বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সম্প্রতি কলকাতা এসে জানিয়ে গিয়েছেন তাঁদের লক্ষ্য এ বার বাংলা। সর্বক্ষণের কর্মীবাহিনী নামিয়ে বুথে যাওয়ার কর্মসূচিও নিয়েছে বিজেপি। তার পাল্টা তৃণমূলকে নাগাড়ে পথে নামার নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসংযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে হাতিয়ার করেই এ রাজ্যে বিজেপিকে রোখার দাওয়াইও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে ২৬ মে সর্বত্র নজরুল জয়ন্তী পালনের মাধ্যমে। বিজেপির রামনবমীর পাল্টা তৃণমূল বহু স্থানে হনুমানজয়ন্তী পালন করেছে। এ বার দলীয়ভাবে ধুমধাম করে নজরুলের জন্মদিন পালনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই জনসংযোগের মাধ্যম হতে চলেছে রক্তদান শিবির। প্রথমে পুলিশ রক্তদান শিবির করে ২০ হাজার বোতল রক্ত জোগাড় করে দেবে। এর পরে ২৭ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ব্লক এবং শহরে সান্ধ্যকালীন রক্তদান করবে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা যতটুকু থাকবে ততটাই রক্ত জোগাড়ের নিদান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পরে মমতার বক্তব্য, ‘‘একটু রক্তের অভাবে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। একটু রক্ত দিয়ে সাহায্য করতে তাই পুলিশ এবং দলের কর্মীদের রক্তদান শিবির করতে বলেছি।’’
গত বছর ১৯ মে বিধানসভা ভোটের ফল বেরিয়েছিল। ফলে দ্বিতীয় দফার তৃণমূল সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জেলায় জেলায় প্রচারেও জোর দিতে বলেন দলনেত্রী। সে জন্যই তৃণমূল সরকারের উন্নয়নকে সামনে রেখে ২৭ মে থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সরকার এবং দলের তরফে করা হবে।
ওই সময়ে মহকুমা ভিত্তিক রাজনৈতিক-সাংগঠনিক সম্মেলনও করবে তৃণমূল। সম্মেলন পর্ব মিটলেই ২৮ জুন থেকে ১৮ জুলাই ছোট ছোট পথসভা করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যা আসলে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠক। এ ভাবে পথে থেকে বিজেপির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সার্বিক ভাবে রাজনৈতিক মোকাবিলা করতে হবে বলে কর্মীদের উজ্জীবিত করেছেন তৃণমূল নেত্রী। দলের সাংগঠনিক স্তরেও বেশ কিছু রদবদল করে মমতা দলকে এ দিনের বৈঠক থেকেই সংগঠিত করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। দলের সহ-সভাপতি পদে নির্বেদ রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে শশী পাঁজাও স্থান পেয়েছেন বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। এ ছাড়া দলের অন্যান্য পদাধিকারীর বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়নি।