E-Paper

দুর্গাপুরে শিল্প করিডর, দাবি উঠল নির্দিষ্ট রূপরেখার

গত তিন দশকে দুর্গাপুর-সহ পশ্চিম বর্ধমানে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় শিল্প সংস্থার ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে। এ দিন বাজেট দেখে বণিক মহলের একাংশের দাবি, বন্ধ সংস্থাগুলি খোলার বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই কেন্দ্রের।

সুব্রত সীট

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৫
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে শিল্প করিডর গড়ার কথা ঘোষণা হল কেন্দ্রীয় বাজেটে। রবিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, দুর্গাপুরের শিল্প পরিকাঠামো ও ভৌগোলিক অবস্থান মাথায় রেখে পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র। পশ্চিম বর্ধমানের বণিক মহলের যদিও বক্তব্য, ‘না আঁচালে বিশ্বাস নেই’। ডানকুনি থেকে গুজরাতের সুরাত পর্যন্ত নতুন ফ্রেট করিডরের ঘোষণাতেও সংশ্লিষ্টদের দাবি, কত দিনে তা হবে, তা স্পষ্ট করা দরকার।

গত তিন দশকে দুর্গাপুর-সহ পশ্চিম বর্ধমানে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় শিল্প সংস্থার ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে। এ দিন বাজেট দেখে বণিক মহলের একাংশের দাবি, বন্ধ সংস্থাগুলি খোলার বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই কেন্দ্রের। নতুন শিল্প করিডরের ঘোষণা হলেও, জমি অধিগ্রহণ করে এই প্রকল্প কবে বাস্তবায়িত হবে, সে প্রশ্ন থাকছে। ‘দুর্গাপুর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ়’-এর এক কর্তার দাবি, “বিধানসভা ভোটের আগে দুর্গাপুরের নাম যোগ করে প্রকল্প ঘোষণার পিছনে যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য না থাকে, সেটাই চাই।” আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের (এডিডিএ) চেয়ারম্যান কবি দত্তের প্রতিক্রিয়া, ‘‘প্রকল্পটি এখনও স্পষ্ট নয়। নতুন শিল্প করিডর হিসেবে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের উন্নয়নে কী-কী পদক্ষেপ করা হবে, নির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলাসম্ভব নয়।”

‘দুর্গাপুর স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ় অ্যাসোসিয়েশন’-এর কর্তা রতন আগরওয়াল মনে করছেন, এই প্রকল্প রূপায়িত হলে পরিকাঠামোর উন্নয়ন হবে, ভারী ও মাঝারি শিল্পের পরিবহণ খরচ কমবে। তবে ক্ষুদ্র শিল্পে বিশেষ প্রভাব পড়বে না। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল আয়রন অ্যান্ড স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি শঙ্করলাল আগরওয়াল বলেন, ‘‘রাজ্যে জমি অধিগ্রহণ বড় সমস্যা। তা মিটে যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, উপকারই হবে।” ২০০৯ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির ডানকুনি থেকে পঞ্জাবের লুধিয়ানা পর্যন্ত ফ্রেট করিডর ঘোষণা করেছিলেন। সে কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। ডানকুনি থেকে সুরাত পর্যন্ত নতুন ফ্রেট করিডরের ঘোষণা শুনে সংশ্লিষ্টদের দাবি, কবে প্রকল্প হবে, কোথায় রেললাইন পাতা হবে, এ সব বিষয় স্পষ্ট হলে, তবেই সুযোগ-সুবিধা বোঝা যাবে। বণিক সংগঠন ‘হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অব কমার্স’-এর সভাপতি শেখ নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘‘সত্যিই যদি নতুন ফ্রেট করিডর হয়, হুগলি শিল্পাঞ্চলের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।’’

(তথ্য সহায়তা: দীপঙ্কর দে)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nirmala Sitharaman Durgapur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy