মুখ্যমন্ত্রীর হাতে শিলান্যাসের দু’বছরের মধ্যেই পঠনপাঠন শুরু হল বাঁকুড়ার মেজিয়া কলেজের। বৃহস্পতিবার ক্লাস শুরুর দিন মেজিয়া পঞ্চায়েত সমিতির তরফে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়। একটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন মেজিয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দনা সূত্রধর, মেজিয়ার অর্ধগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান মলয় মুখোপাধ্যায়-সহ অনেকে। কলেজ চত্বরে এ দিন বৃক্ষরোপণও করা হয়।
২০১৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ বাঁকুড়ায় একটি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেজিয়ার কলেজের শিলান্যাস করেন। তার পর থেকেই মলয়বাবুরা জমি সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। মলয়বাবু জানান, শ্যামাপুরে প্রায় সাড়ে সাত একর জমি সামান্য টাকার বিনিময়ে দান করেন তিনশো মানুষ। বেশ কিছু সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই জমি কেনা হয়। এর পর রাজ্য সরকার কলেজ গড়ার জন্য প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা বরাদ্দ করে। সেই টাকা দিয়ে গড়ে তোলা হয় কলেজ। এ বছরই অনলাইনে ছাত্র ভর্তি শুরু হয় এই ‘গভর্নমেন্ট জেনারেল ডিগ্রি কলেজ, মেজিয়া’য়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অশেষকুমার মাজি জানান, বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, অর্থশাস্ত্র, দর্শন, ভূতত্ত্ব, অ্যাকাউন্টেন্সি-তে অনার্স এবং বিএ, বি-কম পাসকোর্স চালু হয়েছে। তিনি বলেন, “আপাতত ২৬৫ জন ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে এখানে। এ বছর প্রায় ১৫০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছেন।’’ কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মোট ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। মলয়বাবু বলেন, “এই কলেজ গড়ার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেছি আমরা। এত দিন মেজিয়ার ছেলে মেয়েরা উচ্চশিক্ষার জন্য দুর্গাপুর, আসানসোল যেত। এ বার দেখছি, সেখান থেকেও আমাদের কলেজে পড়তে এসেছে অনেকে। ’’