E-Paper

তালিকায় কারচুপির আশঙ্কা শুভেন্দুর, খোঁচা তৃণমূলেরও

শুভেন্দুর কথায়, ‘এসআইআর প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধানে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরেও গণতন্ত্রের উপরে এই আক্রমণ অত্যন্ত লজ্জার!’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:০২
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হওয়ার পরেও রাজ্যের শাসক শিবির কারচুপির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের ‘ওয়টস্যাপ গ্রুপে’ একটি কথোপকথনের ছবি সামনে এনে সোমবার তিনি দাবি করেছেন, এখনও গোটা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের চেষ্টা চালাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন। তৃণমূল অবশ্য তাঁর এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

দিনকয়েক আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ( সিইও)-র একটি ‘ওয়টস্যাপ’ বার্তার ছবি প্রকাশ করে ন্যায্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু। সমাজমাধ্যমে তাঁর দেওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক অতিরিক্ত জেলাশাসক তালিকা যাচাইয়ে বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে এক জন অফিসারকে নিযুক্ত করতে বলেছেন। ওই কথোপকথনে জেলার বিডিও-দের সংশ্লিষ্ট অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

শুভেন্দুর কথায়, ‘এসআইআর প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধানে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরেও গণতন্ত্রের উপরে এই আক্রমণ অত্যন্ত লজ্জার!’ এই পোস্টের সঙ্গে প্রশাসনিক নির্দেশ সংক্রান্ত আরও একটি কথোপকথনের ছবি প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা। তাতে একটি ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে, সমস্যা আছে, এমন আবেদন বিবেচনার নিয়ম বিচার বিভাগের আধিকারিকদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, ‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মুখ্যসচিব ডিইও, ইআরও, এইআরও-দের মাধ্যমে বিচার বিভাগের আধিকারিকদের ক্ষমতাকে পাশ কাটাতে চাইছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করে স্বচ্ছ নির্বাচনের বদলে ভোটার তালিকায় ‘রিগিং’ করতে তৃণমূল বেপরোয়া।’ এই অভিযোগের তদন্ত দাবি করে কলকাতা হাই কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের কাছে শুভেন্দু এসআইআর-এর প্রকৃত উদ্দেশ্য রক্ষার অনুরোধও করেছেন।

বিরোধী দলনেতার অভিযোগ নস্যাৎ করেছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘‘বিজেপি নেতারা এত দিন কমিশনকে দলের ইচ্ছামতো পরিচালনা করেছেন। এখন বিচার বিভাগের নজরদারিতে ওঁদের ভয় হচ্ছে!’’ তাঁর কথায়, ‘‘ভারপ্রাপ্ত বিচারপতিরা কী ভাবে কাজ করবেন, কাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন, তা পুরোপুরি প্রশাসনিক বিষয়। আর কোনও ত্রুটি থাকলে তা দেখবে সুপ্রিম কোর্ট আর হাই কোর্ট, বিজেপি নয়।’’

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর মতে, ‘‘কমিশনের ভূমিকা গোড়া থেকেই প্রশ্ন আছে। এখন বিচার বিভাগ দায়িত্ব পাওয়ার পরে সেটার মধ্যে জটিলতা তৈরি না-করলে তৃণমূল আর তৃণমূল কেন! বিজেপি চাইছে অন্যায় ভাবে নাম বাদ দিতে, তৃণমূল চাইছে ভুয়ো ভোটার রেখে দিতে। আমরা চাইছি নির্ভুল ভোটার তালিকা।’’

এসআইআর-এ বিচার বিভাগের মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরে এ দিন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘‘বাংলায় সব কাজের জন্যই কোর্টে যেতে হয়। চাকরি বাঁচাতে, চাকরি পেতে, ডিএ পেতে, দুর্গাপুজো করতে, বিসর্জন দিতে। এসআইআরও কোর্টে শেষ হবে।’’ যদিও তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের পাল্টা মন্তব্য, ‘‘অর্থহীন কথা! কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হচ্ছে না? অনেক দিন পরে দলের কাজে ফিরে কিছু বলতে হবে, তাই বলছেন!’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy