×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ জুন ২০২১ ই-পেপার

সত্যজিৎ খুনে ধৃত প্রধান অভিযুক্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা
ডেবরা ও হাঁসখালি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৩:৫৮
ধৃত অভিজিৎ পুণ্ডারী

ধৃত অভিজিৎ পুণ্ডারী

শেষমেশ ধরা পড়ল নদিয়ায় তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনে মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ পুণ্ডারী। এই মামলায় এই নিয়ে পাঁচ জন গ্রেফতার হল। সকলেই বিজেপি নেতা-কর্মী বলে পরিচিত। খুনের ষড়যন্ত্রে নাম থাকলেও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া মুকুল রায় আগাম জামিন পেয়েছেন।

সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ একপ্রস্ত নাটকই হয়ে যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের রাধামোহনপুর স্টেশন চত্বরে। লোকজন দেখেন, প্রাণপণে দৌড়চ্ছে এক যুবক, তাকে ধাওয়া করছেন বেশ কয়েক জন। খানিকটা দৌড়ে গিয়েও ছেলেটি ধরা পড়ে যায়। তার হাত দুটো পিছমোড়া করে বেঁধে মাথায় গলিয়ে দেওয়া হয় বালিশের ওয়াড়। তার পরে নিয়ে গিয়ে সটান তোলা হয় গাড়িতে।

কাগজে-কলমে নদিয়া জেলা পুলিশের হাতে তদন্তভার থাকলেও গোড়া থেকেই সিআইডি নজরদারি চালাচ্ছিল। রবিবার তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে তদন্তভার হাতে নেয়।

Advertisement

সিআইডি সূত্রের খবর, সকালে হাওড়া থেকে মেদিনীপুর লোকালে ওঠে অভিজিৎ। সিআইডি-র একটি দল তার পিছু নেয়। রাধামোহনপুরে সে নামবে বলে খবর থাকায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। সিআইডি ও নদিয়া পুলিশের দলও পৌঁছে গিয়েছিল। সাদা পোশাকে পুলিশকর্মীরা স্টেশন চত্বর ঘিরে ফেলেছিলেন। অভিজিৎ যাতে সন্দেহ না করে, সে জন্য পুলিশের গাড়ি পর্যন্ত আনা হয়নি। অভিজিৎ ট্রেন থেকে নামতেই পুলিশ তাকে ধাওয়া করে।

কিছু ক্ষণের মধ্যেই টিভি মারফত খবর পৌঁছে যায় নদিয়ার হাঁসখালিতে ফুলবাড়ি গ্রামে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সেখানে নিজের বাড়ির কাছে সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠান চলাকালীন গুলিতে খুন হন কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক তথা নদিয়া যুব তৃণমূল সভাপতি সত্যজিৎ। দেড় বছরের ছেলে সৌম্যজিৎকে আঁকড়ে সামলে ওঠার মরিয়া চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী রূপালী। সেই দিন থেকেই মা অঞ্জনা শয্যা নিয়েছেন। রূপালী বলেন, ‘‘আমি শুধু জানতে চাই, কেন আমার স্বামী কে খুন করা হল।’’ গভীর হতাশা ঝরে পড়ে অঞ্জনার গলায়, “অভিযুক্ত ধরা পড়ে কী হবে? আমার ছেলেকে কি তোমরা ফিরিয়ে দিতে পারবে?”

ঘটনার পরেই ভাঙচুর হয়েছিল অভিজিৎদের বাড়িতে। এখনও তার বাবা-মা বাড়ি ফেরেননি। তছনছ হয়েই পড়ে আছে বাড়ি। আজ, মঙ্গলবার অভিজিৎকে রানাঘাট আদালতে তোলা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement