Advertisement
E-Paper

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনুর সঙ্গে ‘একান্ত’ বৈঠকে তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমণি! আবার কি দলবদল করবেন?

মুকুটমণি দাবি করেন, ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে তিনি কেবল শান্তনু নন, তৃণমূলের বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুরের সঙ্গেও দেখা করেছেন। মধুপর্ণা যদিও তা মানেননি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৩:০০
(বাঁ দিকে) শান্তনু ঠাকুর। মুকুটমণি অধিকারী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) শান্তনু ঠাকুর। মুকুটমণি অধিকারী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

আরও একটি নির্বাচন রাজ্যে। আর তার আগে আবার মুকুটমণি অধিকারীর দলবদলের জল্পনা শুরু হল।

শনিবার সন্ধ্যায় ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক করলেন রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমণি। সূত্রের খবর, সেই বৈঠক হয়েছে রুদ্ধদ্বার। তার পরেই শুরু হয়েছে জল্পনা, তবে কি ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে আবার নিজের পুরনো দল বিজেপি-তে ফিরছেন মুকুটমণি? শান্তনু যদিও দাবি করেছেন, ঠাকুরবাড়ির মন্দিরে পুজো দেওয়ার পরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মতুয়া নেতা। একই কথা জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়কও। তবে তাতে জল্পনায় ইতি পড়ছে না।

শনিবার সন্ধ্যায় ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছিলেন মুকুটমণি। সূত্রের খবর, ঠাকুরবাড়ির নীচের তলায় শান্তনুর দফতরে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে দু’জনের। বৈঠক শেষে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, ‘‘আমি নতুন গাড়ি কিনেছি, তাই বড়মাকে পুজো দিতে এসেছিলাম। সেই সূত্রেই শান্তনুদার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়।’’ মুকুটমণি আরও দাবি করেন, তিনি কেবল শান্তনু নন, তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর এবং বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুরের সঙ্গেও দেখা করেছেন। মধুপর্ণা যদিও বলেন, ‘‘মুকুটমণির সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি। উনি কেন এমন দাবি করছেন, জানি না।’’ আর তাতেই বেড়েছে জল্পনা।

শান্তনু যদিও সাফ বলেন, ‘‘ঠাকুরবাড়ি সকলের জন্য খোলা। কেউ এলে আমি ফেরাতে পারি না। এখানে রাজনীতির কোনও গন্ধ নেই।’’ তিনি মুকুটমণির সুরেই আরও জানান, নিজের গাড়ির পুজো দিতে তৃণমূল বিধায়ক ঠাকুরবাড়ির হরি মন্দিরে যান। পুজো শেষে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে গিয়েছেন। এর সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই বলে তাঁর দাবি।

তবে বিজেপি সূত্রের খবর, সেখানে ফেরার ইচ্ছা নিয়েই শান্তনুর সঙ্গে দেখা করেন মুকুটমণি। কথোপকথনে ইচ্ছার কথা নিজেই জানান। বিজেপির ওই সূত্রের দাবি, রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা আসনে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে লড়তে চান বলে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন।

মুকুটমণি বিজেপি-তে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তাঁর ফেরার পথ মসৃণ নয়, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির বিধায়ক থাকা অবস্থায় দল ছাড়েন তিনি। রানাঘাট লোকসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে লড়েন। ওই কেন্দ্রে বিজেপির জগন্নাথ সরকারের কাছে হারেন মুকুটমণি। পরে উপনির্বাচনে সেই রানাঘাট দক্ষিণ আসন থেকেই জিতে বিধায়ক হন। সূত্রের খবর, ওই এলাকায় বিজেপির রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার নেতা-কর্মীদের অধিকাংশ মুকুটকে গ্রহণ করতে নারাজ। শান্তনুর সঙ্গে একান্ত বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসার পরে ইতিমধ্যে রানাঘাটে বিজেপির একাংশ সমাজমাধ্যমে মুকুটমণি বিরুদ্ধে পোস্ট করতে শুরু করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কঠিন সময়ে দল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তাঁকে কেন দলে ফেরানো হবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন কর্মীরা। ভোটে বিজেপির টিকিটের জন্য তাঁর নাম বিবেচনার বিরুদ্ধেও সওয়াল করছেন কর্মীদের একাংশ। বিজেপির একাংশ বলছে মুকুটের দলে ফেরা অসম্ভব না হলেও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাওয়া কঠিন।

Mukut Mani Adhikari Shantanu Thakur BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy