বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে হলফনামা জমা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই রিপোর্ট নিয়ে আপত্তি থাকলে মামলার সঙ্গে সংযুক্ত পক্ষেরা হলফনামা দিয়ে তাদের বক্তব্য জানাবেন। বুধবার এমনটাই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যের করা ডিএ নিয়ে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৬ মে। অর্থাৎ, ৪ মে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে।
বুধবার রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করে জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ডিএ-র একটি অংশ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কমিটির দ্বারা নির্ধারিত প্রথম কিস্তির অর্থ দেওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। তার কারণ, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে রাজ্যের পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট-সহ হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতে।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনজীবী সওয়াল করে বলেন, ‘‘আমরা রাজ্যের রিপোর্টের বিরোধিতা করছি। আদালত এ বিষয় হস্তক্ষেপ করুক।’’ কর্মচারীদের তরফে জানানো হয়, যা মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। সকলে ডিএ পাননি। কর্মচারীদের অনেকে পেয়েছেন, আবার অনেকে পাননি।
বিচারপতি সঞ্জয় করোল বলেন, ‘‘ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া তো শুরু হয়েছে!’’এর পরেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, রাজ্যের জমা দেওয়া রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হবে। রাজ্যের রিপোর্ট প্রসঙ্গে আপত্তি থাকলে মামলার সঙ্গে সংযুক্ত পক্ষেরা হলফনামা দিয়ে তাদের বক্তব্য জানাবে। আগামী ২৭ এপ্রিল কমিটির সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সেখানে রাজ্য তাদের বিষয়টি জানাবে। ৬ মে মামলার পরবর্তী শুনানি।
আরও পড়ুন:
সরকারি কর্মীদের পুরনো মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ বকেয়া এবং প্রথম কিস্তি মেটানোর জন্য আগেই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বলা হয়েছিল ২৫ শতাংশ বকেয়া অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ কত কিস্তিতে, কী ভাবে দেওয়া হবে, তা কমিটি স্থির করবে। সেই ৭৫ শতাংশেরও প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে বলে জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করার জন্য আবেদন জানায় রাজ্য। রাজ্য সরকারের আর্জি, এই সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হোক। সেই মামলারই শুনানি ছিল বুধবার।
সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য কেন আবেদন করছে, তার কারণ জানিয়েছে রাজ্য। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, বকেয়া ডিএ-র অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি রাজ্য আর্থিক চাপেও রয়েছে। কেন্দ্রের কাছ থেকে ঋণের অনুমোদন মেলেনি এখনও। পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা ভোটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচুর খরচ হবে। সেই খরচ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেই খরচও বহন করতে হবে। এ ছাড়া ২০১৬ সালের আগের বহু কর্মীর তথ্য এখনও কাগজেই রয়ে গিয়েছে। সেগুলির ডিজিটাল রেকর্ড এখনও হয়নি।
আবেদনে রাজ্য আরও জানিয়েছে, সব কর্মীর সার্ভিস বুক স্ক্যান ও আপলোড করতেও সময় লাগবে। হাজার হাজার পেনশনভোগী আছেন। তাঁদের তথ্যও আলাদা ভাবে মেলাতে হবে। পাশাপাশি কলকাতা এবং জেলার পেনশন সংক্রান্ত তথ্য আলাদা জায়গায় রয়েছে, সেগুলিকেও মেলাতে হবে। ডিএ-র হিসাব করার জন্য আলাদা পোর্টাল করা হচ্ছে। যে সংস্থা তা তৈরি করছে, তারা জানিয়েছে পোর্টাল পুরো প্রস্তুত করতে সময় লাগবে। রাজ্যের বক্তব্য এই কাজ শুরু হয়েছে। শেষ করতে সময় লাগবে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৯ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত যে ডিএ বকেয়া রয়েছে, ওই রায় তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সেখানে বলা হয়েছিল, মোট বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। বকেয়ার বাকি অংশ হিসাবে কত টাকা করে দেওয়া হবে এবং কী ভাবে, তা ৬ মার্চের মধ্যে জানাতে হবে কমিটিকে। কমিটির বিবেচনা অনুযায়ী প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে। অর্থাৎ নির্দেশ ছিল, বকেয়া ডিএ-র ৭৫ শতাংশের মধ্যে কমিটির নির্ধারণ করা প্রথম কিস্তির টাকাও মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে রাজ্য সরকারকে।