Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

রাজ্যসভা-বিধানসভায় ধনখড়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে তৃণমূল, স্পিকারকে কড়া চিঠি রাজ্যপালের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও এ দিন বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল বিধায়করা। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে স্লোগান তুললেন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে। আর রাজভবনের তরফে ফ

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৯:০৫
Save
Something isn't right! Please refresh.
তৃণমূল বিধায়করা গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে স্লোগান তুললেন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে। নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূল বিধায়করা গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে স্লোগান তুললেন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে। নিজস্ব চিত্র।

Popup Close

নবান্ন-রাজভবন সংঘাতে এ বার উত্তপ্ত হল বিধানসভা থেকে রাজ্যসভা পর্যন্ত। রাজ্যপাল বিল আটকে রাখায় বন্ধ হয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার কাজ— এই ইস্যুতে রাজ্যসভায় মঙ্গলবার তুমুল হই-হট্টগোল করলেন তৃণমূল সাংসদরা। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের অপসারনের দাবি তুলে কক্ষ ছেড়ে বেরিয়েও গেলেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও এ দিন বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল বিধায়করা। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে স্লোগান তুললেন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে। আর রাজভবনের তরফে ফের জানানো হল, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতাতেই আটকে রয়েছে বিল।

যে সব বিলের সঙ্গে আর্থিক বিষয় জড়িত, সেই বিল বিধানসভায় পেশ করার আগে রাজ্যপালের অনুমোদন নিতে হয়। এমন বেশ কয়েকটি বিল রাজ্যপাল আটকে রেখেছেন বলে জানিয়ে বিধানসভার অধিবেশন দু’দিনের জন্য স্থগিত করে দিয়েছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে রাজভবনের সঙ্গে সরকার পক্ষের তুমুল চাপানউতোর চলে। বিলগুলি সম্পর্কে যে ব্যাখ্যা রাজ্যপাল চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির কাছ থেকে, সেই ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না বলেই বিলগুলো আটকে রয়েছে বলে রাজভবনের তরফে জানানো হয়। কিন্তু তাতেও শেষ হল না সংঘাত।

মঙ্গলবার জিরো আওয়ার শুরু হওয়ার ঠিক আগে রাজ্যসভায় বিষয়টি তোলেন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। তবে রাজভবনে আটকে থাকা একাধিক বিলের কথা নয়, মূলত তফসিলি জাতি-জনজাতি কমিশন বিলের কথাই তুলে ধরেন তিনি। এই বিল রাজভবনে আটকে রয়েছে বলে যে স্পিকার দু’দিনের জন্য বিধানসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দিয়েছিলেন, তা-ও রাজ্যসভায় উল্লেখ করেন শান্তনু। তার পরেই তৃণমূলের সাংসদরা সবাই মিলে হই-হট্টগোল শুরু করেন এবং কিছুক্ষণ পরে সভা থেকে ওয়াকআউট করেন।

Advertisement

বাইরে বেরিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘‘তফসিলি জাতি-জনজাতি কমিশন বিলটাকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আটকে রেখেছেন। এটা তফসিলি জাতি-জনজাতির অপমান, এটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অপমান, এটা সংবিধানের অপমান।’’ অবিলম্বে জগদীপ ধনখড়কে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফিরিয়ে নিতে হবে, এই দাবিও তোলেন ডেরেক। এর পরে সংসদ চত্বরে মিছিল করেন তৃণমূল সাংসদরা। ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুখেন্দুশেখর রায়, শান্তনু সেন, দোলা সেন, শান্তা ছেত্রী, নাদিমুল হক, মানস ভুঁইয়া, মণীশ গুপ্তরা ছিলেন সে মিছিলে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালকে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতেই স্লোগান তোলা হয় সে মিছিলে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও পরিস্থিতি ছিল যথেষ্ট উত্তপ্ত। বিধানসভা চত্বরে অম্বেডকরের মূর্তির সামনে জড়ো হয়ে এ দিন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল বিধায়করা। বেশ কয়েকজন মন্ত্রীও সে বিক্ষোভে শামিল হন। কেন তফসিলি জাতি-জনজাতি বিল আটকে রেখেছেন রাজ্যপাল, সেই প্রশ্নই তোলা হয় তৃণমূলের তরফে।

রাজভবনও অবশ্য থেমে থাকেনি। কয়েকটি বিলের বিষয়ে রাজ্যপাল যে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, সেগুলি সরকারের তরফে দেওয়া হয়নি বলেই যে বিল আটকে রয়েছে, সে কথা রাজভবনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল। এ দিন বিধানসভায় এবং রাজ্যসভায় তৃণমূলের বিক্ষোভের খবরের প্রেক্ষিতে ফের রাজ্যপাল সক্রিয় হন। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লেখেন তিনি। রাজ্যপালের কারণেই বিল আটকে রয়েছে— এমন একটা ধারণা তৈরি করা হচ্ছে এবং তা ঠিক নয়— এই রকম বার্তা দেওয়া হয় সে চিঠিতে। ঠিক কী কারণে বিলটি আটকে রয়েছে তা স্পিকার জানেন এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা যেন বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নেয়— চিঠিতে এমনই লিখেছেন রাজ্যপাল।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement