শিশু মৃত্যুতে ডাক্তারের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠল বাঁকুড়া মেডিক্যালে। কমিটি গড়ে তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাঁকুড়া মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশু সায়ন দত্তের বয়স ১০ মাস। গত সোমবার দুপুরে তাকে বাঁকুড়া মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছিল। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তার। হাসপাতাল সুপার পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, “ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিস সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়েই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। শিশুর পরিবারের তরফে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনজন ডাক্তারের তদন্ত কমিটি গড়ে তদন্ত শুরু করেছি আমরা।”
মৃতের বাবা শান্তনু দত্ত জানান, দিন দশেক ধরেই ঠান্ডা লেগেছিল সায়নের। জ্বর না থাকলেও অল্প বিস্তর কাশি হচ্ছিল। ডাক্তারের নির্দেশ অনুসারে ওষুধও খাওয়ানো হচ্ছিল। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরেও সর্দি সারছিল না তার। সোমবার সকাল থেকেই সায়নের অস্বস্তি বেড়ে যায়। তখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আউটডোরে সায়নকে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে ওষুধ লিখে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “ওষুধ খাওয়ার পরেও অস্বস্তি না কমলে আউটডোরের চিকিৎসকেরা হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন।” তিনি জানান, ওষুধ খাওয়ার পরেও সায়নের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুপুর নাগাদ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশু বিভাগে অক্সিজেন স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা শুরু হয় তার। শান্তনুবাবু বলেন, “বিকেল নাগাদ আমার ছেলের অক্সিজেন ও স্যালাইন খুলে দেওয়া হয়। একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় তাকে। তার পরেই প্রচন্ড ছটফট করতে থাকে ছেলে। কিন্তু কোনও ডাক্তার আসেনি।’’ রাতে ছটফট করতে করতেই শিশুটি মারা যায়। তাঁর আক্ষেপ, অক্সিজেন যদি না খোলা হতো তাহলে হয়তো শিশুটির এই পরিনাম হতো না। তিনি এ জন্য ডাক্তারদের গাফিলতিকেই দুষছেন। ঘটনার পরে রাতেই হাসপাতাল সুপারকে অভিযোগ করে সায়নের পরিবার। বুধবার সায়নের পরিবারের লোকজন হাসপাতালে এসে বিক্ষোভ দেখান। ডাক্তারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। হাসপাতাল সুপারের আশ্বাস, ‘‘তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’