E-Paper

অর্থমন্ত্রীরই প্রশ্ন, ‘দলের নামটা কী’, এড়ালেন ঋতব্রত

ভোটের ফলে শাসকের আসনে কে, তা স্পষ্টই ছিল। রাজ্যে ২০৮ আসন পেয়ে তা নিশ্চিত করেছিল বিজেপি। কিন্তু ৮০ আসন পেয়েও গত এক মাস ধরে সংশয় রয়েছে বিরোধী দল নিয়ে। সেই টানাটানি আদালত হয়ে গোয়েন্দা তদন্ত পর্যন্ত পৌঁছেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ০৭:১৮
বাজেট অধিবেশনের আগে বিধানসভায় সর্বদল বৈঠক।

বাজেট অধিবেশনের আগে বিধানসভায় সর্বদল বৈঠক। —নিজস্ব চিত্র।

রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিরোধী হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে দড়ি টানাটানির মধ্যে এ প্রশ্ন অনেকের। তৃণমূল কংগ্রেস তো বটেই সিপিএম, কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী দলেরও। কিন্তু মঙ্গলবার মুখোমুখি পেয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তা জানতে চাইলেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। নবগঠিত বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরুর আগে প্রস্তুতি বৈঠকে তিনি জানতে চাইলেন, ‘আপনাদের দলের নাম কী ঠিক হল?’ ভরা ঘরে প্রাথমিক ভাবে খানিক বিব্রত হলেও উত্তর এড়িয়ে ঋতব্রত বললেন, ‘শেক্সপিয়র লিখে গিয়েছেন— নামে কী যায়- আসে..!’

ভোটের ফলে শাসকের আসনে কে, তা স্পষ্টই ছিল। রাজ্যে ২০৮ আসন পেয়ে তা নিশ্চিত করেছিল বিজেপি। কিন্তু ৮০ আসন পেয়েও গত এক মাস ধরে সংশয় রয়েছে বিরোধী দল নিয়ে। সেই টানাটানি আদালত হয়ে গোয়েন্দা তদন্ত পর্যন্ত পৌঁছেছে। তা সত্বেও তৃণমূলের বিদ্রোহী ৫৮ (পরে ৬৫) বিধায়ক নিয়ে পরিষদীয় রীতি মেনে বিরোধী দলের স্বীকৃতি চেয়েছেন ঋতব্রতরা। তাঁদের সেই আবেদনকে মান্যতা দিয়েছেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। কালীঘাটে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে লড়াই চললেও ঋতব্রত দাবি করেছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। আবার মমতার মনোনীত বিরোধী দলের নেতা হিসেবে ওই পদের দাবিদার তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই অবস্থায় নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগে, সর্বদল ও কার্য উপদেষ্টা (বি এ) কমিটির বৈঠকে এসে সেই প্রশ্ন করে ফেললেন রাসবিহারী কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপনই। বৈঠকে ঠিক হয়েছে, নতুন সরকারের বাজেট অধিবেশন ১৮ জুন, রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে শুরু হবে। বাজেট হওয়ার কথা ২২ তারিখে।

বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগে এ দিনের সর্বদল বৈঠকে ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলকে ডাকা হয়েছিল। ঋতব্রতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিদ্রোহী শিবিরে মনোনীত সচেতক মহম্মদ আখরুজ্জামান, পরিষদীয় দলের উপ-নেতা সন্দীপন সাহা ও জাভেদ খান। মমতা শিবিরের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব কিন্তু বৈঠকে ডাক পাননি। সিপিএমের মুস্তাফিজুর রহমান (রানা), আইএসএফের নওসাদ সিদ্দিকী এবং মোতাব শেখ ছিলেন। ছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরও। তাঁরাই নতুন বি এ কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন।তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ‘‘স্পিকার পছন্দের লোককে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাঁকে রেখেই বিরোধিতাহীন অধিবেশন করতে চাইছেন। এ আর যা-ই হোক, গণতন্ত্র নিশ্চয়ই নয়!’’

স্পিকারের স্বীকৃত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত আসন্ন বাজেট অধিবেশনের কর্মসূচিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মুস্তাফিজুর অবশ্য এ বারের অধিবেশনে হকার ও বস্তি উচ্ছেদ নিয়ে সম্প্রতি গোটা রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা চান। ঠিক হয়েছে,পরে দফতরভিত্তিক আলোচনায় বিষয়টি আসবে। অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর-পর্ব থাকছে কি না, তা জানতে চান শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। জবাবে পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, সরকারের প্রথম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর অতীতেও হয়নি। পরে হবে। বিধায়কেরা এ বার ‘দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাব’ ও ‘উল্লেখ পর্বে’ অংশ নিতে পারবেন। অধিবেশনে ২৩ তারিখ রাজ্যপালের ভাষণ এবং ২৪ ও ২৫ তারিখ বাজেটের উপরে আলোচনা হবে। দফতরভিত্তিক আলোচনা হতে পারে সম্ভাব্য ৬ জুলাই থেকে অধিবেশনের পরবর্তী পর্বে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Ritabrata Banerjee West Bengal government Budget session

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy