রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তিনি আপাতত সিআইডি হেফাজতে।
প্রতারণা ছাড়াও অভিযোগ, তিনি জাল চিকিৎসক। সেই জন্যই তাঁর ঠাঁই হয়েছে গারদে। আর নরেন পাণ্ডে নামে এ-হেন এক ‘জাল’ চিকিৎসককেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিজেদের একটি সম্মেলনের অন্যতম বক্তা করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান অ্যাসেসিয়েশন বা আইএমএ-র কলকাতা শাখা।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ৩ জুন (কাল, শনিবার) ওই সম্মেলন হওয়ার কথা। সিআইডি নরেনকে গ্রেফতার করার পরেও ওই সম্মেলনের বক্তা-তালিকা পরিবর্তন হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় জ্বলজ্বল করছে নরেনের নাম। ফেসবুকের পোস্ট জানাচ্ছে, সম্মেলনে তাঁর বলার কথা শ্বাসনালির অ্যালার্জি নিয়ে। এক জন ‘জাল’ ডাক্তারকে বক্তার তালিকায় রেখে এ ভাবে গুরুত্ব দেওয়ায় চিকিৎসকদের অধিকাংশই ক্ষুব্ধ। আইএমএ সূত্রের খবর, নরেনের নাম অনুষ্ঠানসূচিতে দেখেই অধিকাংশ চিকিৎসক অনুষ্ঠান বয়কট করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
ওই সম্মেলনের অতিথি-তালিকায় রয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবতোষ বিশ্বাস। চন্দ্রিমাদেবীর বলেন, ‘‘আমি জানতাম না। কার্ডে তো অনুষ্ঠানসূচি লেখা ছিল না। ওঁদের অবশ্যই (নরেনের) নামটা কেটে দেওয়া উচিত ছিল। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’’ ভবতোষবাবু এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। আর সুশান্তবাবুর প্রতিক্রিয়া, ‘‘এই রকম খবর থাকলে আর যাই কী করে?!’’
অনুষ্ঠানের অন্যতম বক্তা হিসেবে নাম রয়েছে আইএমএ-র রাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক, তৃণমূলের চিকিৎসক-নেতা শান্তনু সেনের। ‘‘নরেন পাণ্ডের নাম
দেখা মাত্র জানিয়ে দিয়েছি, আমি সেখানে থাকতে পারব না,’’ বলেন শান্তনুবাবু।
সিআইডি গ্রেফতার করার পরেই আইএমএ থেকে নরেনের নাম বাদ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তার পরেও আইএমএ-র অন্যতম বড় শাখার অনুষ্ঠানে বক্তা-তালিকায় তাঁর নাম থেকে গেল কী ভাবে?
আইএমএ-র কলকাতা শাখার সচিব প্রশান্ত ভট্টাচার্য জানান, নরেন বেলভিউয়ের মতো নামী জায়গায় প্র্যাকটিস করেন। তাই তাঁর নাম
রাখা হয়েছিল। পরে সব কীর্তিকলাপ জেনে নামটা বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু
কে যে তার পরেও নামটা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে দিল, তা বুঝতেই পারছেন না প্রশান্তবাবু। আইএমএ-র রাজ্য শাখার সভাপতি নির্মল মাজি বলেন, ‘‘নামটা তালিকায় আছে বলে জানা মাত্র সব বাতিল করে দিয়েছি।’’