লোকসভায় অরুণ জেটলিকে সুষ্ঠু ভাবে বাজেট পেশ করার সুযোগ করে দেওয়া থেকে শুরু করে গত দু’মাসে তৃণমূলের তরফে ‘সমঝোতার’ বার্তা কম দেওয়া হয়নি! তাতে যখন সাড়া পাওয়া যাচ্ছেন না, উল্টে বাংলার রাজনীতিতে থাবা বসাতে অমিত শাহেরা ক্রমশ আগ্রাসী অবস্থান নিচ্ছেন, তখন কিছুটা ফোঁস করার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূলও। সংসদে পণ্য পরিষেবা কর (জিএসটি) সংক্রান্ত বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে মোদী সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতে রাজ্যসভায় সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করল তৃণমূল। স্বল্প সঞ্চয়ে সুদ কমানো থেকে শুরু করে কেন্দ্রের বিভিন্ন ‘জনবিরোধী’ নীতির বিরুদ্ধে সংসদে নতুন উদ্যমে সরব হওয়ার সিদ্ধান্তও নিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
রাজ্যসভায় তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন সোমবার বলেন, ‘‘বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় ইন্টিগ্রেটেড জিএসটি বিল নিয়ে বিতর্ক হবে। ওই বিলে ৬টি সংশোধনীর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে তৃণমূল।’’ প্রস্তাবের মূল বক্তব্য হল, পাঁচ বছর অন্তর করের হার স্থির করার ব্যাপারে জিএসটি কাউন্সিলের হাতে একচ্ছত্র অধিকার রাখলে চলবে না। কাউন্সিল করের যে হার স্থির করবে, তাতে সংসদের সম্মতি বাধ্যতামূলক করতে হবে। তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে কংগ্রেসও একই ধরনের সংশোধনী দিয়েছে। কৌশল হল, ভোটাভুটিতে সমস্ত বিরোধী মিলে রাজ্যসভায় সরকারকে পরাস্ত করা।
অথচ ক’দিন আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। বরং অর্থবিলে বাকি বিরোধীরা যখন সংশোধন এনে ভোটাভুটি চাইছে্ন, তখন রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট করেছিলেন ডেরেকরা। কিন্তু রাতারাতি তাঁদের অবস্থান বদলে যায় গত শুক্রবার থেকে। বিজেপি সে দিন ঘোষণা করে বাংলায় প্রভাব বাড়াতে নবর্বষের আগেই রাজ্যে কর্মিসভা করবেন তাঁদের ৪০ তাবড় নেতা। শীঘ্র নবান্ন অভিযানও করবে বিজেপি। তৃণমূলের একাধিক নেতার কথায়, ‘‘এর মধ্যে দিয়েই পরিষ্কার, বাংলায় ক্রমশ আমাদের চাপে ফেলতে চাইছেন মোদী-অমিত শাহ। এর পরেও সংসদে নরম মনোভাব দেখালে মনে হবে, তৃণমূল বুঝি ভয় পেয়েছে! তাই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পুনরায় ফোঁস করা রাজনৈতিক ভাবেই জরুরি হয়ে পড়েছে।’’ ফোঁস করার ইঙ্গিত দিয়েই উত্তরপ্রদেশে বিজেপি-র জয় ইভিএম ‘দখল’ করে কি না, ইঙ্গিতে সেই প্রশ্নও এ দিন খড়গপুরের সভা থেকে তুলে দিয়েছেন স্বয়ং মমতা।