রাজ্যের বহু সংশোধনাগারেই বন্দি কার্যত উপচে পড়ছে। বন্দিদের দুরবস্থা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলাও চলছে। এরই মধ্যে পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে। পুলিশ হেফাজত শেষে সেই সব অভিযুক্তেরাও জেল হেফাজতে যাচ্ছেন। এ নিয়ে অনেকেই বলছেন, সংশোধনাগারে এমনিতেই তো কার্যত ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই’ দশা। তার মধ্যে যদি বন্দির সংখ্যা এত দ্রুত হারে বাড়ে, তা হলে তো সমস্যাআরও বাড়বে!
বন্দির সংখ্যা বাড়লে সমস্যা যে বাড়বে, তা একান্তে মেনে নিচ্ছেন পুলিশ এবং কারা দফতরের অফিসারদের একাংশ। তাঁরা বলছেন, জায়গার সঙ্কুলান করতে গাদাগাদি করে বন্দিদের রাখতে হবে। কিন্তু সেখানেও আশঙ্কা থাকছে! কারা দফতরের এক অফিসারের বক্তব্য, ‘‘পালাবদলের পরে যাঁরা গ্রেফতার হচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই বিগত শাসক দলের নেতা। সংশোধনাগারের ভিতরে এদের নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখতে হবে। তাঁদের সব সময় বাকি বিচারাধীন বন্দিদের সঙ্গে ঠাসাঠাসি পরিস্থিতিতে রাখাও সমীচীন হবে না।’’ সে দিক থেকেও আলাদা জায়গা কী ভাবে বার করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। সংশোধনাগারে কোনও সমস্যা হলে কোর্টে বা মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগের ভয়ও থাকছে।
প্রসঙ্গত, পালাবদলের পর রাজ্যের নানা প্রান্তে যে ভাবে বিভিন্ন অভিযোগে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা গ্রেফতার হচ্ছেন, তাতে বন্দি সংখ্যা যে বেশি হারে বাড়বে, সে ব্যাপারে প্রশাসনের শীর্ষমহলও রীতিমতো ওয়াকিবহাল। বিগত শাসক দলের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ব্যঙ্গের সুরে বলতে শোনা গিয়েছে যে ব্রিগেডের মাঠে জেল তৈরি করতে হবে। কেউ কেউ অবশ্য নিছক ‘রসিকতা’ করে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, তৃণমূল আমলের শেষ দিকে হাই কোর্টে তৎকালীন সরকার জানিয়েছিল যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৬টি নতুন সংশোধনাগারের কাজ শুরু হয়েছে।
তবে সংশোধনাগারে নির্দিষ্ট সংখ্যার থেকে বেশি বন্দি থাকার বিষয়টি ‘উদ্বেগজনক’ বলেই মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন কোর্টেও এ নিয়ে সরব হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিপোর্টও তলব করেছিল হাই কোর্ট। বিগত সরকারের আমলে জমা পড়া সেই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, রাজ্যে কেন্দ্রীয়, জেলা, বিশেষ, মহিলা, মুক্ত এবং উপ-সংশোধনাগার (যা মহকুমা স্তরে থাকে) মিলিয়ে মোট ৬১টি সংশোধনাগার আছে। তাতে মোট ২১,৯২৯ জন বন্দি থাকতে পারলেও চলতি বছরের মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী ২৩,৮৮৬ জনবন্দি আছেন। তার মধ্যে ৫১৯০ জন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি আছেন এবং বাকিরা বিচারাধীন বন্দি (অর্থাৎ যাঁদের বিচার শেষ হয়নি)। বহু সংশোধনাগারেই ধারণ সংখ্যার দ্বিগুণ বা তারও বেশি সংখ্যক বন্দি আছেন। সম্প্রতি যে সব তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরাও ওই বিচারাধীন বন্দিরগোত্রেই পড়বেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)