Advertisement
E-Paper

যদি আকর্ষণ করে গবেষণা

অনেকে বেছে নিচ্ছেন ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি। খোঁজ দিচ্ছে আনন্দবাজার।রিসার্চ করার জন্য গোড়া থেকেই যাদের আগ্রহ রয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি’ কোর্সগুলির দিকে ঝোঁক দেখা যায় সেই সব মেধাবী পড়ুয়াদের। একসঙ্গে মাস্টার্স আর পিএইচডি। সময়সীমা পাঁচ থেকে সাত বছর। অল্প সময়ে, কম ঝঞ্ঝাটে একই প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনার এই সুযোগ এখনও শুধু বিজ্ঞানের পড়ুয়াদের। অনেকে বেছে নিচ্ছেন ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি। খোঁজ দিচ্ছে আনন্দবাজার।

শেষ আপডেট: ১৩ অগস্ট ২০১৫ ০০:০৫

রিসার্চ করার জন্য গোড়া থেকেই যাদের আগ্রহ রয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি’ কোর্সগুলির দিকে ঝোঁক দেখা যায় সেই সব মেধাবী পড়ুয়াদের। একসঙ্গে মাস্টার্স আর পিএইচডি। সময়সীমা পাঁচ থেকে সাত বছর। অল্প সময়ে, কম ঝঞ্ঝাটে একই প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনার এই সুযোগ এখনও শুধু বিজ্ঞানের পড়ুয়াদের।

কী সুবিধে ইন্টিগ্রেটেড কোর্সের? বিশ্বভারতীর উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্ত আগে বোস ইনস্টিটিউট এবং কলকাতার আইআইএসইআর প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন। দুটিতেই ইন্টিগ্রেটেড কোর্স চালু করার অন্যতম রূপকার তিনি। সুশান্তবাবু বলেন, এর প্রধান সুবিধে চারটি। এক, বিজ্ঞানের গবেষণার ঝোঁক অল্প বয়সে দেখা যায়। তাই গোড়াতেই ছাত্রদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগানো। দুই, নানা স্তরে সিলেবাসে পুনরাবৃত্তি এড়ানো। তিন, ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’, অর্থাৎ নানা বিষয়ের সংযোগে গবেষণা করার সুযোগ বাড়ানো। চার, অল্প বয়সে এ দেশের পড়ুয়াদের পিএইচ়়ডি ডিগ্রি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সুযোগ বাড়ানো।

আইআইএসইআর কলকাতায় বায়োলজিক্যাল সায়েন্স, কেমিক্যাল সায়েন্স, আর্থ সায়েন্স, ফিজিক্যাল সায়েন্স ও ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্স-এর উপর পোস্ট ব্যাচেলর ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি করা যায়। জাতীয় স্তরে অ্যাপটিটিউড টেস্ট (জ্যাম, জেস্ট) পাশ করার পর আবেদন জানালে সরাসরি ইন্টারভিউতে ডাকা হয়। নয়তো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করেও সুযোগ পাওয়া যায়। আইআইটি কানপুর, ভূবনেশ্বর, মুম্বই, খড়্গপুরে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচ়ডি করার সুবিধা আছে। এম টেক করতে গেলে যেমন গেট আর এমএসসি করতে গেলে যেমন জ্যাম (জয়েন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট ফর এমএসসি’স) দিতে হয়, এক্ষেত্রেও তেমনটাই। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও আইআইটি কানপুরে ‘জ্যাম’ দিয়ে ফিজিক্সে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি করা যায়। আইআইটি ভূবনেশ্বরে কেমিস্ট্রি, আর্থ সায়েন্স, ম্যাথমেটিক্স, ফিজিক্স। আইআইটি মুম্বইয়ে অ্যাপ্লায়েড জিওলজি, অ্যাপ্লায়েড জিওফিজিক্স, বায়োটেকনোলজি, কেমিস্ট্রি, এনার্জি, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, অপারেশন রিসার্চ এবং ফিজিক্স নিয়ে পড়ার সুয়োগ আছে। আইআইটি খড়্গপুরে কেমিস্ট্রি, জিওলজি, ম্যাথমেটিক্স ও ফিজিক্স পড়া যায় ইন্টিগ্রেটেড কোর্সে।

এ ছাড়াও ভূবনেশ্বরের ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স, নয়াদিল্লির নিউক্লিয়ার সায়েন্স সেন্টার, বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, এলাহাবাদের হরিশচন্দ্র রিসার্চ ল্যাবরেটরি, আহমেদাবাদের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি করা যায়।

খড়্গপুরের আইআইটি-তে এম টেক পড়তে গিয়ে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডিতে চলে গিয়েছিলেন খড়্গপুরেরই বাসিন্দা সৌরভ মণ্ডল। তাঁর কথায়, ‘‘ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি-র সবচেয়ে সুবিধা হল যেখানে মাস্টার্স করছি, সেখানেই পিএইচডি করতে পারব। তার চেয়েও বড় সুবিধা হল এম টেক-এর দ্বিতীয় বর্যে যাঁর তত্ত্বাবধানে প্রোজেক্ট করছিলাম, তাঁরই কাছে পিএইচডি করতে পারব। আলাদা করে পরে এই খড়্গপুরেই পিএইচডি করলে সুপারভাইজরকে না-ও পেতে পারতাম।’’

