Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

আন্দোলন তুলে নিন, আবেদন শঙ্খের

চিকিৎসকদের উপরে আক্রমণ গোটা সমাজের উপরেই আক্রমণ, তাই প্রশাসনকে শক্ত হাতে তার মোকাবিলা করতে বলেছেন তিনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১৩ জুন ২০১৯ ০২:২৩
—ফাইল চিত্র।

—ফাইল চিত্র।

নিজে গিয়ে ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করে কথাগুলো বলতে পারলে ভাল লাগত তাঁর। কিন্তু শারীরিক ভাবে অশক্ত অবস্থায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না।

তবু মুখে বলে এক জনকে দিয়ে লিখিয়ে সাম্প্রতিক ডাক্তার-নিগ্রহ প্রসঙ্গে বুধবার তাঁর বিবৃতি তৈরি করেছেন প্রবীণ কবি শঙ্খ ঘোষ। চিকিৎসকদের উপরে আক্রমণ গোটা সমাজের উপরেই আক্রমণ, তাই প্রশাসনকে শক্ত হাতে তার মোকাবিলা করতে বলেছেন তিনি। কর্মবিরতিতে শামিল হওয়ার পিছনে ‘নিরুপায়’ অবস্থাটা বুঝেও রোগীদের স্বার্থে ডাক্তারদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিতেই বলছেন শঙ্খবাবু।

কবির বলছেন, ‘‘চিকিৎসক সমাজ নিরুপায় ভাবে সাময়িক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত নিতান্ত অগ্রাহ্য করার মতো নয়। কিন্তু তাঁদের একটু ভেবে দেখতে অনুরোধ করি যে, দুর্বৃত্তেরাই এই সমাজের সম্পূর্ণটা নয়। দূরদূরান্ত থেকে যে-সব অসহায় রোগীকে নিয়ে তাঁদের পরিজনেরা আপনাদের কাছে এসে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁরা অনেকেই চিকিৎসকদের আজ পর্যন্ত ঈশ্বরতুল্য জ্ঞান করেন। তাঁরা যদি এ ভাবে প্রতিহত হন, আর এর ফলে হঠাৎ কোনও দুর্যোগ যদি ঘটে যায়, তবে সে তো আপনাদেরও নিশ্চয় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’’

Advertisement

সামগ্রিক ভাবে রাজ্যে অনেকেই চিকিৎসকদের আন্দোলন তুলে নেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু দুই তরুণ চিকিৎসকের গুরুতর আহত অবস্থার ছবিটিও অনেককেই গভীর ভাবে নাড়া দিচ্ছে। রাজ্যে শাসক দলের অনুগামী শিবিরভুক্ত বলে চিহ্নিত কোনও কোনও বিশিষ্টজনও এই পরিস্থিতিতে বিচলিত। ইন্টার্ন পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের উপরে হামলাকে ‘বর্বর উল্লাস’ বলে ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন কবি সুবোধ সরকার। দোষীদের শাস্তি চেয়েছেন তিনি।

চিকিৎসক-নিগ্রহের সাম্প্রতিকতম উদাহরণ প্রসঙ্গে শঙ্খবাবু এ দিন বলেন, ‘‘রাজ্যের অবস্থা যে ভয়াবহ অরাজকতার দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, এ তারই এক লজ্জাজনক নিদর্শন।’’ তাই ডাক্তারেরা কর্মবিরতি তুললেও পরিস্থিতি বদলাতে চিকিৎসক-নিগ্রহ বন্ধ করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালানোর তাগিদ অনুভব করছেন শঙ্খবাবু। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তাঁর অনুরোধ, আপনারা এই সিদ্ধান্ত (সাময়িক কর্মবিরতি) একটু পুনর্বিবেচনা করুন। সেই সঙ্গে প্রবীণ কবির সংযোজন, ‘‘তার মানে এই নয় যে, প্রতিবাদ-ক্ষোভ এতে রুদ্ধ হয়ে যাবে। বরং সমাজের সর্বস্তরের বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে নিয়ে একত্রে চলবে এই প্রতিবাদ। এমন একটা অবস্থায় চিরদিন চলতে দেওয়া যায় না— এই মর্মে সমস্ত মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আপনাদের এই আন্দোলন চলুক। সঙ্গে সঙ্গে নিজের নিজের কাজটুকুও করুন।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।

আরও পড়ুন

Advertisement