প্রথম দফাতেই আগামী ২৩ এপ্রিল কংগ্রেসের ‘সম্ভাবনাময়’ তিন জেলা মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরে ভোট। কিন্তু সেই ভোটের আগে আর ভোটপ্রচারে আসতে পারছেন না কংগ্রেসের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢ়রা। এমনটাই জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন তিনি। সেখানেই প্রথম দফার ভোটের প্রচারে রাহুল-প্রিয়ঙ্কার না-আসার কথা জানিয়েছেন শুভঙ্কর। তবে এ ক্ষেত্রে তাঁর অভিযোগের আঙুল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকে।
প্রসঙ্গত, ২৩ এপ্রিল ভোট হবে রাজ্যের মোট ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে। যার মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদের ২২টি, মালদহের ১২টি এবং উত্তর দিনাজপুরের ৯টি বিধানসভা আসনে ভোট ওই দিনই। এখনও রাজ্য রাজনীতিতে হাতেগোনা যে কয়েকটি জেলায় কংগ্রেসের অল্পসল্প রাজনৈতিক জমি রয়েছে, সেখানেই মূলত শক্তি প্রয়োগ করে এ বারের নির্বাচনে কয়েকটি আসন জিততে চাইছে তারা। একক ভাবে ২৯৪টি আসনে লড়াই করলেও, এই তিন জেলা থেকেই কংগ্রেস বেশি সংখ্যায় আসন জিততে চায়। উল্লেখ্য, ১৪ এপ্রিল এই তিন জেলাতেই এসে কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করে যান রাহুল। প্রথমটি উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে, দ্বিতীয়টি মালদহের চাঁচলে এবং তৃতীয়টি মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জে।
আরও পড়ুন:
শনিবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর বলেন, ‘‘প্রথম দফার ভোটে এক দিনের প্রচার শেষে আরও তিন দিন প্রচারের জন্য সময় দিয়েছিলেন রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মহিলা ভোট পেতে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদের ওই অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ায় আমাদের নেতৃত্বের প্রচারসূচি বাতিল করতে হয়। আসলে বিজেপি কৌশল করে এমন সময় অধিবেশন ডেকেছে, যাতে তারা বাংলার ভোটের প্রচারে অংশ না-নিতে পারেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসাবে রাহুল যে ভাবে বিজেপিকে বিপর্যস্ত করেছেন, শুক্রবার সংসদে যে ভাবে রাহুল বিজেপির ষড়যন্ত্র বানচাল করে দিয়েছেন, তাতে বিজেপি রাহুলকে নিয়ে ভয় পাচ্ছে। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আবারও প্রচারে আসতে পারেন রাহুল।’’
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর এ বার হুগলি জেলার শ্রীরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর হয়ে প্রচার করতে এক দিন সময় দেবেন রাহুল-প্রিয়ঙ্কা। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে।