বুথ (ভোটকেন্দ্র) পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগে। তবে আপাতত সেই পথে হাঁটছে না জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শেষ মুহূর্তে অবস্থানের বদল না ঘটলে এখনকার ৮০ হাজার ৬৮১টি বুথই থাকবে ভোট গ্রহণের জন্য। তবে বহুতলে বুথসংখ্যা কিছুটা বাড়ছে বলে খবর। বুধবার ফের কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে রাজ্য এবং বাহিনী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন।
এখনও পর্যন্ত নাম বাদ পড়ার যে তালিকা, তাতে কমবেশি ৭৪ লক্ষ নাম থাকতে পারে। এর পরে তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির তালিকাভুক্ত ভোটারদের যে যাচাই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা শুরু করেছেন, তাতে আরও নাম বাদ গেলে সংখ্যাটা বাড়তে পারে। তবে মাথায় রাখতে হবে, ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনের পরবর্তী সংখ্যাগুলি। ফলে যোগ-বিয়োগের দাঁড়িপাল্লায় যে অবস্থানই হোক না কেন, আপাতত বুথ সংখ্যা আর বাড়ানো হচ্ছে না। এক কর্তার কথায়, “চূড়ান্ত এবং সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে পরিস্থিতি বুঝে দরকারে সিদ্ধান্তের বদল হতে পারে।” তবে ৫৭টি বহুতলে বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে ২১টি বহুতল তালিকাভুক্ত হয়েছিল। বাকিগুলো হয়েছে সম্প্রতি। জানা গিয়েছে, তিনশোর বেশি ভোটার সংখ্যা রয়েছে এমন বহুতলগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার ১৬, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ২৫, দক্ষিণ কলকাতার ১, উত্তর কলকাতার ৫, হাওড়ার ৪, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের তিনটি করে আবাসন।
এ দিন রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কো-অর্ডিনেটরকে নিয়ে ফের বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। দু’দফায় যে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী আসছে, তা কোথায় কত মোতায়েন করা দরকার, তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। রাজ্য পুলিশ প্রয়োজনীয় এলাকার একটি তালিকা জমা দিয়েছে। কমিশনও পৃথক ভাবে উপদ্রুত এলাকাগুলির তালিকা তৈরি করেছে। সেখান থেকে কোন এলাকাগুলিতে কত বাহিনী দেওয়ার দরকার রয়েছে, তা জানাবে রাজ্য। কারণ, ভোট ঘোষণার আগে আইনশৃঙ্খলা এবং বাহিনীর ব্যবহার রাজ্যের হাতেই আছে।
অন্য দিকে, মঙ্গলবারের গোলমালের ঘটনায় কলকাতার পুলিশ কমিশনারের থেকে রিপোর্ট চেয়েছেন সিইও। ওই দিন সিইও অফিসে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তখনই তৃণমূল প্রভাবিত বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। জুতো প্রদর্শন থেকে গোলমাল— বাদ যায়নি কোনও কিছু। প্রশ্ন ওঠে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। আইন ভেঙে তেমন ঘটনা কী ভাবে ঘটল, তা নিয়ে অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তার পরেই কলকাতার পুলিশ কমিশনারের থেকে রিপোর্ট চায় সিইও কার্যালয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)