E-Paper

দ্বিতীয় পর্বই ‘গুরুতর’, প্রশিক্ষণ দেবে তৃণমূল

ভোটারদের গণনাপত্র জমা এখনও শেষ হয়নি। তবে তা বিলি করার অভিজ্ঞতা থেকেই শুনানি-পর্বের জন্য বড় রকমের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৪৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) দ্বিতীয় পর্বকেই ‘গুরুতর’ বলে মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটারদের গণনাপত্র বিলি ও তা জমা করার থেকেও পরের শুনানি-পর্বকেই তাই নির্বাচনের সমান গুরুত্ব দিতে চাইছেন দলীয় নেতৃত্ব। আগামী ৯ ডিসেম্বর, খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে দলের বুথ লেভল এজেন্টদের (বিএলএ-২) কী করণীয়, তা এখনই বুঝিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার জন্য প্রস্তুতি বৈঠকে ডাকা হচ্ছে ব্লক, অঞ্চল, ওয়ার্ড, জেলা সভাপতি, বিধায়ক, সাংসদ-সহ অন্য স্তরের জনপ্রতিনিধি এবং সংগঠনে যুক্ত ভারপ্রাপ্তদেরও।

ভোটারদের গণনাপত্র জমা এখনও শেষ হয়নি। তবে তা বিলি করার অভিজ্ঞতা থেকেই শুনানি-পর্বের জন্য বড় রকমের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। দলীয় নেতৃত্বের ধারণা, গণনাপত্র বিলি বা জমা করার থেকেও তার ভিত্তিতে ভোটারের দাবি যথার্থ প্রমাণ করে তালিকায় নাম নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই, জটিলও। ফলে, সেই কাজে বিএলএ-দের সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছায়ার মতো থাকতে হবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।

তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “নির্দোষ তালিকা তৈরি হবে দ্বিতীয় পর্বেই। উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও যাঁদের নথি দিয়ে তা প্রমাণ করতে হবে, তাঁদের একটা বড় অংশের সহযোগিতা প্রয়োজন। ফলে, বিএলএ-র দায়িত্বও এখানে বেশি।” এই ‘শুনানি’র সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথা ভেবে একাধিক কাঠামোগত প্রস্তুতিও রাখছে তৃণমূল।

এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে তৃণমূল। দলের তরফে বলা হয়, রাজ্যের সাত কোটিরও বেশি ভোটারের কাছে গণনাপত্র পৌঁছে দেওয়া ও তা পূরণের পরে জমা নেওয়ার জন্য যে সময় নির্দিষ্ট হয়েছে, তা অবাস্তব। একাধিক অপমৃত্যুর পরে এসআইআর-এর আতঙ্কের কথা বলে পথেও নেমেছেন দলের দুই মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা এসআইআর স্থগিত রাখার দাবিও জানিয়েছেন। তবে সাংগঠনিক স্তরে তা নিয়ে পুরোদস্তুর প্রস্তুতি সেরে রাখছেন অভিষেক। গণনাপত্র জমা নেওয়া পর্যন্ত প্রথম পর্বের রিপোর্ট ইতিমধ্যেই নেতৃত্বের হাতে পৌঁছেছে। তাতেই দ্বিতীয় পর্বে আরও কড়া নজরদারি ও সক্রিয়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। দলের এক নেতার কথায়, “এসআইআর শুরুর আগে বিএলএ২-এর দায়িত্বে থাকা দলীয় কর্মীদের বিএলও-দের ছায়াসঙ্গী হতে বলেছিলেন অভিষেক। এ বারও সে ভাবেই কাজ করতে হবে।”

জেলা থেকে সংগৃহীত প্রথম পর্বের রিপোর্টে অবশ্য সন্তুষ্ট তৃণমূল নেতৃত্ব। বিরোধীরা এই পর্বেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, মারধর, ভয় দেখানোর মতো বিভিন্ন অভিযোগ করলেও তৃণমূলের দাবি, রাজ্যের সিংহ ভাগ বুথে বিরোধীদের বিএলএ ছিল না। ভোটারদের কাছে পৌঁছোনো বা গণনাপত্র পূরণের কাজে তৃণমূলই সাধারণ ভোটারের সহায়তা করেছে। সেই ভূমিকা দলের পক্ষে ইতিবাচক বলে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করলেও দ্বিতীয় পর্বকে সন্তোষজনক ভাবে সম্পূর্ণ করাই তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। দলের এক নেতার কথায়, “ভোটের আগের এই পর্বেই আসল ভোট হয়ে যাবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC West Bengal SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy