E-Paper

‘হিংসা’র তথ্য সংগ্রহে তৃণমূল, অভিযোগ ওড়াচ্ছে বিজেপি

তৃণমূলের অভিযোগ, ‘তিন হাজারের বেশি কর্মী আক্রান্ত। ১০ জন খুন হয়েছেন। পুলিশ কত দিন নীরব দর্শক হয়ে থাকবে?’

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০৮:০৩

—প্রতীকী চিত্র।

ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে সওয়াল করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার তাঁরই নির্দেশে দলের ‘আক্রান্ত’দের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ঘুরল তৃণমূল কংগ্রেসের তথ্যানুসন্ধানী দল। প্রতি ক্ষেত্রেই বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে শাসক দল। দলের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়ে নাম না-করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা নিশানা করেছে বিজেপি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি, মন্দিরবাজার, রায়দিঘিতে তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুস্মিতা দেব, সাজদা আহমেদ, বাপি হালদার প্রমুখ, হুগলির গোঘাট ও পুরশুড়ায় সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম, প্রাক্তন মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা, শীর্ষণ্য মুখোপাধ্যায়, অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর নাসরীন প্রমুখ গিয়েছিলেন। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না, তমলুক, হলদিয়ায় গিয়েছিলেন সাংসদ দোলা সেন, মহম্মদ নাদিমুল হক, শর্মিলা সরকার প্রমুখ।

তৃণমূলের অভিযোগ, ‘তিন হাজারের বেশি কর্মী আক্রান্ত। ১০ জন খুন হয়েছেন। পুলিশ কত দিন নীরব দর্শক হয়ে থাকবে?’ রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার পাল্টা বলেছেন, “তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। যিনি বলেছিলেন, ভোটের ফলপ্রকাশের পরে বেলা ১২টার পরে ডিজে বাজাবেন, তিনি বাড়িতে বসে না-থেকে জেলায় জেলায় ঘুরুন। সন্ত্রাস যে দলের সঙ্গেই হোক, বিজেপি সমর্থন করে না। সবাই বাড়ি ফিরবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া শর্ত মনে রাখতে হবে। উনি বলেছেন, কারও নাম যদি ২০২১-এর ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের মামলায় থাকে, তাঁকে সরাসরি জেলে যেতে হবে।”

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয় ঘুরে দেখার পাশাপাশি ‘আক্রান্ত’দের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন নেতৃত্ব। সাংসদ সুস্মিতা বলেছেন, “আইনি পথেই আমরা জবাব দেব।” হুগলিতে তৃণমূলের তথ্যানুসন্ধানী দলের সঙ্গে দুই বিধানসভার পরাজিত প্রার্থীরা ছাড়া ব্লক স্তরের কোনও নেতাকে দেখা যায়নি। কিছু দিন আগে গোঘাটে সহদেব বাগ নামে এক তৃণমূল নেতার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। বিজেপি তাঁকে খুন করে বলে অভিযোগ করেছিল তৃণমূল। সহদেবের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে তৃণমূলের তথ্যানুসন্ধানী দল। সাংসদ প্রতিমার বক্তব্য, “অনেকে ঘরছাড়া। হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গোঘাটে সহদেবের পরিবারকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” অভিযোগ, তৃণমূলের তথ্যানুসন্ধানী দল ঘুরে দেখার সময়েই আরামবাগের এক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বাড়িতে বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর চালিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে গণনা এবং বিজেপির ‘সন্ত্রাস’ সংক্রান্ত তথ্য জেনেছেন সাংসদ দোলা-সহ অন্যরা।

সাংসদ দোলার বক্তব্য, “প্রতিটি অঞ্চলে যাঁরা ঘরছাড়া, আক্রান্ত, তাঁদের তালিকা নেত্রীর কাছে আমরা দেব। সেই তালিকা দলের তরফে হাই কোর্টে দেওয়া হবে। আর ভোট-গণনায় ইভিএম-এ কারচুপি হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারেরা অভিযোগ নেননি।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy