E-Paper

অশান্তি! স্থগিত হতে পারে এসআইআর

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অ্যাডমিট কার্ডকেও নথি হিসেবে গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। তার ভিত্তিতে বুধবার রাজ্যের সিইও-কে কমিশন যে চিঠি পাঠিয়েছে, সেখানে হুবহু সেটাই বলা আছে। তার পরেও এ দিন শুধু অ্যাডমিট কার্ডকে বহু ক্ষেত্রেই নথি হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৬

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে, সংশ্লিষ্ট জায়গায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য এসআইআর বন্ধ রাখা হবে। বৃহস্পতিবার জেলা-কর্তাদের এই বার্তাই দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে কমিশন জানিয়ে দিল, মাধ্যমিকের শংসাপত্রের সঙ্গে তার অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা হবে। কিন্তু শুধুমাত্র অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসাবে গ্রাহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে কমিশনের দেওয়া ১৩টি নথির তালিকায় নেই, এমন বেশ কিছু নথি এ দিন বাতিল করেছে কমিশন।

এর ফলে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রথমত, এসআইআর প্রক্রিয়া কিছু জায়গায় সাময়িক ভাবে স্থগিত হয়ে গেলে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কি আদৌ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে? দ্বিতীয়ত, সুপ্রিম কোর্ট যেখানে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জন্মের শংসাপত্রের নথি হিসাবে গ্রহণ করার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে কমিশনের এই নতুন নির্দেশ কি ফের বিভ্রান্তি তৈরি করবে? সর্বোপরি, ১৩টি নথির তালিকায় নেই, এমন বহু নথি দিয়েই এত দিনশুনানির সময়ে ফর্ম জমা নেওয়া হয়েছে। যাঁরা সেই ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁদের ভাগ্যে কী রয়েছে? তাঁদের কি ফের শুনানিতে ডাকা হবে? নাকি চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে? ফলে তাঁদের যে ফের হেনস্থার মুখে পড়তে হবে, সে জন্য দায়ীই বা কে?

কমিশনের বৈঠকে এ দিন স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, এসআইআর নিয়ে একাধিক জায়গায় যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে, বিডিও অফিস বা শুনানিকেন্দ্রেও ভাঙচুর করা হচ্ছে, সে সব আর কমিশন বরদাস্ত করবে না। ফরাক্কা, ইটাহার বা চুঁচুড়ার মতো ঘটনায় পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে ছিল বলেও অভিযোগ। আরও দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতেও গড়িমসি চলেছে। পরে কমিশনের হস্তক্ষেপে এফআইআর করা হয়। এমন ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না— জেলা-কর্তাদের এ দিন সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল এবং রাজ্যের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। সূত্রের দাবি, বলা হয়েছে, কোথাও কোনও ঘটনা ঘটলে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে দায়িত্ব নিয়ে পুলিশের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে দায়ের করতে হবে এফআইআর। কোথাও গোলমাল নিয়ন্ত্রণে আনা না-গেলে, সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসআইআরের কাজ বন্ধ রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে পুলিশ যে দায়বদ্ধ, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই আদেশ দিয়েছে। তা এ দিন স্মরণ করিয়ে দিয়েছে কমিশন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অ্যাডমিট কার্ডকেও নথি হিসেবে গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। তার ভিত্তিতে বুধবার রাজ্যের সিইও-কে কমিশন যে চিঠি পাঠিয়েছে, সেখানে হুবহু সেটাই বলা আছে। তার পরেও এ দিন শুধু অ্যাডমিট কার্ডকে বহু ক্ষেত্রেই নথি হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের দাবি, এ দিনের বৈঠকে সেই রায়ের উল্লেখ করে সিইও-র দফতর জানায়, মাধ্যমিকের শংসাপত্রের সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া যেতে পারে জন্ম-তারিখের প্রমাণ হিসেবে। কিন্তু শুধু অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসেবে গ্রাহ্য হবে না। কেন এমন সিদ্ধান্ত? সিইও-র দফতর সূত্রের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট আইনিমহল থেকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের এমনই ব্যাখ্যা মিলেছে। তার পরেই এমন সিদ্ধান্ত।

জেলা-কর্তাদের আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, জমি-বাড়ির শংসাপত্র, ইত্যাদি নথি দাখিল হলে, তা বাতিল করতে হবে। কারণ, সেগুলি কমিশনের বিধিবদ্ধ নথিগুলির অন্তর্ভুক্ত নয়।

কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রক থেকে সিনিয়র আধিকারিকেরা রাজ্যে এসে নবনিযুক্ত রোল-পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব নিয়েছেন। আজ, শুক্রবার থেকেই তাঁরা কাজ শুরু করবেন। এ দিন মোট ৩৩ জন পর্যবেক্ষকের সঙ্গে জেলাশাসকদের পরিচয় করানো হয়। কমিশন সূত্রের খবর, তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশের পরে নথি জমার জন্য ১০ দিন ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ কোর্ট। ফলে প্রতি স্তরেই সময় বেশি লাগতে পারে। শুনানি ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করা যাবে না। প্রকাশ পাবে না ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও। ফলে ভোট ঘোষণার সময়ও কিছুটা পিছোতে পারে বলে অনুমান।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Special Intensive Revision SIR hearing West Bengal SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy