দরজার সামনে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্যেরা।

মিড-ডে মিলের কিচেন শেড নির্মাণের টেন্ডারকে ঘিরে বুধবার প্রায় দিনভর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষদের হাতে ঘেরাও হয়ে থাকলেন পুরুলিয়া ২ বিডিও। তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষরা বিডিও-র চেম্বারের দরজা আটকে পুলিশের সামনেই চেয়ার পেতে বসে থাকলেও ‘ঘেরাও’ করে রাখার কথা মানতে চাননি। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘আমরা বিডিও-র একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছি। বিডিওকে মোটেই ঘেরাও করে রাখা হয়নি।’’

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সর্বশিক্ষা মিশনে এই পঞ্চায়েত সমিতি এলাকার স্কুলগুলিতে ১৯টি কিচেন শেড তৈরির জন্য ৩৫ লক্ষ ৭৪ বাজার ৩৪৯ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি ও সেচ বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ রাজপতি মাহাতো ও শিক্ষা বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ সমীরণ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘টেন্ডার আহ্বান করা হয় গত ১০ জুন। দরপত্র বিতরণের তারিখ ধার্য করা হয়েছিল ২২ জুন। সেদিন বৃষ্টি হওয়ায় দুপুর তিনটের পরিবর্তে বিকেল চারটে পর্যন্ত করা হয়। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক ২৪ জুন (বুধবার) ছিল দরপত্র জমা করার শেষদিন। কিন্তু এ দিন পঞ্চায়েত সমিতিতে পৌঁছে জানতে পারি বিডিও দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছেন।’’ তাঁর জানান, বিডিও মঙ্গলবার একটি নোটিস জারি করেছেন, যে ২৬ জুন অবধি দরপত্র দেওয়া হবে। আর ৩০ জুন দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ধরা হয়েছে।

জেলা পরিষদের বন ও ভূমি বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ হলধর মাহাতোও ছিলেন সেখানে। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কী কারণে বিডিও দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে দিলেন তা আমাদের কাছে পরিস্কার নয়। তিনি এর সদুত্তরও দিচ্ছেন না।’’ সমীরণবাবুদের দাবি, ‘‘প্রশাসনের আধিকারিকরা ঠিকাদারদের স্বার্থে কাজ করছেন। তারই প্রতিবাদ জানানো হয়।’’

Advertisement

পূর্ত বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ বিজয় মিশ্র বলেন, ‘‘আমি টেন্ডার কমিটির একজন সদস্য হয়েও আমাকে অন্ধকারে রেখে বিডিও টেন্ডার জমা করার সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছেন? বর্ষা আসায় কিচেন শেড তৈরির কাজ পিছিয়ে যাবে বলে আমাদের আরও আপত্তি।’’

ভিড় বাড়তে থাকে ব্লক অফিস চত্বরে। পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বাসন্তী মাহাতোও বলেন, ‘‘কেন বিডিও সময়সীমা বাড়িয়েছেন তার কোনও সদুত্তর আমরা পাচ্ছি না। তাই আমরা প্রতিবাদ করেছি।’’ উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুরুলিয়া ২ ব্লক অফিসে যান অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) প্রবালকান্তি মাইতি ও ডিএসপি (শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণ) কুন্তল বন্দ্যোপাধ্যায়। আসেন পুরুলিয়া (পশ্চিম) এর মহকুমাশাসক নিমাইচাঁদ হালদারও। তাঁরা বিক্ষোভরতদের নিয়ে বিডিওর ঘরে আলোচনায় বসেন। বিকেল প্রায় পাঁচটায় বিডিও মুক্ত হন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯টি শেড তৈরির জন্য ইতিমধ্যে ৬৫টি দরপত্র তোলা হয়। কিন্তু তার মধ্যে জমা পড়েছে মোটে ১৭টি। তাই আরও বেশি সংখ্যায় দরপত্র যাতে জমা পড়ে, সেই সুযোগ দিতেই তারিখ বাড়ানো হয়েছে।

বিডিও কোনও অনৈতিক কাজ করেছেন কি না তার সদুত্তর মেলেনি। তবে অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) বলেন, ‘‘আপাতত পুরো প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখা হচ্ছে। এ বার জেলাশাসক এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’’ বিডিও দেবদত্তা রায় বলেন, ‘‘আমি কী বলব? সবই তো দেখলেন।’’

জেলাশাসক তন্ময় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এ দিন একটি টেন্ডারকে ঘিরে বিডিওর সঙ্গে কর্মাধ্যক্ষদের মত পার্থক্য হয়। বিষয়টি তাঁরা মিটিয়েও নিয়েছেন। আপাতত বিষয়টি স্থগিত রয়েছে।’’ একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছে, এটি ব্লকের টেন্ডার। তাই সিদ্ধান্ত ব্লকই নেবে। তিনি এখন বাইরে রয়েছেন। ফিরে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

—নিজস্ব চিত্র।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy