Advertisement
E-Paper

সত্যজিতের গ্রামে তোপ অভিষেকের

সোমবার দুপুরে বিধায়কের বাড়ি গিয়ে তাঁর মা ও স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন অভিষেক। আগের দিনই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব রকম ভাবে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। অভিষেকও সেই আশ্বাসই দিয়েছেন।

সুস্মিত হালদার ও সম্রাট চন্দ

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০১:১১
নিহত বিধায়কের বাড়িতে তৃণমূলের জেলা পর্যবেক্ষক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সুদীপ ভট্টাচার্য

নিহত বিধায়কের বাড়িতে তৃণমূলের জেলা পর্যবেক্ষক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সুদীপ ভট্টাচার্য

দুপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকেলে মমতাবালা ঠাকুর এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। নিহত বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বললেন তাঁরা, পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন। আর, তোপ দাগলেন বিজেপির বিরুদ্ধে। কিন্তু সত্যজিতের পরে দলের নদিয়া যুব সভাপতি কে হবেন, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।

সোমবার দুপুরে বিধায়কের বাড়ি গিয়ে তাঁর মা ও স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন অভিষেক। আগের দিনই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব রকম ভাবে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। অভিষেকও সেই আশ্বাসই দিয়েছেন।

পরে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘বেদনাজনক ঘটনা। ধিক্কার জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। যারা এটা করল, তারা এটুকু দেখল না যে মানুষটার একটা দেড় বছরের সন্তান আছে!’’ তাঁর দাবি, ‘‘যারা এই খুনে যুক্ত, আমরা তাদের চিহ্নিত করেছি। ইতিমধ্যে দু’জন গ্রেফতার হয়েছে। বাকি যারা রয়েছে, তারাও পার পাবে না।’’

একই ভাবে বিজেপির দিকেই আঙুল তোলেন মতুয়া সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর ও রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। নিহত বিধায়কের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে মমতাবালা বলেন, “সত্যজিৎ মতুয়া মহাসঙ্ঘের সদস্য ছিলেন। আমরা এসেছি তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। এই হত্যার বিচার চাই।”

নদিয়ায় কার্যত তৃণমূলের মতুয়া রাজনীতির মুখ হয়ে উঠেছিলেন কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক। মূলত জেলার দক্ষিণে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক বাগাভাগির লড়াই চলছে। মমতাবালার অভিযোগ, “বিজেপি কিছুদিন আগেই এখানে যে মিটিং করেছিল তার পরে সত্য বড়-বড় দুটো অনুষ্ঠান করেছিল। সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল বলেই এ ভাবে রাজনৈতিক চক্রান্ত করে তাকে খুন করা হয়েছে।”

কেন তাঁরা সরাসরি বিজেপিকেই দায়ী করছেন? মমতাবালার যুক্তি, “বিজেপির সভার পরে আমরা পালটা সভা করেছি। এটা বিজেপি ছাড়া কে করতে পারে? মাধ্যমিক পরীক্ষা রয়েছে, সেটা মাথায় রেখে আমরা পরের কর্মসূচি নেব।”

সত্যজিতের স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। ছবি: প্রণব দেবনাথ

এই খুনে বিজেপি নেতাদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও। তিনি বলেন, “আমার দেখা সেরা সংগঠক সত্যজিৎ। মতুয়া মহাসঙ্ঘে সে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছিল নদিয়ায়।’’ তাঁর দাবি, ‘‘সত্যজিতকে খুন করার পিছনে কোন নেতা আছে, তা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এত বড় সাহস! কারও মদত আছে। এই মদতদাতা এই জেলায় এসে এক সময়ে মাতব্বরি করতেন। এখন দল থেকে বেরিয়ে চলে গেছেন। তাঁর নামটাও মুখে উচ্চারণ করতে আমার লজ্জা করে।’’

জ্যোতিপ্রিয় আঅরও বলেন, ‘‘এই নিয়ে আমাদের তিন জন কর্মী খুন হলেন। চুপ করে বসে আছি। প্রশাসন আছে। আমরা হিংসার খেলা খেলি না, মারের বদলে মার দিই না। আমরা জবাব দেব ব্যালটে। মতুয়ারা শেষ দেখে ছাড়বেন। সত্যজিতের মৃত্যুর রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেব আমরা।”

সত্যজিতের পরে কে হবেন জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি?

যুব তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি অভিষেক বলেন, ‘‘সত্যজিতের তুল্য বিকল্প এখনও আমাদের কাছে নেই। কিন্তু যারা ভাবছে এই ঘটনা ঘটিয়ে তৃণমূলকে আটকানো যাবে, তারা জানে না আগামী দিনে হাঁসখালিতে বাড়ি-বাড়ি সত্যজিৎ বিশ্বাস তৈরি করবে তৃণমূল।’’ বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ জেলা সাংগঠনিক সভাপতি জগন্নাথ সরকার অবশ্য পাল্টা দাবি করেন, ‘‘তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেই এই খুন। সেটা চাপা দিতেই ওরা আমাদের উপরে দোষ চাপাচ্ছে। আর ওদের নেতারা এসে বড়-বড় কথা বলে যাচ্ছেন। এই জেলার মানুষ পুরোটাই দেখছেন, সব বুঝছেন।’’

Krishnganj TMC MLA murder Abhishek Banerjee TMC MLA Inner Conflict
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy