বহু টানাপড়েনের পর পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ উন্নয়নে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ছাড়তে শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকার। কিন্তু আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে। সে কথা মাথায় রেখে নিজের উদ্যোগে গ্রামীন উন্নয়নের অর্থ বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েত ভোটের আগে গ্রামীণ এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৭১৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরাসরি পঞ্চায়েত দফতরকে ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য দফতর মারফত বাকি বরাদ্দ অর্থ গ্রামের উন্নয়নে খরচ করা হবে। রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (আরআইডিএফ)-এর তহবিল থেকে ১৩টি দফতরের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য মূলত ওই টাকা খরচ করবে পঞ্চায়েত দফতর। রাজ্য সরকারের এক আধিকারিকের কথায়, “গত বছর যখন কেন্দ্রীয় সরকার গ্রামীণ সড়ক যোজনা প্রকল্পে অর্থ বন্ধ করে দিয়েছিল তখনই রাজ্য সরকার এই বিষয়ে তথ্য জোগাড় করতে উদ্যোগ শুরু করেছিল। সেই পর্যায়ে ডিসেম্বর মাসে আরআইডিএফ থেকে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পে এই পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়নের প্রাপ্য টাকা দিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন দফতর গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে ইতিমধ্যে ৫৮৪ কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্যকে। এই প্রকল্পে মোট ১৫০০ কোটি টাকা পাওয়ার কথা রাজ্য সরকারের। পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে অর্থ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ধাপে ধাপে পরবর্তী পর্যায়ে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার। অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পেও রাজ্যকে ৮২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রীকে জানিয়েছেন দীর্ঘ এক বছর ধরে আটকে থাকা একশো দিনের কাজের টাকাও শীঘ্রই রাজ্যকে দেওয়া হবে। তাই পঞ্চায়েত দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা মনে করছেন আগামী ১ বছরে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই বরাদ্দে গ্রামীণ উন্নয়নে ভাল রকম কাজ করা যাবে।
আরও পড়ুন:
তবে রাজ্য সরকারের নিজ উদ্যোগে গ্রামীণ উন্নয়নে আরআইডিএফের তহবিল থেকে যে বরাদ্দ পেয়েছে, তা কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ঘোষণার আগেই স্থির হয়ে গিয়েছিল। অনেকের মতে, আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনকে মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার এই বরাদ্দের বন্দোবস্ত করেছিল। কারণ কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের জেরে যে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন দফতর আদৌ রাজ্যকে প্রাপ্য বরাদ্দ দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে ছিল খোদ নবান্ন। কিন্তু রাজ্যের নিজের বরাতের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ মিলে যাওয়ায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক দল অবস্থানগত ভাবে অনেক বেশি সুবিধা পাবে। কারণ পঞ্চায়েত ভোট নির্ভর করে গ্রামীণ জনতার ওপর। গ্রামের উন্নয়ন দেখলে তারা যে স্বাভাবিক কারণেই শাসকদলের পক্ষে মতামত দেবেন সে ব্যাপারে একমত শাসক দলের নেতারা।