Advertisement
E-Paper

TMC: বিতর্কিত মন্তব্য, আফরোজ়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে দল

নদিয়ায় নাবালিকা নির্যাতন নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা-১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিমান হাজরা

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২২ ০৭:৪৪
আফরোজ সরকার।

আফরোজ সরকার। নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূলের ভগবানগোলা ১ ব্লকের সভাপতি আফরোজ় সরকারকে তাঁর দলের অন্দর থেকে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে।

নদিয়ায় নাবালিকা নির্যাতন ও তার মৃত্যু ঘিরে রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই শুক্রবার মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা-১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি আফরোজ় সরকার ওরফে রাজেশ বলেন, ‘‘প্রমাণ দেখান যে, ধর্ষণ করেছে। যদি বেশি বাড়াবাড়ি করো, ঠান্ডা করে দেব। ঠান্ডা করতে গেলে কিন্তু ডান্ডার দরকার আছে।’’ তাঁর এই বক্তব্য সহ একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। ভিডিয়োটির সত্যতা আনন্দবাজার যাচাই করেনি। আফরোজ় অবশ্য দাবি করেন, সিপিএমের একটি মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করার পরে তিনিই ওই কথা বলেছেন। আবার স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, এমন মন্তব্য মিছিলে কিংবা তাঁদের তরফ থেকে কেউ করেছেন বলে তাঁরা জানেন না।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আফরোজ়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন জেলা নেতারা। জেলা তৃণমূল নেতা অশোক দাস জানান, দলে আলোচনা চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পথেই এগোচ্ছে দল। তাঁকে ব্লক সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এমন কোনও খবর অবশ্য জানা নেই আফরোজ়ের। শনিবার তিনি বলেন, “আমি তো বলেইছি পদের ভয় করি না। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি, থাকব।” ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর মুর্শিদাবাদের তৃণমূল সাংসদ তাহের খান ছাড়া আর কোনও নেতাই ফোন করেননি আফরোজ়কে। তিনিও ফোন করেননি কোনও দলীয় নেতাকে।

এই চাপের মুখে আফরোজ় একটু নরমও হয়েছেন। আফরোজ় এ দিন বলেন, “সাংসদ আবু তাহেরদা আমায় ফোন করেছিলেন। তিনিও ডান্ডা মারার কথা বলা উচিত হয়নি বলে পরামর্শ দিয়েছেন। আমিও মনে করি ও কথা না বলেও অন্য ভাবে প্রতিবাদটা করলে ভাল হত। ত?? বে আমার বলা কথার মধ্যে তো আরও অনেক কথা ছিল। সেগুলো বাদ দিয়ে শুধু ডান্ডা মারার ঘটনাটাই বড় হয়ে গিয়েছে। আমি প্রায় ৫ বছর ব্লক সভাপতি রয়েছি। কাউকে কখনও একটা ডান্ডাও মেরেছি কি?’’

ভগবানগোলার প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূলের চাঁদ মহম্মদ এ দিন বলেন, “ব্লক সভাপতির এমন কথা বলা ঠিক হয়নি। নিজেকে মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে বলা, ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া অন্যায়। দলের কেউ এ সব সমর্থন করে না। দল যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেবে।”

আফরোজ়ের স্ত্রী জলি বেগম জেলা পরিষদের সদস্য। আফরোজ় এক সময় কংগ্রেসের কর্মী ছিলেন। পরে সাগির হোসেনের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। আবু তাহের জেলা সভাপতি থাকার সময় আফরোজ় ব্লক সভাপতি হন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy