মূল চর্চায় ‘ডেট অব ভেকেন্সি’— অর্থাৎ যে সময়ে কোনও অফিসার অবসর নেওয়ায় সেই পদ ফাঁকা হচ্ছে। তাকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে এ রাজ্যের পুলিশে স্থায়ী ডিজি নিয়োগের সম্ভাবনা। স্থায়ী ডিজি নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের পাঠানো পুলিশকর্তাদের নামের তালিকা (প্যানেল) কেন্দ্রের থেকে ফেরত আসার পরে এ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। অনেকের মতে, এই জট কাটানো না গেলে তা স্থায়ী ডিজি নিয়োগের পথে ফের বাধা তৈরি করবে। তবে এখনও রাজ্যের কাছে জট কাটানোর সুযোগ রয়েছে ইউপিএসসি বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গেআলোচনার মাধ্যমে।
কয়েক দিন আগেই রাজ্যের পাঠানো আগের প্যানেল ফেরত পাঠিয়ে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি) জানিয়েছে, আগের স্থায়ী ডিজি অবসর নেওয়ার অন্তত তিন মাস আগে পাঠাতে হত ওই প্যানেল। আগের স্থায়ী ডিজি ছিলেন মনোজ মালবীয়। তিনি অবসর নিয়েছেন ২০২৩ সালে ডিসেম্বর মাসে। অর্থাৎ, সেই সময়কে ‘ডেট অব ভেকেন্সি’ মনে করছে ইউপিএসসি। তার আগের সেপ্টেম্বর মাসকে এই বিধিতে প্যানেল পাঠানোর যোগ্য সময় বলে ধরা হয়েছে। ফলে এখন নতুন করে পাঠানো কোনও প্যানেল সেই বিধিতে আটকে যাবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে সরকারের অন্দরে। আবার দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শে ইউপিএসসি আরও জানিয়েছে, দরকারে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিতে পারে। কিন্তু তা-ও সময়সাপেক্ষ। আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমারের অবসর নেওয়ার কথা। ফলে তার আগে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া নিয়েও সন্দেহপ্রকাশ করছেন আধিকারিকদের একাংশ। অথচ ডিজি পদ ফাঁকা রাখা সম্ভব নয়। তেমন ক্ষেত্রে ফের নতুন কোনও আইপিএস অফিসারকে ডিজি পদে নিয়োগ করা হতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিধি মেনে তা না করা হলে ফের তাঁকে হতে হবে ভারপ্রাপ্তই।
অবশ্য অভিজ্ঞ পুলিশকর্তারা জানাচ্ছেন, আগের প্যানেলের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক অফিসারের আশা আর তেমন নেই। তবে অবসরের সময় দেরিতে হওয়ার কারণে এখন ডিজি পদমর্যাদার অনুজ শর্মা, সঞ্জয় সিংহ, পীযূষ পাণ্ডে এবং এন রমেশ বাবুর ক্ষেত্রে আপাতত কোনও সমস্যা নেই। বিকল্প রাস্তা হিসেবে রাজ্য এঁদের নাম পাঠাতে পারে কেন্দ্রকে। যেহেতু, তাঁদের অবসরের জন্য ছ’মাসের অনেক বেশি সময় হাতে রয়েছে, তাই তা কেন্দ্রের বিধির সঙ্গেও মানানসই। তবে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করলে দ্রুত সমস্যা মিটতে পারে। প্রসঙ্গত, স্থায়ী ডিজি নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব বা তাঁর মনোনীত সদস্য,কেন্দ্রীয় আধাসেনার কোনও ডিজি, ইউপিএসসি-র এক জন প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং বিদায়ী স্থায়ী ডিজি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন। এ রাজ্যে এখন স্থায়ী ডিজি না থাকার কারণে বৈঠক হবে প্রথম চারজনের মধ্যে।
এই অবস্থায় প্রশাসনের অন্দরে তৎপরতা বেড়েছে। বুধবার প্রশাসনের শীর্ষমহলে পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে একটি বৈঠকও হয়েছে বলে খবর। তবে অভিজ্ঞ আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য আলোচনা করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তাঁরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অস্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত ডিজি নিয়োগের উদাহরণ শুধু এ রাজ্যেই রয়েছে এমন নয়। আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যে ভারপ্রাপ্ত ডিজিরা কাজ করেছেন। পরে অবশ্য সেই ব্যবস্থার বদলও ঘটেছিল। তাই রাজ্য এবং কেন্দ্রের সমন্বয় এ ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)