Advertisement
E-Paper

ডিএ নিয়ে রাজ্যের আবেদনের শুনানির দিন স্থির করল সুপ্রিম কোর্ট! কবে শুনবে, কী কারণে ডিএ দিতে সময় চায় সরকার?

গত ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেখানে বলা হয়েছিল, মোট বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশের জন্য কমিটি গঠনের কথা বলেছিল আদালত।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৫৮
ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারের আবেদনের শুনানির দিনক্ষণ স্থির করল সুপ্রিম কোর্ট।

ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারের আবেদনের শুনানির দিনক্ষণ স্থির করল সুপ্রিম কোর্ট। —ফাইল চিত্র।

রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের আবেদনের শুনানির দিন স্থির করল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী বুধবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে। ওই দিন দুপুরে রাজ্যের আবেদনটি উঠবে দুই বিচারপতির বেঞ্চে।

সরকারি কর্মীদের পুরনো মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ বকেয়া এবং প্রথম কিস্তি মেটানোর জন্য আগেই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বলা হয়েছিল ২৫ শতাংশ বকেয়া অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ কত কিস্তিতে, কী ভাবে দেওয়া হবে তা কমিটি স্থির করবে। সেই ৭৫ শতাংশেরও প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে বলে জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করার জন্য আবেদন জানিয়েছে রাজ্য। রাজ্য সরকারের আর্জি, এই সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হোক। বুধবার রাজ্যের সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি হবে বিচারপতি করোল এবং বিচারপতি মিশ্রের বেঞ্চ।

সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানানোর সময়ে বেশ কিছু কারণের কথা উল্লেখ করেছে রাজ্য। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, বকেয়া ডিএ-র অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি রাজ্য আর্থিক চাপেও রয়েছে। কেন্দ্রের কাছ থেকে ঋণের অনুমোদন মেলেনি এখনও। পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা ভোটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচুর খরচ হবে। সেই খরচ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেই খরচও বহন করতে হবে। এ ছাড়া ২০১৬ সালের আগের বহু কর্মীর তথ্য এখনও কাগজেই রয়ে গিয়েছে। সেগুলির ডিজিটাল রেকর্ড এখনও হয়নি।

Advertisement

আবেদনে রাজ্য আরও জানিয়েছে, সব কর্মীর সার্ভিস বুক স্ক্যান ও আপলোড করতেও সময় লাগবে। হাজার হাজার পেনশনভোগী আছেন। তাঁদের তথ্যও আলাদা ভাবে মেলাতে হবে। পাশাপাশি কলকাতা এবং জেলার পেনশন সংক্রান্ত তথ্য আলাদা জায়গায় রয়েছে, সেগুলিকেও মেলাতে হবে। ডিএ-র হিসাব করার জন্য আলাদা পোর্টাল করা হচ্ছে। যে সংস্থা তা তৈরি করছে, তারা জানিয়েছে পোর্টাল পুরো প্রস্তুত করতে সময় লাগবে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, এই কাজগুলির সবই শুরু হয়েছে। তবে তা শেষ করতে সময় লাগবে। সেই কারণে ডিএ দেওয়ার সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে তারা।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৯ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত যে ডিএ বকেয়া রয়েছে, ওই রায় তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সেখানে বলা হয়েছিল, মোট বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। বকেয়ার বাকি অংশ কত টাকা করে দেওয়া হবে এবং কী ভাবে, তা আগামী ৬ মার্চের মধ্যে জানাতে হবে কমিটিকে। কমিটির বিবেচনা অনুযায়ী প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে। অর্থাৎ, বকেয়া ডিএ-র ৭৫ শতাংশের মধ্যে কমিটির নির্ধারণ করা প্রথম কিস্তির টাকাও মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে রাজ্য সরকারকে।

যদিও সরকারি কর্মচারীদের একাংশের আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের বক্তব্য, রাজ্য ‘ইচ্ছাকৃত ভাবেই’ কর্মীদের ডিএ দিচ্ছে না। তিনি বলেন, “রাজ্য চাইলে সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ দিতেই পারত। ইচ্ছাকৃত ভাবে দিচ্ছে না। দেরি করে যাচ্ছে।”

Dearness allowance Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy