ভোটে দল-বিরোধিতার অভিযোগে হাওড়ায় ১০ ও উত্তর দিনাজপুরে ৭ জনকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সঙ্গে রাজ্যের আরও ৭ জেলায় নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে ১৮৯ জন স্থানীয় নেতাকর্মীকে।
হাওড়ায় দল-বিরোধী কাজকর্ম ও ‘গোঁজ’ প্রার্থীদের নিয়ে কঠোর অবস্থান নিল তৃণমূল। দলের পদে থেকেও নির্দল ও অন্য দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিযোগে ১০ জনকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছেন হাওড়া সদর জেলা কমিটির সভাপতি কল্যাণ ঘোষ। তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘ওই নেতা-কর্মীরা দলীয় পদে থেকেও তৃণমূলের প্রার্থীর বিরুদ্ধেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাই রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, দলীয় নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে আগেও হাওড়ায় আরও চার জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এ দিন বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব কঠোর। দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও রকম কাজই মেনে নেওয়া হবে না।’’
পঞ্চায়েত ভোটে ‘গোঁজ’ প্রার্থী নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বারবার সতর্ক করার পরও বিক্ষুব্ধদের নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে তৃণমূল। কিছু জায়গায় তাঁদের নিরস্ত করা গেলেও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করাও শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহের রাজ্যের একাধিক জেলার ৫৬ জনকে সাসপেন্ড করা হয়। বীরভূম, হুগলি, হাওড়া, ঝাড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে এ দিন আরও ১৮৯ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের পাঁচ জন ‘গোঁজ’ ও তাঁদের সহযোগিতা করার অভিযোগে দলের স্থানীয় দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করেন জেলা তৃণমূল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল। তিনি বলেন, “দলের ওই ৭ জন ক্রমাগত দল-বিরোধী কাজ করে চলেছেন। তাঁরা আগামী ৮ জুলাইয়ের আগে লিফলেট বিলি করে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভোটারদের জানালে তাঁদের ফের দলে নেওয়া হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)