E-Paper

দাগিদের মামলার নেপথ্যে ‘ষড়যন্ত্র’, অভিযোগে বিতর্ক

সিবিআইয়ের তালিকা অনুযায়ী, দাগি হওয়া সত্ত্বেও ২০১৬ সালে যাঁরা চাকরি পাননি, তাঁদের তালিকা বুধবার রাতে প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

২০১৬ সালের প্যানেলে দুর্নীতি হয়েছে বলে যাঁরা মামলা করেছিলেন, তাঁদের কয়েক জনের নাম এসএসসি-র প্রকাশিত চাকরি না-পাওয়া দাগিদের তালিকায় রয়েছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। চাকরিহারা গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, যেখানে মামলাকারীরা নিজেরাই দাগি, সেখানে ন্যায়ের নামে যোগ্যদের সঙ্গে প্রহসন হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, দাগিদের জন্য যোগ্যেরা কেন ভুগবেন? চাকরিহারাদের অভিযোগ, দাগিদের দিয়ে মামলা করিয়ে পুরো প্যানেল বাতিল করানোর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে। অবিলম্বে এই মামলার পুনরায় বিচার হোক।

সিবিআইয়ের তালিকা অনুযায়ী, দাগি হওয়া সত্ত্বেও ২০১৬ সালে যাঁরা চাকরি পাননি, তাঁদের তালিকা বুধবার রাতে প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। তাতে দেখা গিয়েছে, শিক্ষক পদপ্রার্থী দাগির সংখ্যা ২৫০ এবং শিক্ষাকর্মী পদপ্রার্থী দাগির সংখ্যা ১৮৫৩। এই তালিকায় এমন চাকরিপ্রার্থীদের নাম আছে, যাঁদের নিয়োগ হয়নি ঠিকই, কিন্তু তাঁরা ওয়েটিং লিস্টে ছিলেন। সেই তালিকায় এমন কয়েক জনের নামও আছে, যাঁরা ২০১৬ সালে এসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে বলে মামলা করেছিলেন। ওই দাগি প্রার্থীদের নাম, তাঁদের বাবার নাম, তাঁরা কোন পদপ্রার্থী ছিলেন, তাঁদের জন্ম তারিখ এবং রোল নম্বর— সব কিছুই উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের প্রশ্ন, যাঁরা অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা চাকরি পাননি বলেই কি গোটা প্যানেল বাতিল করাতে মামলা করা হয়েছিল? চাকরিহারা এক যোগ্য শিক্ষিকা সঙ্গীতা সাহা বললেন, ‘‘আমাদের মনে হয়েছে, এর পিছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। মামলা করা হয়েছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। আমরা চাই, এই মামলা আবার নতুন করে শুরু করা হোক।’’

‘যোগ্য গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি অধিকার মঞ্চ’-এর তরফে অমিত মণ্ডল বলেন, ‘‘আমাদের অভিযোগ, যাঁরা টাকা দিয়েও চাকরি পাননি, তাঁরাই মামলা করে গোটা প্যানেল বাতিল করিয়েছেন। এর জন্য সব থেকে বেশি ক্ষতি হল আমাদের মতো যোগ্য শিক্ষাকর্মীদের। শুধু দাগি চাকরিপ্রার্থীরাই নন, আরও যাঁরা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের সকলের শাস্তি দাবি করছি।’’

দাগিদের হয়ে মামলা করেছিলেন যে সমস্ত আইনজীবী, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফিরদৌস শামিম, বিকাশ ভট্টাচার্যেরা। ফিরদৌস বলেন, ‘‘মামলা যে কেউ করতে পারেন। যখন মামলা হয়েছিল, তখন মামলাকারীরা দাগি কি না, আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না। এসএসসি মূল ওএমআর শিট আজ অবধি প্রকাশ করেনি।’’

বিকাশ বলেন, ‘‘মামলা করা হয়েছিল দাগিদের খুঁজে বার করার জন্য। যাঁরা মামলা করেছিলেন, তাঁরা যে কেউ দাগি হবেন না, এমনটা তো না-ও হতে পারে। আমরা তো আমাদের মক্কেল সম্পর্কে তদন্ত করে মামলা করি না।’’ এসএসসি-র এক কর্তা বলেন, ‘‘আমরা হাই কোর্টের নির্দেশে বুধবার রাতে চাকরি না পাওয়া দাগি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SSC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy