Advertisement
E-Paper

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ধুন্ধুমার

তরুণীর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ফালাকাটার রাইচেঙা গ্রাম। এ দিন, সকালে স্থানীয় এক দল বাসিন্দা জড়ো হয়ে ফের আগুন লাগিয়ে দেয় ওই তরুণীর প্রেমিক রাজেশ মাহাতোর বাড়িতে। লাগোয়া তাঁর কাকার বাড়িতে লুঠপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাজেশের কাকা পরিবার নিয়ে গ্রাম ছেড়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৫ ০১:৫৯
জ্বলছে রাজেশের দেহ। (ইনসেটে) অর্পিতা মল্লিক।

জ্বলছে রাজেশের দেহ। (ইনসেটে) অর্পিতা মল্লিক।

তরুণীর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ফালাকাটার রাইচেঙা গ্রাম। এ দিন, সকালে স্থানীয় এক দল বাসিন্দা জড়ো হয়ে ফের আগুন লাগিয়ে দেয় ওই তরুণীর প্রেমিক রাজেশ মাহাতোর বাড়িতে। লাগোয়া তাঁর কাকার বাড়িতে লুঠপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাজেশের কাকা পরিবার নিয়ে গ্রাম ছেড়েছেন।

এ দিন বেলা ১১ টা নাগাদ গ্রামের কয়েকশো বাসিন্দা ফালাকাটা থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাজেশ-সহ পরিবারের অপর তিন জন অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি জানাতে থাকেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীরা যাতে থানায় ঢুকতে না পারেন সে জন্য তড়িঘড়ি থানার কোলাপসিবেল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে চলে স্লোগান। বেলা বারোটা নাগাদ বিক্ষোভকারীরা

ফালাকাটা নতুন চৌপথিতে গিয়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। টানা আধ ঘণ্টা অবরোধ চলার পর ডান-বাম নেতাদের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়।


অর্পিতার শোকার্ত মা।

এ দিনও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল ও সিপিএম নেতারা। ফালাকাটা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তথা এলাকার তৃণমূল নেতা চঞ্চল অধিকারী ও সিপিএম-এর বীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে আবার গ্রামে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বহিরাগতরা গ্রামে ঢুকে ওই যুবকের কাকার বাড়িতে লুঠপাট চালিয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। বিকেল থেকে দু’দলের লোকজন গ্রামবাসীকে নিয়ে যুবকের কাকার বাড়ি পাহারা দিচ্ছেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন। অবিলম্বে রাজেশ সহ তাঁর পরিবারের লোকজনকে গ্রেফতার না করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

এ দিন ফের গ্রামবাসীরা তরুণীর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় পুলিশের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, যুবকের বাবা গ্রামের বড় ব্যবসায়ী। তিনি চাইছিলেন না তাঁর ছেলের সঙ্গে মৃত তরুণী অর্পিতা মল্লিকের বিয়ে হোক। দীর্ঘ দিন ধরে অর্পিতা ও রাজেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। রাজেশই ন’দিন আগে অর্পিতাকে বিয়ে করবে বলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। রাজেশের বাবা শঙ্কর জানতে পারেন তাঁর ছেলে এবং অর্পিতা সোনাপুর গ্রামে তাঁর বোনের বাড়িতে রয়েছে। সেখানে গিয়ে শঙ্করবাবু ছেলেকে অর্পিতার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য চাপ দেন। পরবর্তীতে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে অর্পিতাকে নিয়ে রাজেশ শুক্রবার সন্ধ্যায় ফালাকাটা থানায় চলে আসে। পুলিশকে সে জানিয়ে দেয় অর্পিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই। শঙ্করবাবু পুলিশ কে হাত করে পুরো ঘটনার ছক কষেছিলেন বলে গ্রামের মানুষের অভিযোগ। পুলিশ দুই জন কে ৪১ নম্বর ধারা দিয়ে শনিবার আলিপুরদুয়ার আদালতে পাঠিয়ে দেয়। লোকলজ্জায় সে আত্মঘাতী হয় বলে অভিযোগ অর্পিতার পরিবারের।


ফালাকাটায় অবরোধ ক্ষুব্ধ জনতার

তরুণীর আত্মঘাতী হওয়ার খবর জানাজানি হতেই শনিবার সন্ধ্যায় গ্রামে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রথম দফায় রাজেশের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের দু’টি ট্রাকটারেও আগুন ধরায় জনতা। সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও বাসিন্দাদের বাধায় গ্রামে ঢুকতে পারেনি ফালাকাটা থানার পুলিশ। দমকলকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ এসডিপি ও-র নেতৃত্বে পুলিশ ও দমকল গ্রামে পৌঁছে তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে।

রবিবার রাজেশ, তাঁর বাবা এবং পরিবারের অপর দু’জনের নামে মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতা তরুণীর মা গীতা মল্লিক। গীতাদেবীর কথায়, ‘‘কেন আমার মেয়েকে পুলিশ থানায় আটকে রাখল তা বুঝতে পারছি না। দোষীদের শাস্তি হলে মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’’

আলিপুরদুয়ারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস মুরোগাও বলেছেন, ‘‘পুলিশ নিজের ভূমিকা পালন করেছে। ওই তরুণীকে যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য বলা হয়েছিল। তিনি তা করেননি।’’ তৃণমূল নেতা চঞ্চল বাবুর কথায়, ‘‘অর্পিতা হয়তো ভাবতে পারেনি রাজেশ তাকে এভাবে প্রতারিত করবে। সম্পর্কের চিড় যাতে না ধরে সে জন্য হয়ত সে সে দিন অভিযোগ দায়ের করেনি। আদালতে পৌঁছনোর পর সে ভেঙে পড়ে। অপমানে আত্মঘাতী হয় সে।’’

ছবি: রাজকুমার মোদক।

Falakata Teen trinamool police north bengal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy