×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৪ জুন ২০২১ ই-পেপার

মণীশ-হত্যা: ১ মাস অকুস্থলের কাছেই লুকিয়ে ছিল আততায়ীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০৭ অক্টোবর ২০২০ ২১:০০
পুলিশের দাবি এই বাড়িতেই লুকিয়ে ছিল মণীশের আততায়ীরা। বুধবার তল্লাশি চালায় পুলিশ। নিজস্ব চিত্র।

পুলিশের দাবি এই বাড়িতেই লুকিয়ে ছিল মণীশের আততায়ীরা। বুধবার তল্লাশি চালায় পুলিশ। নিজস্ব চিত্র।

অকুস্থল থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে গত এক মাস ধরে ঘাঁটি গেড়ে ছিল মণীশ শুক্লর আততায়ীরা। মণীশ-খুনের তদন্তে নেমে ব্যারাকপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পঞ্চাননতলা রোডে একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের হদিশ পেয়েছে পুলিশ। সিআইডি সূত্রে খবর, ওই বহুতলের দোতলাতেই গত এক মাস ধরে ছিল ভাড়াটে খুনিরা।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, নাসির খান নামে এক সন্দেহভাজনকে জেরা করে ওই বাড়ির হদিশ পায় পুলিশ। পাঁচতলা বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাটে খুনিরা থাকত বলে জানা গিয়েছে। ওই ফ্ল্যাটে বালিশ, বিছানা-সহ আততায়ীদের ব্যাবহার করা বেশ কিছু জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটে ৪ থেকে ৫ জন যুবক থাকত। তারা একসঙ্গে কখনও বেরতো না বলেই জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। সব সময়ে তারা মাস্ক পরে থাকত। এলাকাবাসীর দাবি, ওরা কেউ স্থানীয় নয়। রবিবার মণীশ-খুনের পর থেকে ওই যুবকরা বেপাত্তা হয়ে যায় বলে দাবি এলাকার বাসিন্দাদের। সাইকেলে করে এক ব্যক্তি ওই যুবকদের খাবার পৌঁছে দিতেন প্রতি দিন।

Advertisement

ব্যারাকপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর সন্দীপ্তা দাস। তিনি পুর প্রশাসক উত্তম দাসের পুত্রবধূ। তবে তাঁকে এ দিন ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। গোয়েন্দারা এ দিন ওই নির্মীয়মাণ বাড়িতে যে রাজমিস্ত্রিরা কাজ করছিলেন তাঁদেরকেও জেরা করেন। গোয়েন্দাদের দাবি, ওই ফ্ল্যাটে কয়েক বার খুর্‌রম গিয়েছিল। তদন্তকারীরা খাবার সরবহকারী সাইকেল আরোহীর খোঁজ করছেন। সিআইডির এক গোয়েন্দা আধিকারিক বলেন, ‘‘খাবার যিনি পৌঁছে দিয়ে যেতেন তাঁকে পেলে ওই যুবকদের সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যাবে।”

আরও পড়ুন: মেট্রো চালু হল, সংক্রমণ ফের বাড়ল কলকাতায়, কারণ কি সেটাই?

আরও পড়ুন: উন্নাও ‘গণধর্ষিতা’র ভাইপো নিখোঁজ, ভয় দেখাতে অপহরণ?​

তদন্তকারীরা মনে করছেন, ভিন্‌রাজ্যের অপরাধীদের ‘সুপারি’ দেওয়া হয়েছিল মণীশকে খুন করতে। তাই অনেক দিন আগে থেকেই আততায়ীদের এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করে তাদের রাস্তাঘাট এবং মণীশকে চেনানো হয়। তবে তদন্তকারীদের ইঙ্গিত, দীর্ঘ দিন ধরে এই খুনের ছক করা হয়েছে। যে ভাবে খুনীদের এলাকায় আশ্রয় দিয়ে, তাদের এলাকা চিনিয়ে দেওয়া হয়েছে— এই ব্যবস্থাপনা একা খুর্‌রমের পক্ষে করা সম্ভব নয়। খুর্‌রম ছাড়াও গোটা ষড়যন্ত্রে আরও অনেকে শামিল আছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীরা নাসিরকেও জেরা করছেন। তাঁদের দাবি, নাসিরই ছিল মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং ভাড়াটে খুনিদের মধ্যে যোগসূত্র।

Advertisement