এছাড়াও এম টেক করার জন্য যে স্কলারশিপ মেলে, ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডিতে তার চেয়ে বেশি অঙ্কে স্কলারশিপ পাওয়া যায়। আবার ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি করলে পিএইচডি শুরুর চারটে কোর্স মাস্টার্সের দ্বিতীয় বছরেই করে সময় কিছুটা বাঁচানো যায়।

তবে শুধু সুবিধা নয়, কিছু অসুবিধার দিকও আছে। কানপুর আইআইটিতে পিএইচডি করছেন শুভদীপ মিত্র। তিনি আগে খড়্গপুর আইআইটি থেকে এম টেক করেছেন। শুভদীপ বলেন, ‘‘ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি-র একটা অসুবিধা হল মাস্টার্সের ডিগ্রিটা একেবারে পিএইচডি করার পরে মেলে। ফলে গবেষণা করা জীবনের স্থির লক্ষ্য না হলে ঝুঁকির হয়ে যেতে পারে।’’

অনেকে মনে করেন, ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডিতে সময় কম লাগে। ২+৩ ছকে দু’টো ডিগ্রি পাঁচ বছরেই হয়ে যাবে। বাস্তবে কিন্তু তেমনটা না-ও হতে পারে। মাস্টার্সের সময়টা বাঁধা হলেও গবেষণায় কতটা সময় লাগবে, তা আগে থেকে বলা যায় না।

সবিস্তার দেখতে ক্লিক করুন।

সবিস্তার দেখতে ক্লিক করুন।

কলেজে পড়ার ফাঁকে সমাজসেবা, পথ দেখাবে উচ্চশিক্ষার

ভাল ‘স্যাট স্কোর’ ছিল। ‘রেফারেন্স লেটার’ও ছিল। তবু ইউএস-এর একটি খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কলারশিপের আবেদন নামঞ্জুর হয়ে গিয়েছিল নৈহাটির জয়ব্রত মিত্রের। কারণ হিসাবে ওই প্রতিষ্ঠান দেখিয়েছিল ভলান্টিয়ারিং-এর কোনও অভিজ্ঞতা না থাকা। জয়ব্রতর আফশোস, তাঁদের কলেজে এনএসএস-এর (ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম) ইউনিট ছিল। ঘাড় গুঁজে পড়াশোনায় ব্যস্ত জয়ব্রত এনএসএস-এর সমাজসেবামূলক কাজকে ‘সময় নষ্ট’ বলেই মনে করত সেই সময়। সময় নষ্টের সেই কাজের অভিজ্ঞতা না থাকাটা যে এক দিন উচ্চশিক্ষার পথে অন্তরায় হবে, কে জানত?

জয়ব্রত একা নয়। মেধাবী বহু পড়ুয়াই সিলেবাসের বৃত্তে শেষ করে ফেলে কলেজ জীবন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার কথা হয়তো তাঁরা ভাবছেন না। কিন্তু চাকরি তো চাইছেন? জেনে রাখুন আপনার বায়োডাটায় সমাজসেবামূলক কাজের অভিজ্ঞতা আলাদা গুরুত্ব আনে।

সমাজসেবামূলক কাজ স্ট্রেস কমায়, শারীরিক ভাবে আরও সক্ষম করে তোলে। পেশাগত দক্ষতা বাড়ায়। বিভিন্ন ধরনের কাজ নতুন পেশার দিক খুলে দেয়।

এ তো গেল নিজের কথা। সমাজেও কমিউনিটি সার্ভিসের মূল্য অসীম। সমাজসেবার মাধ্যমে যে অর্থের সাশ্রয় হয়, তা এলাকার অন্য উন্নয়নের কাজে লাগে। আবার বৃদ্ধাশ্রমে বা ক্রেশে কাজ করে পারিবারিক বন্ধনের মূল্য বোঝা যায়। বিনামূল্যে দুঃস্থদের পড়িয়ে বা স্বাক্ষরতামূলক মিশনে নেমে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করা যায়। সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিক কুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ কমানো যায়।

বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে সমাজসেবামূলক কাজ করা যায়। কাজ শেষে ওই সংস্থা থেকে একটি সার্টিফিকেট নিয়ে রাখবেন। পরবর্তীকালে চাকরি পেতে বা উচ্চশিক্ষায় যা কাজে লাগতে পারে।

আমাদের দেশে এনএসএস-এর মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেই সমাজসেবা গেঁথে গিয়েছে। ১৯৬৯ সালে মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধীর জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ হাজার ছাত্রকে নিয়ে এই প্রকল্পের সূচনা হয়। এখন দেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে প্রায় তিন কোটি পঁচাত্তর লক্ষ ছাত্র এনএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত।

Tips Integrated PHD IISIR khagragpur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy