E-Paper

টেট-বিতর্কে অবস্থান স্পষ্ট করতে শিক্ষকেরা আজ আর্জি জানাবেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে

শিক্ষকদের একাংশের দাবি, ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার্স এডুকেশন’ (এনসিটিই) তাদের বিজ্ঞপ্তির একটি অনুচ্ছেদে বলেছে, ২৯ জুলাই, ২০১১ সালের আগের প্রাথমিকের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে যাঁদের নিয়োগ হয়েছে, তাঁদের টেট দিতে হবে না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৬

— প্রতীকী চিত্র।

প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকে যাঁরা কর্মরত শিক্ষক, তাঁদের সবাইকেইটেট পাশ করতে হবে। যাঁরাটেট-উত্তীর্ণ নন, তাঁদের দু’বছরের মধ্যে তা পাশ করে নিতে হবে। এই নিয়ম থেকে ছাড় পাবেন তাঁরাই, যাঁদের চাকরি থেকে অবসর নিতে পাঁচ বছর বা তারকম বাকি। গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল দেশ জুড়ে। এই রায়ের পুনর্বিবেচনার দাবি করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি লিখেছে এ রাজ্যের একাধিক শিক্ষক সংগঠন। অভিযোগ, এখনও সুরাহা হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে আজ, শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বিজেপি টিচার্স সেলের আহ্বানে কলকাতায় শিক্ষা সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছেন। সেখানে শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁর শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনাকরার কথা। শিক্ষকদের একাংশের মত, তাঁরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে সরাসরি আর্জি জানাবেন, এই বিষয়ে কেন্দ্র অবস্থান স্পষ্ট করুক। নয়তো রাজ্যের ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষকের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

শিক্ষকদের একাংশের দাবি, ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার্স এডুকেশন’ (এনসিটিই) তাদের বিজ্ঞপ্তির একটি অনুচ্ছেদে বলেছে, ২৯ জুলাই, ২০১১ সালের আগের প্রাথমিকের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে যাঁদের নিয়োগ হয়েছে, তাঁদের টেট দিতে হবে না। ২০০১ সালের নিয়ম অনুসারে তাঁদের নিয়োগ হবে।

গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে রাজ্যে কত সংখ্যক টেট পাশ শিক্ষক রয়েছেন, তার পরিসংখ্যান তৈরি করতে শুরু করে শিক্ষা দফতর। যদিও দফতরের এক কর্তা জানান, সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই রায়ের পুনর্বিবেচনার দাবিও তাঁরা জানিয়েছেন।

অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এনিয়ে টালমাটাল চললেও কেন্দ্র তাদের অবস্থান পরিষ্কার করছে না। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, “কেন্দ্র তাদের অবস্থান পরিষ্কার করছে না বলে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। আশা করি, শনিবার কলকাতায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করবেন।’’

‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘এনসিটিই নিয়ম না মেনে বেশ কিছু বিজেপি-শাসিতরাজ্যে টেট নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানতে পারছি। এ দিকে, রাজ্য বিজেপি আবার দাবি করছে, ২০১১ সালের আগে টেটবাধ্যতামূলক হবে না, এই আইন প্রণয়ন করতে হবে। সুতরাং এই দ্বিচারিতা বন্ধ করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে তাঁর অবস্থান স্পষ্টকরতে হবে।’’

বিজেপি টিচার্স সেলের রাজ্য যুগ্ম আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই বলেন, ‘‘আমরা এ নিয়ে কেন্দ্রীয়শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিচ্ছি। আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে বলব,প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন করে বলা হোক, ২৯ জুলাই, ২০১১ সালের আগের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে যাঁদের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ হয়েছে, তাঁদের টেট দিতে হবে না। তা হলেই রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষকেরা চাকরির অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাবেন। আমরা নিশ্চিত কেন্দ্র এই আইন প্রণয়ন করবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TET protests

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy