E-Paper

এ-পারে না কি ও-পারে থাকবেন সুইটিরা, প্রশ্ন

প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্য শুনে সুনালী খাতুন, সুইটি বিবিদের পরিবারের আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ের জবাব, ‘‘ওঁরা ভারতীয় নাগরিক। তাই সীমান্তের এ পারে, এ দেশে আসতে চান। কেন্দ্র দু’দিনের মধ্যে তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছিল।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৮

—প্রতীকী চিত্র।

এখন বাংলাদেশের পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। ফলে তাঁরা ঠিক করতে পারেন, সীমান্তের ও পারে থাকবেন? না কি এ পারে? তাঁরা কী ভাবছেন? সুইটি বিবি, দানিশ শেখদের ভারতে ফেরানোর আর্জির মামলায় আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই মন্তব্য করেছেন।

প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্য শুনে সুনালী খাতুন, সুইটি বিবিদের পরিবারের আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ের জবাব, ‘‘ওঁরা ভারতীয় নাগরিক। তাই সীমান্তের এ পারে, এ দেশে আসতে চান। কেন্দ্র দু’দিনের মধ্যে তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছিল।’’ প্রধান বিচারপতি তা শুনে বলেন, ‘খুবই ভাল কথা। প্রত্যেক ভারতীয়ের এ দেশে থাকার অধিকার রয়েছে।’’

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ দোলের ছুটি থাকবে। তার পরের সপ্তাহে এই মামলার শুনানি।

গত জুনে দিল্লিতে কর্মরত বীরভূমের পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী-সহ ছ’জনকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে দিল্লি পুলিশ। অসম সীমান্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়। ২২ অগস্ট থেকে তাঁরা সে দেশের সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। পরে জামিন পান। সুপ্রিম কোর্ট অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সুনালী ও তাঁর ছেলেকে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিল।সুনালী ভারতে ফিরে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু সুনালীর স্বামী দানিশ শেখ, সুনালীদেরই এলাকার বাসিন্দা সুইটি বিবি ও তাঁর দুই নাবালক সন্তান এখনও বাংলাদেশে। এই মামলায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানতে চেয়েছে, সুনালী এখন নিরাপদে রয়েছেন কি না। আইনজীবী হেগড়ে জানান, সুনালী নিরাপদে রয়েছেন। কিন্তু অন্যরা এখনও বাংলাদেশে। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে সকলের নাগরিকত্ব যাচাই করতে বলেছিল। তাঁর বক্তব্য, ভারতে সবাইকে ফিরিয়ে আনা হোক। প্রয়োজনে তাঁরা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থাকতে পারেন। পুলিশ-প্রশাসনের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট করতে পারেন।

কেন্দ্রের আইনজীবী জানান, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অন্য মামলার শুনানিতে ব্যস্ত রয়েছেন। আর রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বলকে দেখে প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজ্যের প্রশাসন এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত।

সুপ্রিম কোর্টে সুইটি বিবির হয়ে মামাতো ভাই আমির খান মামলা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘দাদুর ১৯৫২ সালের দলিল থেকে ভারতীয় হিসেবে সব নথিই তো দেওয়া হয়েছে। তবু কেন ও দেশে দিদিদের থাকতে হচ্ছে, ফেরানো হচ্ছে না সেটাই তো বুঝতে পারছি না!’’ সুনালী বলেন, ‘‘আমরা ভারতীয়। আর অপেক্ষা করতে পারছি না। বাচ্চাগুলো বাবার জন্য কান্নাকাটি করছে। বলছে, না কি এখনও প্রমাণ হয়নি বাংলাদেশি না ভারতীয়! আগে তো নিয়ে আসুক। তার পরে না হয় নথি যাচাই করবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengali Border Areas Supreme Court of India

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy