Advertisement
E-Paper

দক্ষিণের কড়চা

ভাদ্র মাস হল কিছুটা অবসরের মাস। একসময় এই অলস ভাদ্রে ভাদু প্রতিমা নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে দরিদ্র মানুষেরা ভাদু নাচ দেখাতো দুটো পয়সার জন্য। এখনও দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও সারা ভাদ্র মাস জুড়ে চলে ভাদু উৎসব। পয়লা ভাদ্র থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের শেষ হয় ভাদ্র মাসের সংক্রান্তির দিনের বিকেলে পুজোর পরে ভাদু প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে।

শেষ আপডেট: ৩০ অগস্ট ২০১৬ ০০:২৫

ও ভাদু নামল দ্যাশে

ভাদ্র মাস হল কিছুটা অবসরের মাস। একসময় এই অলস ভাদ্রে ভাদু প্রতিমা নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে দরিদ্র মানুষেরা ভাদু নাচ দেখাতো দুটো পয়সার জন্য। এখনও দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও সারা ভাদ্র মাস জুড়ে চলে ভাদু উৎসব। পয়লা ভাদ্র থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের শেষ হয় ভাদ্র মাসের সংক্রান্তির দিনের বিকেলে পুজোর পরে ভাদু প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে। কেউ কেউ বলেন, পুরুলিয়ার কাশিপুরের পঞ্চকোটের রাজা নীলমনি সিংহদেবের কন্যা ছিলেন ভাদ্রেশ্বরী। সেখান থেকেই ভদ্রেশ্বরী। তা থেকেই ভাদু। লোক মুখে প্রচলিত গল্পটা এমনই কাশীপুরের রাজকন্যা ভদ্রেশ্বরীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু ভদ্রেশ্বরীর বড় বিয়ে করে আসার পথে ডাকাতদের কবলে পরে মরা যান। সেই শোকে ভাদু আত্মঘাতী হন। ভাদুর স্মৃতিকে ধরে রাখতেই কাশিপুরের রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় রাজ্যবাসী এই ভাদুর শুরু করেন। আবার কেউ বলেন, ভাদ্রমাসে পঞ্চকোট ও ছাতনার রাজার মধ্যে যুদ্ধে পঞ্চকোটের রাজা বিজয়ী হন। সেই স্মৃতিতেই এই উৎসবের শুরু। শুরুর গল্প যাই হোক না কেন ভাদু উৎসবের উৎস কিন্তু সেই কাশিপুরের রাজ বাড়িই। এই গানে একটি ছোট ছেলে বা মেয়ে ভাদু সেজে কোমরে ভাদুর পুতুল নিয়ে নাচ করে। বাজে ঢোল, পাখোয়াজ, খঞ্জনি, হারমোনিয়াম। আর কোরাস গান –‘...ও ভাদু নামলো দ্যাশে/ আষারিা বর্ষর শেষে’। বীরভূমে এখনও ভাদু গান লেখা হয়। তবে তার সঙ্গে মিশে গিয়েছে সময়ের কথা-সুর। ‘ভাদু করি যে মানা/ তুমি রামপুরহাটের সিনেমা যেও না’, ‘ভাদু চাই ম্যাক্সি জামা। আমরা করি গো মানা/ কলিকালের এই ঘটনা/ বাপ মা করে না মানা’, আমার ভাদু কেজে পরে/ রামপুরহাটে যেয়েঁ প্রেম করে/ বগলকাটা বেলাউজ প’রে ঘুরে ফিরে’— এ সবই সেই গানের নজির! এক সময় বামফ্রন্ট সরকার বর্গাদারি নিয়মের প্রচার করেছিলো ‘চল ভাদু চল জেলার অফিসে/ বর্গাদার আইন উঠ্যাছে/ বর্গা রেকর্ড করাতে’ –এই রকম ভাদু গানের মধ্যে দিয়েই। ময়ূরেশ্বরের আমচুয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ ভাদু শিল্পী জানালেন, তাঁরা এখনও ভাদু গান লেখেন— সবুজসাথীর ভাদু গান! লোক গবেষক আদিত্য মুখোপাধ্যায় মনে করেন, ‘‘এই কৃষি উৎসবটি গান এখন আর আবেগ রুদ্ধ কথা দিয়ে লেখা হয় না।’’

