পশ্চিমবঙ্গে যাঁরা এই প্রথম বার ভোট দিচ্ছেন, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া অন্য কারও শাসন দেখেননি। এ কথা মাথায় রেখে রাজ্যে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোটব্যাঙ্কের কাছে নিজেদের প্রচার পৌঁছে দিতে চাইছেন বিজেপি নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে দলের নেতা কর্মীরা এই অভিযোগও সামনে নিয়ে আসছেন যে, তৃণমূলের জমানায় যুব সম্প্রদায়ের কোনও ভবিষ্যৎ নেই। নতুন শিল্প নেই, পুরনো সংস্থাগুলি গুটিয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে বাড়ছে বেকারত্ব।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল আবার এর পাল্টা বয়ান নিয়ে যেতে চাইছে ভোটদাতাদের কাছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় জেলায় গিয়ে যুবশক্তির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন সভা ও সমাবেশে যুবকদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্য, “কেন জেন জ়ি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করবে তার অন্তত দু’ডজন কারণ রয়েছে। আমরা তা মানুষের কাছে তুলে ধরছি।”
নেপাল ও বিশেষত বাংলাদেশের জেন জ়ি-র জুলাই আন্দোলন উপমহাদেশের ভূ-রাজনীতিতে নতুন দিক খুলে দিয়েছে। অঙ্গরাজ্য হলেও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে দীর্ঘতম সীমান্ত। এ পারের জেন জ়ি-র হতাশার বিরূপ প্রভাব যাতে সমাজের উপর না পড়ে, নির্বাচনের আগে সে দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে মমতা, অভিষেককে। ডেরেক বলেন, “২০১১ সালে বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২। এখন বেড়ে হয়েছে ৪৭টি। ১৪টি নতুন মেডিকেল কলেজ, ৫১টি নতুন সরকারি কলেজ এবং ৫০০টি নতুন আইটিআই হয়েছে। রাজারহাট নিউ টাউনে ২০০ একর জুড়ে বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি টেক হাবে ৪১টি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা রয়েছে। ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য ১১টি সংস্থা জমি নিয়েছে। ছ’টির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাপানি সংস্থা। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চিপ প্রস্তুতকারক সংস্থা গ্লোবাল ফাউন্ড্রিজ় ইনকর্পোরেটেডের একটি সেমিকনডাক্টর ইউনিট রয়েছে কলকাতায়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি রফতানি ২৫,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যা ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির ইঙ্গিত।”
বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের যদি এতই ভাল অবস্থা হত তা হলে প্রধানমন্ত্রীকে সিঙ্গুরের খালি মাঠে এসে শিল্পায়নের বার্তা দিতে হত না। লোকসভার প্রশ্নোত্তরেই দেখা গিয়েছে, গত এক দশকে প্রায় সাত হাজার বেসরকারি বড় মাপের সংস্থা (যারা শেয়ারবাজারে নথিভুক্ত) রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে। বিজেপি-র অভিযোগ, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেটরাজের দাপটে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা বাংলায়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)