রাজ্য সরকার জিটিএ চুক্তি পুরোপুরি মানছে না বলে অনেক দিন ধরেই অভিযোগ তুলছে মোর্চা। সেই অভিযোগ নিয়ে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলেন। এ বার তাঁদের দাবি, সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার দার্জিলিঙে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ওই দাবি করেছেন মোর্চার সহকারী সম্পাদক তথা জিটিএ-র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিনয় তামাঙ্গ। তিনি বলেন, ‘‘জিটিএ চুক্তি মানা হচ্ছে না বলে কিছু স্পষ্ট অভিযোগ তুলে আমরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলাম। এ দিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৩ জনকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চের সামনে মামলাটি ওঠে। তখনই আমাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্যের বক্তব্য জানতে চায় বেঞ্চ। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে তা জানাতে হবে।’’
রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের প্রতিলিপি সরকারি ভাবে পাওয়ার পরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
২০১১ সালের ১৮ জুলাই জিটিএ চুক্তি হয়েছিল। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রের মধ্যে ওই চুক্তির ভিত্তিতেই গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তৈরি হয়। পরে তাতে রাষ্ট্রপতির সম্মতিও মেলে। চুক্তি অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের ৫৯টি দফতর জিটিএ-কে হস্তান্তর করার কথা। তামাঙ্গদের অভিযোগ, এ যাবৎ ৩৩টি দফতর তাঁদের হাতে পুরোপুরি দেওয়া হয়েছে। পূর্ত দফতর, তথ্য-সংস্কৃতি, দমকল ও জরুরি পরিষেবা, ভূমি সংস্কার, খাদ্য সরবরাহও পুরোপুরি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোট ও উন্নয়ন বোর্ড গড়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়ার কথাও রাখা হয়নি। এখন দ্বিস্তর ভোটের প্রস্তুতি চলছে বলে জিটিএ-র দাবি। বিনয় জানান, সুপ্রিম কোর্ট চাইলে তা স্থগিতের নির্দেশ দিতে পারে। মোর্চার অভিযোগ, যে দফতর জিটিএ-কে দেওয়ার কথা, তারা বিধি ভেঙে নিত্যনতুন উন্নয়ন বোর্ড গড়ছে। এই বিষয়েও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে তামাঙ্গ জানিয়েছেন।