যুব সম্মেলন

শিকাগোর বিশ্ব ধর্মসভায় স্বামী বিবেকানন্দর বক্তৃতা স্মরণে নানা অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে সাগর ব্লকে। ১১ সে‌প্টেম্বর হবে মূল অনুষ্ঠান। তার আগে রবিবার হয়ে গেল বার্ষিক যুব সম্মেলন। সাগরের খানসাহেব আবাদ হাইস্কুলে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল ‘সাগর মঙ্গল’ নামে একটি সংস্থা। আয়োজকদের অন্যতম তথা খানসাহেব আবাদ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়দেব দাস বলেন, ‘‘মহান সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শ যুবকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ।’’ উপস্থিত ছিলেন সাগরের মনসাদ্বীপ রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী দুর্গাত্মানন্দ, সরিষা রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান শিক্ষক দীপ্তেশানন্দ প্রমুখ। সম্মেলনে বিবেকানন্দের জীবন এবং কাজের উপর আলোচনা করা হয়।

সাহিত্যসভা

দিন কয়েক আগে মাঝসমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন কাকদ্বীপের কয়েকজন মৎস্যজীবী। তাঁদের কথাই উঠে এল কাকদ্বীপের পত্রিকা ‘অন্য কবিতা’র সাহিত্য পাঠের আসরে। সম্প্রতি কাকদ্বীপ বিদ্যাসাগর সাধারণ পাঠাগারে অনুষ্ঠানটি হয়। সেখানেই নিখোঁজ মৎস্যজীবী পরিবারদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন উপস্থিত কবি-সাহিত্যিকরা। কাকদ্বীপের নাট্যকর্মী সৌমিত বসু বলেন, ‘‘কাকদ্বীপে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় পরিবারগুলির পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে। কিন্তু মৎস্যজীবীদের কাছে দুর্যোগের আগামবার্তা পৌঁছানো জরুরি ছিল।’’ অনুষ্ঠানে গঙ্গাপ্রসাদ অগস্তির গল্পগ্রন্থ উদ্বোধন করে অমরকুমার দাস। সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রসাদ মাকড়।

এবং পঞ্চক

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার ‘এবং পঞ্চক’ পত্রিকাটির দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে। ব্যস্ততার যুগে দীর্ঘ রচনা পড়ার সময় নেই পাঠকের। যুগের প্রয়োজনে পত্রিকায় ছাপা হয়েছে চারটি ঝকঝকে অণুগল্প। তবে কবিতাগুলির মধ্যে বেশিরভাগ একঘেয়ে। সূচিপত্রের পরিবর্তে ‘লেখক-তালিকা’র ভাবনাটি অভিনব। তবে লেখক-সূচিতে লেখকদের নাম থাকলেও লেখার শিরোনাম ও পৃষ্ঠা সংখ্যা নেই।

বসে আঁকো

গ্রন্থাগার সপ্তাহ পালন করল বিদ্যাসাগর সাধারণ পাঠাগার। গত ২৫ অগস্ট অনুষ্ঠানটি হয় কাকদ্বীপের সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দিরে। ছিল যেমন খুশি আঁকো এবং প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কাকদ্বীপের ‘বড়দা’ বলে পরিচিত সন্তোষ বর্মন-সহ অনেকে। ছিল কবিতা পাঠ।

