E-Paper

ভোটেই আটকে রাহুলের মৃত্যু-তদন্ত, পুলিশে হাজিরার সংখ্যা শূন্য

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক মাস কেটে গেলেও শুটিংয়ে উপস্থিত কারও বয়ানই এখনও রেকর্ডকরেননি তদন্তকারীরা। তলব করা হলেও হাজিরা দেননি এফআইআর-এ নাম থাকা কোনও অভিযুক্ত।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৮
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

মাস ঘুরে গেল, এখনও কাটল না অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর রহস্য। পুলিশ নিশ্চিত করে জানাতেপারল না, ঠিক কার বা কাদের গাফিলতিতে রাহুলের মৃত্যু হয়েছে। এ-ও জানা যায়নি, রাহুলের মৃত্যুর সময়ে ড্রোনে তোলা ফুটেজ গেল কোথায়? আদৌ কি তালসারির সমুদ্র সৈকতে শুটিং করার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? হলে সেই অনুমতিপত্র কোথায়? সামনে এল না, রাহুল ঠিক কত ক্ষণ জলে ডুবে ছিলেন? কার গাফিলতিতে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করা গেল না? উদ্ধারের পরে হাসপাতালে নিয়ে যেতেই বা এত সময় লাগল কেন?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক মাস কেটে গেলেও শুটিংয়ে উপস্থিত কারও বয়ানই এখনও রেকর্ডকরেননি তদন্তকারীরা। তলব করা হলেও হাজিরা দেননি এফআইআর-এ নাম থাকা কোনও অভিযুক্ত। ওড়িশা পুলিশের এক কর্তা শুধুবললেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন চলছে। সকলেই সময় চেয়েছেন। নির্বাচন মিটে গেলে সব দেখা হবে।’’ কিন্তুএমন ‘হাই প্রোফাইল’ এক অভিনেতার মৃত্যুর ঘটনাতেও তদন্তে এত দেরি কেন? স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। এফআইআরে নাম থাকা,ধারাবাহিকের প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘তদন্তাধীন ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।’’

একটি বাংলা ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে গত ২৯ মার্চ তালসারিতে মৃত্যু হয় রাহুলের। এক সপ্তাহ পরে ওই ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশনপিকচার্স’-এর প্রযোজক লীনা, কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, সহ-পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, কার্যকরী প্রযোজক শান্তনু নন্দী এবং ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর নামে লিখিতঅভিযোগ দায়ের করেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। তালসারি মেরিন থানা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৬ (১) (গাফিলতির কারণে মৃত্যু), ২৪০ (মিথ্যা তথ্য প্রদান) এবং ৩ (৫) (সম্মিলিত অপরাধ) ধারায়মামলা রুজু করে। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, প্রযোজনা সংস্থা ওড়িশা সরকারের কাছ থেকে শুটিং করার অনুমতি নেয়নি এবং শুটিংয়ের জায়গায় নিরাপত্তা-বিধি মানা হয়নি। প্রযোজনা সংস্থার তরফে রাহুলকে উদ্ধারের ঠিক সময় জানানো হয়নি। বরং, পরস্পরবিরোধী কিছু বিবৃতি সামনে এসেছে, যা প্রমাণ করে, এই মৃত্যু মূলত প্রযোজনা সংস্থা ও সেটির সদস্যদের চরম অবহেলার ফল।

পুলিশ এর পরে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার পাঁচ জনকে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য হাজিরার নোটিস পাঠায়। কিন্তু ওড়িশা পুলিশের দাবি, কেউই এখনও তালসারি থানায় হাজিরা দেননি। সকলেই সময় চেয়েছেন। এর মধ্যে দিঘা মোহনা থানা এবং দিঘা থানা থেকে সুরতহাল ও ময়না তদন্তের রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে ওড়িশা পুলিশ। তবে, ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও তাদের নেওয়া বাকি।

কিন্তু এই ঘটনার অন্যতম সূত্র হিসাবে উঠে আসা ড্রোনের ফুটেজ কোথায়, বলতে পারেননি কেউই। দিঘা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের দাবি, ‘‘এমন কোনও ফুটেজ আমরাপাইনি। ওড়িশা পুলিশ প্রযোজনা সংস্থার কাছ থেকে পেয়েছে কিনা, জানা নেই।’’ একই দাবি দিঘা মোহনা থানারও।

তালসারি মেরিন থানা বালেশ্বর পুলিশ জেলার অন্তর্গত। এ ব্যাপারে জানতে বালেশ্বরের এসডিপিও সুব্রত বেহারাকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। ফোন ধরেননি বালেশ্বরের পুলিশ সুপার প্রত্যুষ দিবাকরও। কেউই মেসেজেরও উত্তর দেননি। তবে তালসারি থানার অফিসার রতিকান্তবেহারার দাবি, ‘‘এখন বাংলায় ভোট চলছে। যা হওয়ার, ভোটের পরেই হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Rahul Arunoday Banerjee Tollywood

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy