মার্চ মাসের যে কোনও দিন বেজে যাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা। ভোট প্রক্রিয়ায় পরিবহণ পরিষেবায় সহায়তা দিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্য প্রশাসন বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ করে। প্রতি বছরই বাস অধিগ্রহণ নিয়ে বেসরকারি বাসমালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের মতপার্থক্য দেখা দেয়। তাই এ বার ভোট ঘোষণার আগেই বেসরকারি বাস সংগঠন ‘জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট’-এর তরফে পরিবহণ দফতরের কাছে একটি দাবিপত্র দেওয়া হল। সেই দাবিপত্রে মোট ছয়টি দাবির কথা জানানো হয়েছে। সেই দাবির ক্ষেত্রে অন্যতম হল, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলার সময় বাস অধিগ্রহণ নিয়ে সুস্পষ্ট গাইডলাইন তৈরি করা।
বাস সংগঠনের তরফে সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওই চিঠি দু’টি পাঠিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রীর স্নেহাশিস চক্রবর্তীর ও পরিবহণসচিব সৌমিত্র মোহনের কাছে। বাস সংগঠনের দাবি, ভোটের সময় বাস অধিগ্রহণ করে যে ভাড়া এবং বাসচালকদের খোরাকি দেওয়া হয়, তা কোনও ভাবেই বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এই বিষয়ে সুস্পষ্ট গাইডলাইন তৈরি করে নির্বাচন কমিশনকে জানালে রাজ্য সরকার বেসরকারি বাসমালিকদের প্রতি সুবিচার করবে। কিন্তু পরিবহণ দফতরের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত সাধারণত একক ভাবে পরিবহণ দফতর নেয় না। সামগ্রিক ভাবে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা আলোচনার মাধ্যমে নেয়। তাই সরাসরি পরিবহণ দফতরের এই বিষয়ে কিছুই করার নেই।
তবে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন বলেন, ‘‘গত আট বছর পশ্চিমবঙ্গে বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়েনি। কিন্তু জ্বালানি-সহ বাস চালাতে যে সব আনুষঙ্গিক খরচ হয়, তা বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে। আমরা আমাদের দাবিপত্রে ভোটের সময় বাস অধিগ্রহণ নিয়ে যেমন নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির দাবি জানিয়েছি, তেমনই দাবি করেছি বেসরকারি পরিবহণ বাঁচাতে রাজ্য সরকার যেন অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ করে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘গণতন্ত্রের মহোৎসব হচ্ছে ভোট। সেই ভোটে আমাদের ভূমিকা কী থাকে, তা আর কেউ না জানুন, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা জানেন। তাই আমরা আমাদের ভূমিকার জন্য তাঁদের বিচার-বিবেচনার উপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে তাঁরা বেসরকারি বাস পরিষেবা বাঁচিয়ে রাখার জন্য যে পদক্ষেপ করার, তা করবেন বলেই আমরা আশা করি।’’