যুগ সম্মান

স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় আলোচনা সভা এবং নাটকের অনুষ্ঠান করল হাওড়ার মাকড়দহের যুগ থিয়েটার। সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের স্থানীয় বাসিন্দা প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী কমলাকান্ত শ্রীমানীকে নিয়ে আলোচনা করা হয়। ‘যুগ সম্মান ২০১৬’ দেওয়া হয় ডোমজুড়ের প্রবীণ শিক্ষাবিদ দুঃখহরণ ঠাকুর চক্রবর্তীকে। পরিবেশিত হয় চন্দন সেনের লেখা নাটক ‘অনিকেত সন্ধ্যা’। ছিলেন ডোমজুড়ের বিডিও তমোঘ্ন কর, মাকড়দহ ১ পঞ্চায়েতের প্রধান অপর্না মুখোপাধ্যায়, শিক্ষাবিদ অবিনাশচন্দ্র দে প্রমুখ।

শারদ সংখ্যা

প্রকাশিত হল ছোটদের পত্রিকা ‘আবার সাড়ে বত্রিশ ভাজা’র পত্রিকার শারদ সংখ্যা। পত্রিকাটি এ বার চতুর্থ বছরে পা দিল। এই সংখ্যায় রয়েছে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনি থেকে শুরু করে অঙ্ক নিয়ে খেলা, খেলা সংক্রান্ত প্রবন্ধ। ৪৮ পাতার বইটির প্রচ্ছদ ঝকঝকে। পত্রিকার সম্পাদক সুমনদীপ পাণ্ডে জানান, ছোটদের লেখায় উৎসাহ দিতেই এই পত্রিকা।

কিশোর ছড়াকার

‘উল্টোডাঙার উল্টো ঘরে উল্টো হয়ে চলি / স্কুলের পড়ার ফাঁকে আমি গল্প বই পড়ি / রাত্রিবেলা খাওয়ার পরে ঘুমোতে যাবো যেই / অমনি আমি ডিগবাজি খাই উল্টে খাটেতেই / ঘরের দেওয়াল চার দেওয়াল / তাও কি রাখি খালি / ম্যাপ এঁকেছি দেওয়াল জুড়ে / দিয়েছি রং কালি।’’

ছড়াকারের বয়স মাত্র ন’বছর। নাম সৌম্যদীপ রায়। সাকিন মেদিনীপুর। তার মধ্যেই লিখে ফেলেছে ‘উল্টোপাল্টা’ নামে একটি ছড়ার বই। সম্প্রতি একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। সৌম্যদীপের জন্ম চন্দ্রকোনায়। ২০১৪ সালে তার পরিবার মেদিনীপুর শহরে এসে থাকতে শুরু করে। খুব ছোট থেকেই ছড়া লিখতে শুরু করে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির এই ছাত্র। সৌম্যদীপের পরিবারের সদস্যরা জানান, খুব ছোট থেকেই অন্ত্যমিল দিয়ে বাক্যগঠনের চেষ্টা করে এই খুদে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি পত্রিকায় তার ছড়া প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলিকে সংকলিত করেই প্রকাশিত হয়েছে ‘উল্টোপাল্টা’। সৌম্যদীপের কথায়, “আমার ছড়া লেখার অনুপ্রেরণা বাবা-মা।” তার বাবা সৌমিত্র রায় এবং অনিন্দিতা রায় দু’জনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। সৌমিত্রবাবুর কথায়, ‘‘ছোট থেকেই ওর ছড়ার প্রতি ঝোঁক। সময় পেলেই ছড়া লেখে। আমরা সব সময় ওকে উৎসাহ দিই।” পড়াশোনা এবং ছড়া লেখার ফাঁকেই সে খেলা, আঁকা, যোগব্যায়াম অভ্যাস করে। এই খুদে কবির প্রথম ছড়ার বইটির প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ করেছেন বিশ্ব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “নয়-দশ বছরের ছেলেমেয়েরা চারপাশ চিনতে শেখে। সেই অনুভূতিই সৌম্যদীপের কলম দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy