স্নাতকে ভর্তির উৎসাহ এ বারও ততটা আশানুরূপ বলা যাচ্ছে না এ রাজ্যে। তবু গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে অন্তত এ বার ছবিটা কিছুটাইতিবাচক বলাই যায়। গত ১৯ মে থেকে শুরু হয়েছে ভর্তির জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া। অভিন্ন ভর্তি পোর্টালে ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬০টি কলেজে আবেদন পর্ব চলছে। মোট তিন লক্ষ ৮২ হাজারটি আবেদন জমা পড়েছে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। এর মধ্যে দু’লক্ষ ৩০ হাজার আবেদন ছাত্রীদের তরফে। আগামী সোমবার, ১ জুন পর্যন্ত আবেদনচলার কথা। ৬ জুলাইয়ের মধ্যে স্নাতকে ক্লাস শুরু করতে বলেছে রাজ্য সরকার।
দেখা যাচ্ছে, গত বার শেষ পর্যন্ত মোট তিন লক্ষ ন’হাজার ৬৬৭টি আবেদন জমা পড়েছিল। ভর্তি হন তাঁদের মধ্যে সাকুল্যে দু’লক্ষ ৩২ হাজার জন আবেদনকারী। স্নাতকে ভর্তির মোট আসন সাড়ে ন’হাজার। যা দেখা যাচ্ছে, এ বারও ভর্তির আবেদন মোট আসন সংখ্যার তুলনায় অনেক কম হলেও আবেদনের সংখ্যা ইতিমধ্যে গত বারেরপরিসংখ্যানকে অনেকটাই ছাপিয়ে গিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পোর্টাল থেকে অবশ্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানকে বাদ রাখা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর আবেদনকারীদের মধ্যে এসসি বা তফসিলি শ্রেণিভুক্তদের মধ্যে ৯০ হাজার, এসটি বা জনজাতিদের মধ্যে দশ হাজার এবং ওবিসিদের মধ্যে ৪০ হাজার মতো আবেদনকারী রয়েছেন। পূর্বতন সরকারের ওবিসি নীতি ঝেড়ে ফেলে আজকের বিজেপি সরকার ২০১০-এর ওবিসি সংরক্ষণ বিন্যাস মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওবিসি সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নেমেছে।
হঠাৎ কী কারণে এ বার বাড়ল স্নাতকে ভর্তির আবেদনের প্রবণতা?
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পালাবদলের পরে রাজ্যের শিক্ষা-নীতির পরিবর্তনের কিছু আভাস এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। উচ্চ শিক্ষার নানা কেন্দ্রীয় প্রকল্পে এ বার রাজ্য সরকার শরিক হতে পারে। নানা ধরনের রাজনৈতিক টানাপড়েনে পূর্বতন রাজ্য সরকার এই বিষয়গুলিতে তেমন উৎসাহী ছিল না। এখন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কিছু ঋণের সুযোগ খুলতে পারে। সেই সঙ্গে রাজ্যের শাসকদল বিজেপি তাদের সঙ্কল্পপত্রে উচ্চ মাধ্যমিকপাশ করলে মেয়েদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘোষণা করেছে। আর যে কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসলে শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুদানের কথাও বলা হয়েছে। এ-ও ভর্তির উৎসাহের কারণ হতে পারে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদনের চাহিদায় আশুতোষ কলেজ, সুরেন্দ্রনাথ,মালদহের গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলানা আজাদ কলেজ, গোয়েন্কা কলেজ, আচার্য জগদীশ বসু কলেজ ইত্যাদি এগিয়ে। বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, এডুকেশন, প্রাণিবিজ্ঞান, হিসাবশাস্ত্র, উদ্ভিদবিজ্ঞানের মতো বিষয়ের চাহিদা অপেক্ষাকৃত বেশি। বিহার, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি, ওড়িশা, আন্দামান, পঞ্জাব, হরিয়ানা, সিকিম, ত্রিপুরা, অসম থেকেও আবেদন জমা পড়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)