বিজেপি রাজ্যে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে ভাল ফল করার পরে তড়িঘড়ি সেখানে নাম লিখিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নানা স্তরের জনপ্রতিনিধি। নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন বিজেপি নেতা, প্রয়াত মুকুল রায়। কিন্তু ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে প্রত্যাশিত ফল হয়নি বিজেপির। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেও দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ হবে না বলে বার্তা দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু সেই শমীকই আবার ‘ভাল তৃণমূলের জন্য দরজা খোলা’ বলে মন্তব্য করেছেন দাবি করে তোলপাড় চলছে সমাজমাধ্যমে, রাজনৈতিক পরিসরে। শমীক অবশ্য বলছেন, ‘ভাল তৃণমূলে’র কথা তাঁর নয়। তবে ‘চুরি’ না-করা তৃণমূল নেতাদের বিষয়ে দলের দরজা খোলার কথা চিন্তা-ভাবনা করা যেতে পারে বলেও তাঁর বার্তা।
শমীক বুধবার বলেছেন, “ভাল তৃণমূল বলে কিছু হয় না! কখনও এই কথা বলিনি। ভোটের আগে থেকে বলছি, যাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরে অমৃতরস পানের সুযোগ পাননি, চুরি করেননি, তাঁদের জন্য দরজা খোলার কথা ভাবা যেতে পারে। সেটা এখন না, পরে। কখন দরজা খুলতে হবে, তা নিয়ে দলের মধ্যে ভাবনা-চিন্তা করা হবে।” তবে যাঁরা চুরি করেছেন, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধই থাকবে বলে শমীকের বার্তা। বিজেপির রাজ্য সভাপতির সংযোজন, “তৃণমূলের মধ্যেও অনেকে ছিলেন, যাঁরা পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায় মুখ খুলতে পারেননি বা মুখ খুলে দলের বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। তাঁরা কড়া নাড়লে নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে।”
শমীক ও বিজেপিকে অবশ্য নিশানা করছে সিপিএম, কংগ্রেস। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “ওঁরা আজ যা বলেন, কাল তা মেলে না। প্রথমে বললেন, তৃণমূল নেব না। পরে বললেন, ভাল তৃণমূল নেব বা বাছাই করে নেব। এর পর বললেন, এখন না, তিন মাস পরে নেব! ওঁরা নেতাদের নিতে পারেন, কিন্তু রাজ্যবাসীর মন ধরে রাখতে হলে গরিব মানুষের স্বার্থে কাজ করতে হবে।” প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরীর কটাক্ষ, “ভাল তৃণমূল মানে কি শমীকবাবু? মানুষকে বোকা ভাবা ভাল, নির্বোধ ভাবা অনুচিত!”
ভোটের পরে তৃণমূল থেকে যাতে কেউ রাতারাতি দলে ঢুকতে না-পারে, সেই জন্য তিন সদস্যের কমিটি গড়া হয়েছে বিজেপিতে। কোনও নেতা কাউকে দলে নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে হারে তৃণমূলের জন-প্রতিনিধিরা পদত্যাগ করছেন, বেসুরো হচ্ছেন, তাতে বিজেপির এই নীতিতে চাপ বাড়ছে কি না এবং সে জন্য নেতৃত্বের ভাষ্যে কিছুটা বদল আসছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক শিবিরে। এরই মধ্যে নানা জায়গাতেই নিচু তলায় গেরুয়া আবির মেখে বিজেপিতে যোগ যাওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছে বলে দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত। শমীক অবশ্য বলছেন, “সব বেরিয়ে যাবেন, কেউ থাকবেন না। যাঁরা ভোটের ফলপ্রকাশের দিন ১২টার পরে বিজেপি হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে দল থেকে বার করে দেওয়া হবে!”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)