Advertisement
E-Paper

বিয়ে বন্ধ করতে কিশোরীকে হোমে নিয়ে গেল প্রশাসন

বিয়ের আগে দুই নাবালিকার বিয়ে আটকে দিল প্রশাসন। কোতুলপুরে নাছোড় পরিবারের হাত থেকে নাবালিকাকে হোমে পাঠিয়ে বিয়ে রুখল চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। আর রঘুনাথপুর ২ ব্লক এলাকায় নাবালিকার বাড়ির লোককে বুঝিয়ে বিয়ে থামাল প্রশাসন ও চাইল্ড লাইন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০১৪ ০১:০৮

বিয়ের আগে দুই নাবালিকার বিয়ে আটকে দিল প্রশাসন। কোতুলপুরে নাছোড় পরিবারের হাত থেকে নাবালিকাকে হোমে পাঠিয়ে বিয়ে রুখল চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। আর রঘুনাথপুর ২ ব্লক এলাকায় নাবালিকার বাড়ির লোককে বুঝিয়ে বিয়ে থামাল প্রশাসন ও চাইল্ড লাইন।

কোতুলপুরের ওই কিশোরীর বয়স ১৫ বছর। এ বার মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে সে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। পাশের জয়পুর ব্লকে উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান পেয়ে তাই তড়িঘড়ি মেয়ের বিয়ের দিন ধরা হয়েছিল। বিয়ে হওয়ার কথা ছিল শনিবার। আগাম সেই খবর পেয়ে বাঁকুড়া জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান সেখ মুরসালিন ঘটনাটি অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অদিতি দাশগুপ্তকে জানান। তিনি শুক্রবার বিকেলে জেলা সমাজকল্যান আধিকারিক সুরেন্দ্রপ্রসাদ ভকত, জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিটের তিন প্রতিনিধি এবং কোতুলপুরের বিডিও অভিনন্দা মুখোপাধ্যায় ওই নাবালিকার বাড়িতে পাঠান। কিন্তু তাঁরা বিয়ে রুখতে গিয়েছেন জানতে পেরেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মেয়েটির পরিবার ও পড়শিরা বিয়ে বন্ধ করতে রাজি হয়নি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেখ মুরসালিন কোতুলপুর থানার পুলিশকে ওই নাবালিকাকে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশ নাবালিকাকে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুরের ময়রাপুকুরের একটি হোমে নিয়ে গিয়ে রাখে।

পরে মেয়েকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হন প্রান্তিক চাষি ওই বাবা। শেষে শনিবার শর্তসাপেক্ষে ওই নাবালিকাকে তার পরিবারের লোকজন হোম থেকে বাড়ি নিয়ে যান। সেখ মুরসালিন বলেন, “মেয়েটির পড়াশোনা যাতে বন্ধ না করা হয় এবং তাকে ঠিকঠাক দেখভাল করা হয় সেই শর্তে হোম থেকে ছাড়া হয়েছে। মাঝে মধ্যে মেয়েটিকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির দফতরে হাজির করাতে বলা হয়েছে।” তিনি জানান, সবাই জানেন নাবালিকার বিয়ে দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার পরেও এই ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ সব রুখতে ভবিষ্যতে তাঁরা আরও কড়া পদক্ষেপ করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ দিকে, রঘুনাথপুর থানার মৌতোড় গ্রামের কালী মন্দিরে শনিবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ১৭ বছরের এক নাবালিকার। পাত্র দিল্লির একটি বেসরকারি কারখানার কর্মী, ঝাড়খণ্ডের বেলিয়াপুর থানার বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে বিয়ের কথা জানতে পারেন চাইল্ড লাইনের আদ্রার কর্মকর্তা মন্টু মাহাতো। শনিবার সকালে প্রথমে রঘুনাথপুর থানা, পরে বিডিওকে বিষয়টি জানান। পুলিশ নিয়ে রঘুনাথপুর ২ যুগ্ম বিডিও শমীক ভড় এবং চাইল্ড লাইনের প্রতিনিধিরা এলাকায় গিয়ে নাবালিকার পরিজনদের এখনই বিয়ে না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। প্রথমে তাঁরা রাজি না হলেও পরে সম্মত হন। যুগ্ম বিডিও বলেন, “দুই পক্ষকে কম বয়সে বিয়ের ক্ষতির দিকগুলি বোঝানো হয়। বিয়ের প্রস্তুতি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা প্রথম দিকে বিয়ে বন্ধ করতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু বোঝানোর পরে তারা বিয়ে বন্ধ করতে সম্মত হন। দু’পক্ষই জানিয়ে দিয়েছেন, ছেলে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেই ওদের বিয়ে দেওয়া হবে।

child-marriage kotulpur raghunathpur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy